দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মে দিবসে সরকারি কর্মচারীদের মহাসমাবেশের ডাক
পবিত্র মে দিবস তথা জাতীয় শ্রমিক দিবস উপলক্ষে নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নামছেন সরকারি কর্মচারীরা। আগামী ১লা মে ২০২৬, বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এক বিশাল র্যালি ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘কর্মচারী সমাবেশ’-এর ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’।
আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট
২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল প্রদানের পর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ঐক্য পরিষদের নেতাদের মতে, বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে বর্তমান বেতন কাঠামো সংগতিহীন, যা সাধারণ কর্মচারীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সমাবেশের কর্মসূচি ও রুট
ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১লা মে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে র্যালি শুরু হবে। র্যালিটি শিক্ষা চত্বর হয়ে শাহবাগ মোড় অতিক্রম করবে এবং জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। পোস্টারে স্লোগান দেওয়া হয়েছে— “পে-স্কেলের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করুন!!”।
প্রধান দাবিগুলো হলো:
অবিলম্বে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ।
পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সন্তোষজনক মহার্ঘ ভাতা প্রদান।
২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে বাদ পড়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।
বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা পুনর্নির্ধারণ।
সংগঠনের প্রস্তুতি
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মচারীদের এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে মে দিবসের এই সমাবেশের পর আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও বিভিন্ন দফায় কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।


