২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব: মাঠে আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের রাজত্ব, ইকুয়েডরের রক্ষণাত্মক প্রাচীর
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বাছাইপর্বের লড়াই। বিভিন্ন মহাদেশীয় অঞ্চলের দলগুলো মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও ম্যাচগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার আধিপত্য এবং ইউরোপীয় অঞ্চলে নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত ফর্ম ফুটবল বিশ্বে নতুন রোমাঞ্চ তৈরি করেছে।
লাতিন আমেরিকায় আলবিসেলেস্তেদের শ্রেষ্ঠত্ব, চমক ইকুয়েডরের
দক্ষিণ আমেরিকা (CONMEBOL) অঞ্চলের ১৮টি ম্যাচের দীর্ঘ ও কঠিন বাছাইপর্বের লড়াইয়ে বরাবরের মতোই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল ১৮ ম্যাচে ১২টি জয় এবং মাত্র ৪টি পরাজয়ে সর্বমোট ৩৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করেছে। পুরো বাছাইপর্বে ৩১টি গোল করে নিজেদের আক্রমণভাগের ধার প্রমাণ করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
তবে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ইকুয়েডর। রক্ষণভাগে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা প্রদর্শন করে তারা পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে (২৯ পয়েন্ট) থেকে সরাসরি মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে। পুরো বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ৫টি, যা এই অঞ্চলের যেকোনো দলের জন্য একটি অনন্য রেকর্ড। এছাড়া কলম্বিয়া, উরুগুয়ে এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যথাক্রমে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
ইউরোপীয় অঞ্চলে নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের শতভাগ সাফল্য
ইউরোপীয় অঞ্চলের (UEFA) গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে বেশ কিছু দল নিজেদের গ্রুপে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছে নরওয়ে। গ্রুপ ‘আই’-তে খেলে তারা এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়ে ২৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। এই ৮ ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে গোল উৎসব করে রেকর্ড ৩২টি গোল করেছে।
সমকক্ষ দাপট দেখিয়েছে ইংল্যান্ডও। থ্রি লায়ন্সরা তাদের ৮ ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে শতভাগ রেকর্ড ধরে রেখে গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষস্থান দখল করেছে। অন্যদিকে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন নিজ নিজ গ্রুপে অপরাজিত থেকে দাপটের সাথে এগিয়ে চলেছে। ফ্রান্স ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ এবং স্পেন সমান ম্যাচে ১৯ গোল করে গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে। জার্মানি ১৫ পয়েন্ট এবং নেদারল্যান্ডস ২০ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপে আধিপত্য বজায় রেখেছে।
বাছাইপর্বের শীর্ষ দলগুলোর পারফরম্যান্স এক নজরে
বাছাইপর্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষ দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| দেশের নাম | মহাদেশীয় অঞ্চল | ম্যাচ খেলেছে | অর্জিত পয়েন্ট | মূল হাইলাইট / অর্জন |
| আর্জেন্টিনা | দক্ষিণ আমেরিকা | ১৮ | ৩৮ | কনমেবল অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন ও সর্বোচ্চ ৩১ গোল |
| নরওয়ে | ইউরোপ | ৮ | ২৪ | ৮ ম্যাচের সবকটিতে জয় এবং সর্বোচ্চ ৩২ গোল |
| ইংল্যান্ড | ইউরোপ | ৮ | ২৪ | শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে গ্রুপ সেরা |
| ইকুয়েডর | দক্ষিণ আমেরিকা | 18 | ২৯ | রক্ষণভাগের শক্তিতে ১৮ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল হজম |
| ফ্রান্স | ইউরোপ | ৬ | ১৬ | অপরাজিত রান এবং গ্রুপ ডি-এর একক শীর্ষস্থান |
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বাছাইপর্বের এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা যদি দলগুলো মূল পর্বেও ধরে রাখতে পারে, তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনের মূল বিশ্বকাপটি ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর একটি টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে।



