৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

কিস্তিতে নয়, একযোগে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের

নতুন জাতীয় পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বা কিস্তিতে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেলের আশায় বুক বাঁধা চাকুরিজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের ‘৫০% ফর্মুলা’ কিংবা ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন’ তারা মেনে নেবেন না। অবিলম্বে একযোগে শতভাগ মূল বেতন (Basic Salary) কার্যকর করা না হলে সারাদেশে একযোগে “কঠিন আন্দোলনের” হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদী প্রচার শুরু হয়েছে। আন্দোলনের সপক্ষে প্রকাশিত একটি প্রচারপত্রে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

“১১ বছর অপেক্ষা কিস্তির জন্য করিনি”

প্রচারণায় কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে স্কেলের পর দীর্ঘ ১১ বছর তারা চরম বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের বাজারে তারা নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এমতাবস্থায়, “প্রথম বছরে ৫০% বেসিক, পরবর্তী বছরে বাকি ৫০% এবং তৃতীয় বছরে ভাতা”—এমন কিস্তিভিত্তিক বা আংশিক বাস্তবায়নের ফর্মুলা কর্মচারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

বিক্ষুব্ধ কর্মচারীদের দাবি—“৫০% পে স্কেল বা কিস্তিতে পে স্কেল পাওয়ার জন্য আমরা ১১ বছর অপেক্ষা করিনি।”

মূল দাবি: “শতভাগ বেসিক, এখনই!”

সরকারি চাকুরিজীবীদের বিভিন্ন ফোরাম ও সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে এখন একটিই স্লোগানকে সামনে আনা হচ্ছে: “আমাদের দাবী একটাই – শতভাগ বেসিক, এখনই!”

আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা জানান:

  • নতুন পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশে এমনিতেই অনেক বিলম্ব হয়েছে।

  • বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে আংশিক বেতন বৃদ্ধি কোনো কাজেই আসবে না।

  • আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেই এককালীন শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করতে হবে।

কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

কর্মচারী নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা বাজেট ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে যদি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিকে পাশ কাটানো হয়, তবে দেশের প্রতিটি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা একযোগে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সাধারণ কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে একযোগে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না এলে কর্মবিরতি, মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে ধাপে ধাপে সচিবালয় ঘেরাওসহ দেশ অচল করার মতো কঠোর ও রাজপথের কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এখন দেখার বিষয়, আসন্ন বাজেটে এবং সরকারের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তে কর্মচারীদের এই তীব্র অসন্তোষ ও একদফা দাবির কতটা প্রতিফলন ঘটে।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *