সর্বজনীন পেনশন স্কিম ২০২৬

বেসরকারি চাকরিজীবীদের বড় সুখবর: অবসরে জমার ৩০% এককালীন পাবেন, বাজেটে নতুন প্রস্তাব

দেশের বেসরকারি খাতের চাকরিজীবী ও অনানুষ্ঠানিক খাতের বিপুল শ্রমশক্তির ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই কর্মসূচির আওতাভুক্তদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও যুগান্তকারী সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের কর্মজীবন শেষে বা অবসর গ্রহণের সময় মোট জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ (30%) টাকা এককালীন ‘গ্র্যাচুইটি’ বা আনুতোষিক হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন। এই টাকা সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য হবে এবং এর ওপর কোনো কর বা ট্যাক্স দিতে হবে না।

কেন এই নতুন উদ্যোগ?

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অবসর গ্রহণের পর এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়ার কোনো সুযোগ এত দিন বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছিল না। ফলে সর্বজনীন পেনশনের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ আরও বাড়াতে এবং অবসরের পরপরই তাৎক্ষণিক বড় কোনো পারিবারিক বা সামাজিক প্রয়োজন (যেমন: বাড়ি নির্মাণ, চিকিৎসা বা সন্তানের বিয়ে) মেটাতে এই ‘এককালীন ৩০ শতাংশ অর্থ উত্তোলন’ সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র

২০২৬ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

  • নিবন্ধিত গ্রাহক: গত ৩০ মে পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশনের ৪টি প্যাকেজে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন

  • পেনশন ফান্ড ও বিনিয়োগ: এই তহবিলে মোট জমাকৃত আমানতের পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি টাকা (২.৬ বিলিয়ন টাকা)। এর মধ্যে তহবিল থেকে ইতিমধ্যে সফলভাবে ২৮৬ কোটি টাকা (২.৮৬ বিলিয়ন টাকা) সরকারি সিকিউরিটিজ ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

  • সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতের মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১.৪৪ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি) টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১.২৬ ট্রিলিয়ন টাকা।

প্যাকেজভিত্তিক সুবিধা ও কার জন্য কোন স্কিম?

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বর্তমানে প্রধানত ৪টি কর্মসূচি বা প্যাকেজ চালু রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত স্কিমটির নাম ‘প্রগতি’

স্কিমের নামকাদের জন্য প্রযোজ্যমূল সুবিধা
প্রগতিবেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ଓ কর্মচারীনিয়মিত বেতনের অংশ জমিয়ে আজীবন মাসিক পেনশন এবং নতুন প্রস্তাবনায় ৩০% এককালীন সুবিধা।
সুরক্ষারিকশাচালক, কৃষক, কামার, কুমারসহ স্বকর্মে নিয়োজিত নাগরিকঅনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বৃদ্ধ বয়সের নিরাপত্তা।
সমতাস্বল্প আয়ের ও অতিদরিদ্র মানুষগ্রাহক মাসে ৫০০ টাকা দিলে সরকার সমপরিমাণ (৫০০ টাকা) ভর্তুকি দেয়।
প্রবাসপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকবৈদেশিক মুদ্রায় চাঁদা দিয়ে অবসরের পর নিশ্চিত আয়ের সুযোগ।

বিশেষ সুবিধা: নতুন এককালীন গ্র্যাচুইটি সুবিধার পাশাপাশি গ্রাহকরা জরুরি প্রয়োজনে মোট জমার ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশবিহীন বা বিশেষ শর্তে ঋণ নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন। এছাড়া পেনশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত বা উত্তোলিত সমস্ত টাকা সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত থাকবে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাজেটে এই ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি দেওয়ার প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের মাঝে পেনশনে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে। এটি দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক ও বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তিকে একটি টেকসই সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা জালের আওতায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *