Auto Fixation For Pensioners: পেনশনারদের পে-ফিক্সেশন কি অটো হবে? যা জানা যাচ্ছে
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকরের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের নতুন পেনশন নির্ধারণ নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পেনশনারদের নতুন পেনশন নির্ধারণের জন্য আলাদাভাবে পে-ফিক্সেশন করতে হবে কি না—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন মন্তব্যে কেউ বলছেন, পেনশনারদের অটো ফিক্সেশন হয়ে যাবে, আবার কেউ বলছেন পেনশনারদের ক্ষেত্রে নতুন করে পে-ফিক্সেশন প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, কেউ কেউ হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
পেনশনারদের কি নিজে পে-ফিক্সেশন করতে হবে?
প্রাপ্ত তথ্য ও আলোচনার ভিত্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পেনশনারদের ক্ষেত্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো নিজে গিয়ে অনলাইনে পে-ফিক্সেশন করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেলে মূল বেতন নির্ধারণের জন্য পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের বিষয়টি মূল বেতন থেকে পেনশন পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে তাদের ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্য পেনশন পুনর্নির্ধারণ করার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
অর্থাৎ, পেনশনারকে আলাদাভাবে অফিসে গিয়ে পে-ফিক্সেশন করানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
‘অটো ফিক্সেশন’ বলতে কী বোঝায়?
এখানে ‘অটো ফিক্সেশন’ বলতে মূলত বোঝানো হচ্ছে, পেনশনারের বিদ্যমান পেনশন সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য পেনশন নির্ধারণ করা।
তবে ‘অটো’ শব্দটির অর্থ এই নয় যে কোনো কর্মকর্তা কোনো যাচাই ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা দিয়ে দেবেন। পেনশন সংক্রান্ত তথ্য, অবসরকালীন মূল বেতন, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, প্রযোজ্য বিধান এবং নতুন বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন পেনশন নির্ধারণ হবে।
হিসাবরক্ষণ অফিসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় একটি বিষয় বারবার এসেছে—পেনশনারদের হিসাব সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস থেকেই সম্পন্ন হবে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পেনশন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু নতুন বেতন স্কেলের হার জানলেই হয় না। সংশ্লিষ্ট পেনশনারের পূর্বের পেনশন নির্ধারণ, অবসরকালীন মূল বেতন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করতে হয়।
তাই পেনশনারদের ক্ষেত্রে যদি কোনো সংশোধন বা তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়, সেটি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়ার কথা।
‘হাদিয়া’ দেওয়ার প্রশ্নে সতর্কতা
আলোচনায় ‘হাদিয়া’ দেওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন—সরকারি পেনশন বা পেনশন পুনর্নির্ধারণের জন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা, উপহার বা ‘হাদিয়া’ দেওয়ার কোনো বৈধতা নেই।
কেউ যদি পেনশন ফিক্সেশন বা নতুন পেনশন অনুমোদনের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন, তাহলে তা সরকারি নিয়মের অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা যথাযথ অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি জানানো যেতে পারে।
পেনশনারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত মন্তব্যগুলোকে সরকারি চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। পেনশনারদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
তবে আলোচনায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে তা হলো—পেনশনারদের কর্মরত চাকরিজীবীদের মতো নিজেরা পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রয়োজন নেই; তাদের পেনশন পুনর্নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
তাহলে সংক্ষেপে উত্তর কী?
পেনশনারদের ক্ষেত্রে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মতো আলাদা করে পে-ফিক্সেশন করার প্রয়োজন নেই—এমন ব্যবস্থাই প্রযোজ্য বলে বর্তমানে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস পেনশন সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন পেনশন নির্ধারণ করবে। তবে ‘অটো ফিক্সেশন’ কীভাবে এবং কখন কার্যকর হবে, সেটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত হবে।
তাই পেনশনারদের অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কোনো ধরনের ‘হাদিয়া’ দেওয়ার প্রশ্নও নেই। সরকারি প্রক্রিয়াতেই পেনশন পুনর্নির্ধারণ ও পরিশোধ হওয়ার কথা।



