৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

Pay Scale Gadget 2026 । সম্পূর্ণ গেজেটের বিস্তারিত সামারি ও বিশ্লেষণ জেনে নিন

গেজেট প্রকাশের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কার্যকারিতার তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬ আদেশের নাম: চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ জারিকারী কর্তৃপক্ষ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ

১৯ পৃষ্ঠার গেজেটের মূল বিধান, বেতন কাঠামো, বাস্তবায়নের সময়সূচি, বেতন নির্ধারণ, পেনশন, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, বিভিন্ন ভাতা, বিশেষ সুবিধা এবং অনলাইনে পে-ফিক্সেশনের প্রক্রিয়া বিষয়ভিত্তিকভাবে নিচে উপস্থাপন করা হলো।

এটি গেজেটের ব্যাখ্যামূলক সামারি, হুবহু প্রতিলিপি নয়। বিশেষ করে কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গেজেটের সংশ্লিষ্ট ধারা, বেতনসারণি ও প্রযোজ্য প্রশাসনিক আদেশ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

১. জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর মূল বিষয়

নতুন বেতন স্কেলে শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এর পাশাপাশি বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, পেনশন বৃদ্ধি, বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর বিশেষ সুবিধা, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির শর্ত এবং ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।

গেজেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন

২০,০০০ টাকা

সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন

১৫৬,০০০ টাকা

বাস্তবায়ন শুরু

১ জুলাই ২০২৬

ভাতা কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ

১ জানুয়ারি ২০২৮

মূল বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন বৃদ্ধির অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের বিধান রয়েছে। সব সুবিধা একই তারিখ থেকে কার্যকর নয়।

২. নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি

গেজেটের প্রথম তিন পৃষ্ঠায় বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির অর্থ পর্যায়ক্রমে প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সময়কাল

বাস্তবায়নের বিষয়

১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬

৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০%

১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬

১০ম–২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৫০%

১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭

৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের নির্ধারিত পার্থক্যের ৭০%

১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭

১০ম–২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নির্ধারিত পার্থক্যের ৭৫%

১ জুলাই ২০২৭ থেকে

নির্ধারিত মূল বেতনের পূর্ণ সুবিধা এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট

১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে

গেজেটে নির্ধারিত নতুন হারে ভাতাদি

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেতন স্কেলের কার্যকারিতার তারিখ এবং সম্পূর্ণ বর্ধিত অর্থ পাওয়ার তারিখ এক নয়।

কোনো কর্মচারীর নতুন স্কেলে মূল বেতন নির্ধারিত হলেও তিনি প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের একটি অংশ পাবেন। পরবর্তী পর্যায়ে সেই অংশ বৃদ্ধি পাবে এবং নির্ধারিত সময় থেকে পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হবে।

৩. বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত ও আওতাবহির্ভূত কর্মচারী

গেজেটের বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই আদেশ প্রযোজ্য।

আওতাভুক্তদের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারী এবং গেজেটে উল্লিখিত বিভিন্ন বাহিনী, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মচারী।

অন্যদিকে, কয়েকটি শ্রেণির কর্মচারীকে সাধারণ প্রয়োগের বাইরে রাখা হয়েছে। যেমন:

  • পৃথক আইন বা বিশেষ বিধানের আওতায় নির্ধারিত কিছু শ্রেণির কর্মচারী।

  • শিক্ষানবিশ বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নির্দিষ্ট শর্তে নিযুক্ত ব্যক্তি।

  • দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত সাময়িক শ্রমিক।

  • চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তি।

তবে শুধু নিয়োগের ধরন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আদেশ, চাকরির শর্ত এবং গেজেটের প্রযোজ্যতা-সংক্রান্ত বিধান পরীক্ষা করতে হবে।

৪. জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: গ্রেড ও বেতন কাঠামো

গেজেটের ৪ থেকে ৭ নম্বর পৃষ্ঠায় পুরোনো ও নতুন বেতন স্কেলের তুলনামূলক সারণি রয়েছে। এতে ২০টি গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি বেতনধাপ উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

গেজেটের বেতনসারণিতে প্রতিটি গ্রেডের একাধিক ধাপ রয়েছে। ফলে একই গ্রেডে কর্মরত দুই কর্মচারীর মূল বেতন এক নাও হতে পারে। চাকরির মেয়াদ, পূর্ববর্তী বেতনধাপ, ইনক্রিমেন্ট এবং প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণের বিধানের কারণে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

৫. নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন

গেজেটের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে কর্মচারী পুরোনো স্কেলে কোন গ্রেডে ছিলেন এবং তাঁর প্রাপ্ত মূল বেতন কত ছিল।

এরপর নতুন স্কেলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের বেতনসারণি অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

বেতন নির্ধারণের সাধারণ নীতিমালা:

1. কর্মচারীর বর্তমান গ্রেডের সঙ্গে নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেড নির্ধারণ করতে হবে।

2. পুরোনো স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতনের সমান বা তার পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপ বিবেচনা করতে হবে।

3. পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে সেই পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে।

4. গেজেটে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

5. হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

6. পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, প্রেষণ এবং অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতিতে গেজেটের পৃথক বিধান অনুসরণ করতে হবে।

গেজেটে দেওয়া বেতন নির্ধারণের উদাহরণ

একটি কর্মচারীর পুরোনো স্কেলে মূল বেতন ১৩,৭৯০ টাকা হলে:

বিবরণ

টাকা

পুরোনো স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন

১৩,৭৯০

পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ

১২,৫০০

পার্থক্য

১,২৯০

নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ

২৫,০০০

যোগফল

২৬,২৯০

নতুন স্কেলের পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপ

২৬,৩০০

নির্ধারিত মূল বেতন: ২৬,৩০০ টাকা

এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, পুরোনো মূল বেতনকে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ দিয়ে গুণ করলেই সবার নতুন মূল বেতন পাওয়া যাবে না। গেজেটে নির্ধারিত ধাপ অনুসরণ করা জরুরি।

বিশেষ পরিস্থিতিতে বেতন নির্ধারণ

গেজেটে কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতির জন্য পৃথক বিধান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারী, উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মচারী, প্রেষণে কর্মরত কর্মচারী, সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারী এবং অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারী।

এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকলে অথবা তাঁর চাকরির অবস্থা পরিবর্তিত হলে কীভাবে বেতন নির্ধারণ করতে হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।

বিশেষত, সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পুনর্বহাল এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

৬. উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির নতুন নিয়ম

গেজেটের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিধান রয়েছে।

একই পদে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট চাকরির মেয়াদ পূরণের ভিত্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সময়সীমা

প্রথম উচ্চতর গ্রেড

৮ বছর

দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড

৬ বছর

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর

যেসব স্থায়ী কর্মচারী একই পদে আট বছর পূর্ণ করেছেন কিন্তু দশ বছর পূর্ণ করেননি, তাঁরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধানের আওতায় আসবেন।

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছর সন্তোষজনক চাকরি সম্পন্ন করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধানও রয়েছে।

তবে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

  • আগে থেকেই এক বা একাধিক উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত রয়েছে।

  • একই পদে চাকরির মেয়াদ গণনার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

  • উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পদোন্নতি ও পূর্ববর্তী আর্থিক সুবিধা বিবেচনা করা হবে।

  • নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

  • কিছু কর্মচারীর জন্য বিশেষ বিধান প্রযোজ্য।

গেজেটে ব্লকড পদসহ কয়েকটি বিশেষ শ্রেণির পদের জন্যও পৃথক বিধান রয়েছে।

৭. পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অবসরকালীন সুবিধা

গেজেটের ৭ ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সুবিধা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।

পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান বহাল রাখার পাশাপাশি নতুন পেনশন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বৃদ্ধির হার

গেজেটের ১০ নম্বর পৃষ্ঠায় পেনশন বৃদ্ধির বিস্তারিত সারণি রয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন

বৃদ্ধির হার

সর্বনিম্ন–৯,০০০ টাকা

১০০%

৯,০০১–২০,০০০ টাকা

৭৫%

২০,০০১–৩০,০০০ টাকা

৬৫%

৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা

৬০%

৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব

৫৫%

একই সারণিতে পেনশনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিট পেনশনের সীমা

নতুন সর্বনিম্ন নিট পেনশন

নতুন সর্বোচ্চ নিট পেনশন

সর্বনিম্ন–৯,০০০

১০,০০০

১৮,০০০

৯,০০১–২০,০০০

১৮,০০১

৩৫,০০০

২০,০০১–৩০,০০০

৩৫,০০১

৪৯,০০০

৩০,০০১–৪০,০০০

৪৯,০০১

৬২,০০০

৪০,০০১ ও তদূর্ধ্ব

৬২,০০১

৭০,০০০

পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সারণিতে নির্ধারিত সীমা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান একসঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

পেনশন বৃদ্ধির সময়সূচি

পেনশন বৃদ্ধির অর্থও পর্যায়ক্রমে প্রদানের বিধান রয়েছে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত বৃদ্ধির ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে পরবর্তী পর্যায়ে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

১ জুলাই ২০২৭ থেকে নির্ধারিত পূর্ণ নিট পেনশন কার্যকর হবে।

গেজেটে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধানও রয়েছে।

অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারী

যাঁরা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসর-উত্তর ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী পেনশন নির্ধারণের বিশেষ বিধান রয়েছে।

তবে তাঁরা অবসর-উত্তর ছুটির সময় নতুন বেতন স্কেলের ভিত্তিতে বেতন পাবেন কি না এবং পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন বেতন বিবেচিত হবে, তা গেজেটের সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

অর্থাৎ, অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ কর্মরত কর্মচারীদের সব সুবিধা একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

৮. বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট

গেজেটের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখ হবে প্রতিবছরের ১ জুলাই।

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তাঁর প্রযোজ্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।

তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছয় মাস চাকরির শর্ত রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে বেতন নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে ইনক্রিমেন্ট প্রদানের জন্য পৃথক নির্দেশনা রয়েছে। ফলে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেতন নির্ধারণ এবং ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার বিষয় দুটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

৯. প্রথম নিয়োগে বেতন নির্ধারণ

গেজেটের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

সাধারণভাবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন পাবেন।

তবে বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের বিধান রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • এমবিবিএস ডিগ্রিধারী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসক।

  • নির্ধারিত প্রকৌশল ও স্থাপত্য ডিগ্রিধারী কর্মচারী।

  • বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন নির্দিষ্ট পেশার কর্মচারী।

  • বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী।

এসব সুবিধা সব নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর জন্য সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করতে হবে।

১০. পূর্ণ বেতন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ

গেজেটের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে পূর্ণ বেতন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন গ্রেডে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড

প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ

১ম

২০ বছর

২য়

১৭ বছর

৩য়

১৪ বছর

৪র্থ

১২ বছর

৫ম

১০ বছর

৬ষ্ঠ

৫ বছর

৭ম

৪ বছর

এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট উচ্চতর পদ বা গ্রেডে পূর্ণ বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা।

১১. ভাতাদি কার্যকর হওয়ার তারিখ

গেজেটের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত হারে ভাতাদি সাধারণভাবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে।

তবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাঁরা নির্দিষ্ট হারে ভাতা পেতেন, তাঁদের জন্য অন্তর্বর্তী সময়ের বিধান রয়েছে।

ফলে নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ভাতা নতুন হারে পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

১২. চিকিৎসা ভাতা

গেজেটের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতার হার

সুবিধাভোগীর বয়স

মাসিক চিকিৎসা ভাতা

৫০ বছর পর্যন্ত

৩,০০০ টাকা

৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত

৪,০০০ টাকা

৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত

৫,০০০ টাকা

৭০ বছরের ঊর্ধ্বে

৬,০০০ টাকা

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া গেজেটে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে।

১৩. বাংলা নববর্ষ ভাতা

গেজেটের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব কর্মচারী তাঁদের আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

মাসিক নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও মূল পেনশনের ভিত্তিতে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

১৪. বাড়িভাড়া ভাতা

গেজেটের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বাড়িভাড়া ভাতার বিধান রয়েছে।

সরকারি বাসস্থানে বসবাসকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ বাড়িভাড়া ভাতা প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, যাঁরা সরকারি বাসস্থানের সুবিধা পান না, তাঁরা নির্ধারিত শর্তে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

গেজেটের ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় বাড়িভাড়া ভাতার একটি নতুন সারণি দেওয়া হয়েছে।

নতুন বাড়িভাড়া ভাতার হার

মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে

গ্রেডের পরিসর

ঢাকা ও নির্ধারিত বড় শহর

অন্যান্য নির্ধারিত শহর

অন্যান্য স্থান

১৬–২০তম

৬০%

৫০%

৪৫%

১০–১৫তম

৫০%

৪০%

৩৫%

৫–৯ম

৪৫%

৩৫%

৩০%

১–৪র্থ

৪০%

৩০%

২৫%

বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে কর্মস্থল, সরকারি বাসস্থান পাওয়ার যোগ্যতা, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের চাকরি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবাসন সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই সরকারি বা গেজেটে উল্লেখিত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রয়েছে।

কোনো কর্মচারীর নিজের নামে অথবা নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যের নামে একাধিক বাড়ি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করতে হবে।

সরকারি আবাসনের পরিবর্তে নির্ধারিত ভাড়ায় বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও পৃথক বিধান প্রযোজ্য।

১৫. ভ্রমণ ভাতা

গেজেটের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে ভ্রমণ ভাতা সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে।

নতুন ভ্রমণ ভাতার পূর্ণাঙ্গ হার পৃথকভাবে নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগ পৃথক আদেশ জারি করে নতুন হার নির্ধারণ করতে পারবে।

১৬. উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা

গেজেটের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তবে ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীরা নির্ধারিত শর্তে তাঁদের নিট পেনশনের সমপরিমাণ হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন।

উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিধানও বিবেচনা করতে হবে।

১৭. শিক্ষা সহায়ক ভাতা

গেজেটের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে শিক্ষা সহায়ক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা সহায়ক ভাতা

প্রতি সন্তানের জন্য

৫০০ টাকা

মাসিক

সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য

১,০০০ টাকা

মাসিক

বয়সের সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য এই ভাতা প্রযোজ্য হবে।

স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই কর্মরত হলে একই সন্তানের জন্য দুজন পৃথকভাবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা পাবেন না।

১৮. টিফিন ভাতা

গেজেটের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন।

তবে যেসব কর্মচারী তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার অথবা সমপর্যায়ের খাবারের সুবিধা পান, তাঁরা এই ভাতা পাবেন না।

১৯. কার্যভার ভাতা

গেজেটের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে কার্যভার ভাতার বিধান রয়েছে।

নির্ধারিত প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা মাসিক ১,৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা পাবেন।

এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক বিধান ও যোগ্যতার শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

২০. যাতায়াত ভাতা

গেজেটের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত থাকলে মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাবেন।

তবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নীতিমালা পৃথকভাবে প্রযোজ্য হবে।

২১. মোবাইল ভাতা

গেজেটের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে মোবাইল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড

মাসিক মোবাইল ভাতা

৫ম ও তদূর্ধ্ব

৫০০ টাকা

৬ষ্ঠ–২০তম

১৫০ টাকা

২২. ধোলাই ভাতা

গেজেটের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেসব কর্মচারীর ক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা প্রযোজ্য, তাঁরা মাসিক ৩০০ টাকা ধোলাই ভাতা পাবেন।

এটি সব কর্মচারীর জন্য সাধারণ ভাতা নয়। সংশ্লিষ্ট পদ ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

২৩. আপ্যায়ন ভাতা

গেজেটের ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আপ্যায়ন ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ

মাসিক আপ্যায়ন ভাতা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

২,০০০ টাকা

সিনিয়র সচিব ও সচিব

১,০০০ টাকা

অতিরিক্ত সচিব

৯০০ টাকা

যুগ্মসচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তা

৬০০ টাকা

২৪. পাহাড়ি ভাতা

গেজেটের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পার্বত্য জেলাগুলোর নির্ধারিত এলাকায় কর্মরত কর্মচারীরা পাহাড়ি ভাতা পাবেন।

জেলা সদর ও সদর উপজেলায় কর্মরতদের ক্ষেত্রে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা এবং অন্যান্য উপজেলায় কর্মরতদের ক্ষেত্রে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা মাসিক পাহাড়ি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৫. হাওড়, দ্বীপ ও চর ভাতা

গেজেটের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতার বিধান রয়েছে।

নির্ধারিত এলাকার কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাতা পাবেন।

তবে কোন কোন এলাকা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

২৬. প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা

গেজেটের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে কর্মরত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মাসিক প্রেষণ ভাতা পাবেন।

২৭. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা

গেজেটের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত সন্তানের জন্য বিশেষ ভাতার বিধান রয়েছে।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত সন্তানের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে সর্বাধিক দুই সন্তানের জন্য এই ভাতা প্রযোজ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গেজেটে নির্ধারিত শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

২৮. ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য বিশেষ ভাতা

গেজেটের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বিভিন্ন পেশা ও কর্মক্ষেত্রের কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য বিশেষ ভাতা সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে।

এর আওতায় নির্ধারিত শর্তে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এসব ভাতার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ অনুসরণ করার বিধান রয়েছে।

তবে নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে এসব ভাতার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্নির্ধারিত হবে না। গেজেটের সংশ্লিষ্ট বিধান এবং প্রযোজ্য পৃথক আদেশ অনুসরণ করতে হবে।

২৯. নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের বিশেষ সুবিধা

গেজেটের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা, কর্তব্যপালন ভাতা এবং ঝুঁকি ভাতার বিধান রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন নির্দিষ্ট বিভাগ।

এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গেজেটে উল্লেখিত পৃথক সরকারি আদেশ অনুযায়ী সুবিধা নির্ধারণ করতে হবে।

৩০. আয়কর

গেজেটের ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আয়করের আওতাভুক্ত কর্মচারীরা তাঁদের বেতন থেকে প্রযোজ্য আয়কর নিজেরাই পরিশোধ করবেন।

অর্থাৎ, নতুন বেতন স্কেলে বেতন বৃদ্ধির ফলে কোনো কর্মচারীর আয়কর দায় সৃষ্টি হলে তা প্রযোজ্য আয়কর আইন ও বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

৩১. অনলাইনে বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন

গেজেটের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++-এর Pay Fixation ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিল করতে হবে।

প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপগুলো হলো:

1. iBAS++  ওয়েবসাইটের Pay Fixation ব্যবস্থায় প্রবেশ করা।

2. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে Pay Fixation  ওয়েবসাইট ব্যবহার করা।

3. নির্ধারিত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে লগইন করা।

4. জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা।

5. নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা।

6. প্রদর্শিত বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই করা।

7. সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে আবেদন দাখিল করা।

8. বেতন নির্ধারণী বিবরণী প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া।

9. হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদনের পর বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করা।

গেজেটে আরও উল্লেখ রয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং চাকরির রেকর্ডে অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদনের পর অনলাইনে বেতন নির্ধারণের তথ্য এবং ভেরিফিকেশন নম্বর সংরক্ষিত হবে।

কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁদের বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

৩২. পূর্ববর্তী আদেশ রহিতকরণ ও সংরক্ষণ

গেজেটের ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে পূর্ববর্তী চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করার বিধান রয়েছে।

তবে পূর্ববর্তী আদেশের অধীনে সম্পন্ন কার্যক্রম, জারিকৃত আদেশ এবং অর্জিত সুবিধার ক্ষেত্রে সংরক্ষণমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

এর অর্থ, পূর্ববর্তী আদেশ রহিত হলেও তার অধীনে সম্পন্ন সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। গেজেটের সংরক্ষণমূলক বিধান অনুযায়ী সেগুলোর বৈধতা নির্ধারিত হবে।

সামগ্রিক বিশ্লেষণ

এই গেজেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে।

প্রথমত, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পাশাপাশি বর্ধিত বেতনের অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বেতন নির্ধারণের তারিখ ও পূর্ণ বেতন পাওয়ার তারিখের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে আট বছর ও পরবর্তী ছয় বছরের বিধান সরকারি কর্মচারীদের চাকরিজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পূর্ববর্তী উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

তৃতীয়ত, পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার বিধান রয়েছে।

চতুর্থত, নতুন মূল বেতন এবং নতুন হারে ভাতাদি একই সময়ে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বর্ধিত বেতন হিসাব করার সময় এই পার্থক্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পঞ্চমত, নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা: এই সামারিতে গেজেটের প্রধান বিধান ও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে ২০টি গ্রেডের প্রতিটি বেতনধাপ, প্রত্যেকটি উপধারার পূর্ণ আইনগত ভাষা এবং পৃথক সরকারি আদেশগুলোর সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু এখানে পুনরুৎপাদন করা হয়নি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বেতন, পেনশন ও ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল গেজেটের সংশ্লিষ্ট সারণি ও বিধান অনুসরণ করতে হবে।

মূল নথি: pay scale gadget 2026.pdf

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *