৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো: বাজেট ঘোষণা

দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। আগামী ১ জুলাই ২০ Font৬ থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

বাজেট বক্তৃতায় মাননীয় স্পিকারকে সম্বোধন করে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তব কষ্ট লাঘব করতেই সরকার নতুন বেতন কাঠামো চালুর এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

৩ ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা

বাজেটের ওপর আকস্মিক অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারের সার্বিক মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে পুরো পে-স্কেল একবারে নয়, বরং তিনটি ধাপে (তিনটি অর্থবছরে) সম্পূর্ণ কার্যকর করা হবে।

  • প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬): আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে সংশোধিত মূল বেতনের (Basic Pay) ৫০ শতাংশ কার্যকর করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

  • পরবর্তী ধাপসমূহ: পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে বর্ধিত মূল বেতনের বাকি অংশ এবং চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতাগুলো ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে।

দক্ষ জনবল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

বাজেট বক্তৃতায় সরকারি চাকুরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে:

  • মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ: সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখন থেকে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তদবির বা অন্য কোনো প্রভাব নয়, বরং মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই হবে প্রধান এবং একমাত্র মাপকাঠি।

  • শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিতে কর্মসংস্থান: সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME), তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা: তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ ও মধ্যমেয়াদি নীতি-কৌশল

মাননীয় স্পিকারকে আশ্বস্ত করে বক্তৃতায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে আনতে একটি সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এবারের বাজেট প্রণয়নে সরকার কেবল সাময়িক বিষয় নয়, বরং মধ্যমেয়াদি নীতি-কৌশল নির্ধারণ করেছে। বাজেট-পূর্ববর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ এবারের বাজেটে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমানের নানা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক ও শক্তিশালী পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এবং দেশের তরুণ ও নারী সমাজের জন্য উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *