আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

১ জুলাই ২০২৬ থেকে বেতন নির্ধারণে বড় পরিবর্তন: ৪৪,৯০০ টাকা থেকে পদোন্নতিতে ৪৬,২০০, উচ্চতর গ্রেডে আরও বাড়তে পারে মূল বেতন

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণে একাধিক ধাপে হিসাব করার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে কোনো কর্মচারীর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ মূল বেতন যদি ৪৪,৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়, পরবর্তী পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সময় তার মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে—এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আপলোড করা বেতন নির্ধারণের নথিতে ২০১৫ সালের স্কেলে ৩০,২৩০ টাকা মূল বেতন থেকে নতুন স্কেলে প্রথমে ৪২,৮০০ টাকা নির্ধারণ এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি যোগ করে ৪৪,৯০০ টাকা করার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৬-এ ৪৪,৯০০ টাকা কীভাবে হবে

নথির উদাহরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ছিল ৩০,২৩০ টাকা। নতুন স্কেলে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ১২,৫০০ টাকা এবং নতুন অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ২৫,০০০ টাকা ধরে পার্থক্য নির্ণয় করা হয়েছে।

হিসাবটি হলো—

৩০,২৩০ − ১২,৫০০ = ১৭,৭৩০ টাকা

এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ২৫,০০০ টাকার সঙ্গে ১৭,৭৩০ টাকা যোগ করলে পাওয়া যায় ৪২,৭৩০ টাকা। যেহেতু ৪২,৭৩০ টাকার সমান কোনো ধাপ নেই, পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ৪২,৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি যোগ হয়ে মূল বেতন দাঁড়ায় ৪৪,৯০০ টাকা।

অর্থাৎ, এখানে ৪২,৮০০ → ৪৪,৯০০ টাকা হচ্ছে বেতন নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


৯ম গ্রেডে পদোন্নতি হলে ৪৬,২০০ টাকার বিষয়টি কীভাবে আসছে

আপনার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬-এ বেতনবৃদ্ধিসহ মূল বেতন ৪৪,৯০০ টাকা নির্ধারিত হওয়ার পর কোনো কর্মচারী যদি ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি পান, পদোন্নতি-ফিক্সেশনের সময় বর্তমান মূল বেতনের চেয়ে পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

আপনার উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী—

বর্তমান মূল বেতন: ৪৪,৯০০ টাকা
পরবর্তী ধাপ: ৪৬,২০০ টাকা

ফলে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিক্সেশনের পর মূল বেতন ৪৬,২০০ টাকা হতে পারে—এমন একটি হিসাব সামনে এসেছে।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপলোড করা নথিতে নতুন স্কেলের ধাপগুলোর তালিকায় ৪৪,৯০০ টাকার পর ৪৭,২০০ টাকা দেখা যাচ্ছে; সেখানে ৪৬,২০০ টাকার কোনো ধাপ দেখানো হয়নি। নথিতে নতুন স্কেলের ধাপগুলো হলো ২৫,০০০, ২৬,৩০০, ২৭,৬০০, ২৯,০০০, ৩০,৪০০, ৩২,০০০, ৩৩,৬০০, ৩৫,২০০, ৩৭,০০০, ৩৮,৮০০, ৪০,৮০০, ৪২,৮০০, ৪৪,৯০০, ৪৭,২০০, ৪৯,৫০০ ইত্যাদি।

তাই ৪৬,২০০ টাকার ফিক্সেশনকে চূড়ান্ত সরকারি ধাপ হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি-ফিক্সেশনের বিধান ও iBAS++-এর প্রয়োগ পদ্ধতি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।


উচ্চতর গ্রেড পেলে ৪৭,২০০ টাকা—এখানে হিসাবটি আরও গুরুত্বপূর্ণ

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর নিম্নপদে নতুন বেতন নির্ধারণের পর মূল বেতন যদি ৪৪,৯০০ টাকা হয় এবং এরপর তিনি উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পান, তাহলে ফিক্সেশনের মাধ্যমে মূল বেতন ৪৭,২০০ টাকা হতে পারে।

এই সংখ্যাটি আপলোড করা নথির নতুন বেতনস্কেলের ধাপের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। নথিতে ৪৪,৯০০ টাকার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ৪৭,২০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে নিয়মিত বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি প্রাপ্য হলে মূল বেতন ৪৭,২০০ টাকা হবে।

অর্থাৎ, ৪৪,৯০০ → ৪৭,২০০ টাকা একটি নথিভুক্ত স্কেল-ধাপ।


এরপর ৯ম গ্রেডে পদোন্নতিতে ৪৮,৬০০ টাকা—কীভাবে বুঝতে হবে

আপনার দেওয়া ধারাবাহিক হিসাবটি হলো—

প্রথম ধাপ:
১ জুলাই ২০২৬ → ৪৪,৯০০ টাকা

দ্বিতীয় ধাপ:
উচ্চতর গ্রেড → ৪৭,২০০ টাকা

তৃতীয় ধাপ:
এরপর ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি ফিক্সেশন → ৪৮,৬০০ টাকা

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। আপলোড করা নথিতে ৪৮,৬০০ টাকাকে কোনো নির্দিষ্ট ৯ম গ্রেড পদোন্নতি-ফিক্সেশনের ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং নথিতে নতুন স্কেলের ধাপ হিসেবে ৪৭,২০০ টাকার পর ৪৯,৫০০ টাকা রয়েছে।

তাই ৪৮,৬০০ টাকাকে বর্তমানে একটি প্রস্তাবিত/হিসাবভিত্তিক ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করা নিরাপদ; সরকারি চূড়ান্ত ফিক্সেশন বিধান বা iBAS++ ফিক্সেশন অ্যালগরিদমে এটি কীভাবে প্রয়োগ হবে, সেটি আলাদা বিষয়।


৪০%-৩০%-৩০% বাস্তবায়নের হিসাব

আপনার দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, নতুন বেতন সুবিধা তিন ধাপে কার্যকর হলে ৪০%, ৩০% ও ৩০% হিসেবে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

তবে আপলোড করা নথির ১০ম–২০তম গ্রেডের উদাহরণে তিনটি পর্যায়ের হিসাব ৪০%-৩০%-৩০% হিসেবে দেওয়া হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে—

  • ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: বর্তমান বেতন + বৃদ্ধির ৫০%
  • ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭: বর্তমান বেতন + বৃদ্ধির ৭৫%
  • ১ জুলাই ২০২৭ থেকে: ১০০% কার্যকর।

অর্থাৎ নথিটির উদাহরণ অনুযায়ী মোট বৃদ্ধির ওপর কার্যকর অংশ দাঁড়াচ্ছে প্রথম পর্যায়ে ৫০%, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২৫% এবং তৃতীয় পর্যায়ে অবশিষ্ট ২৫%।

সুতরাং ৪০%-৩০%-৩০% বাস্তবায়নের তথ্যটি আপলোড করা নথি দ্বারা নিশ্চিত নয়। এটি যদি অন্য কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত, সংশোধনী বা আলাদা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা থেকে আসে, তাহলে সেটি পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


৪৪,৯০০ টাকার ক্ষেত্রে পর্যায়ভিত্তিক হিসাব

নথির উদাহরণে ৩০,২৩০ টাকা থেকে পূর্ণ বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন ৪৪,৯০০ টাকা হলে মোট পার্থক্য—

৪৪,৯০০ − ৩০,২৩০ = ১৪,৬৭০ টাকা।

নথির পর্যায়ভিত্তিক হিসাবে প্রথম পর্যায়ে মাসিক মূল বেতন দেখানো হয়েছে ৩৭,৫৬৫ টাকা, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪১,২৩৩ টাকা, এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ বেতন ৪৪,৯০০ টাকা।

এ কারণে নতুন স্কেলের সুবিধা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু চূড়ান্ত মূল বেতন দেখলে হবে না; কোন তারিখে কত শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে, সেই অনুযায়ী মাসিক বেতন ও বকেয়া আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।


বকেয়া নিয়েও থাকছে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব

নথিতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্য বেতন বকেয়া হিসেবে হিসাব হবে এবং ওই সময়ে আহরিত বিশেষ সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। উদাহরণে প্রথম পর্যায়ে মাসিক মূল বেতন ৩৭,৫৬৫ টাকা থেকে পূর্বে আহরিত ৩০,২৩০ টাকা এবং বিশেষ সুবিধা ৪,৫৩৫ টাকা বাদ দিয়ে মাসিক নিট বকেয়া ২,৮০০ টাকা দেখানো হয়েছে। তিন মাসের উদাহরণে সম্ভাব্য নিট বকেয়া ৮,৪০০ টাকা।

অর্থাৎ, বেতন পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি কর্মচারীদের জন্য জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বকেয়া হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি—তিনটি বিষয় আলাদা

নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করলে—

১. নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ
বর্তমান মূল বেতন থেকে নতুন স্কেলের সমতুল্য ধাপে বেতন নির্ধারণ।

২. বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি
নথির উদাহরণে ৪২,৮০০ টাকা নির্ধারণের পর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি দিয়ে ৪৪,৯০০ টাকা করা হয়েছে।

৩. পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড
পরবর্তীতে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নতুন করে ফিক্সেশন করতে হবে। এখানে শুধু বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে ইচ্ছামতো একটি অঙ্ক যোগ করলেই চূড়ান্ত বেতন নির্ধারিত হবে না।

নথিতেও ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত, প্রেষণ, পদোন্নতি ও অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে।


শেষ কথা

সব হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করলে ৪৪,৯০০ টাকা নতুন বেতন নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে সামনে আসে। এরপর উচ্চতর গ্রেড বা পদোন্নতি হলে নতুন করে ফিক্সেশন করতে হবে। আপনার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য ধারাবাহিকতা হলো—

১ জুলাই ২০২৬: ৪৪,৯০০ টাকা
↓
উচ্চতর গ্রেড: ৪৭,২০০ টাকা
↓
৯ম গ্রেডে পদোন্নতি ফিক্সেশন: ৪৮,৬০০ টাকা

তবে এর মধ্যে ৪৪,৯০০ ও ৪৭,২০০ টাকা আপলোড করা নথির সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু ৪৬,২০০ ও ৪৮,৬০০ টাকার পদোন্নতি-ফিক্সেশন ফল এবং ৪০%-৩০%-৩০% বাস্তবায়ন কাঠামো এই নথিতে সরাসরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এসব অঙ্ককে চূড়ান্ত সরকারি ফিক্সেশন হিসেবে প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেডের বিধান এবং iBAS++-এর চূড়ান্ত হিসাব অনুসরণ করা জরুরি। নথিতেও চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ iBAS++-এর Pay Fixation অপশনের মাধ্যমে করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *