চিকিৎসা ও টিফিন ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা, বাস্তবসম্মত হারের দাবি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ও টিফিন ভাতার বর্তমান হার নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি বক্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক মতামতধর্মী পোস্টারে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ও টিফিন ভাতার হার অত্যন্ত অপ্রতুল এবং তা পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি।
পোস্টারটিতে সরকারি কর্মচারী নেতা ড. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মাসিক চিকিৎসা ভাতা হিসেবে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং দৈনিক টিফিন ভাতা হিসেবে মাত্র ৬ টাকা পেয়ে থাকেন। তাঁর মতে, চিকিৎসা ব্যয় যেখানে দিন দিন বাড়ছে এবং সাধারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রেও হাজার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, সেখানে এই ভাতার হার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিকিৎসা ভাতা নিয়ে অসন্তোষ
সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, বর্তমান চিকিৎসা ভাতা দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম চিকিৎসা ব্যয়ও মেটানো সম্ভব নয়। চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে মাসিক ১,৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা অনেকের কাছেই প্রতীকী সুবিধায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসা ভাতার হার পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
টিফিন ভাতা নিয়ে প্রশ্ন
দৈনিক ৬ টাকা টিফিন ভাতার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন চাকরিজীবীরা। বর্তমান বাজারে ৬ টাকায় কোনো ধরনের খাবার বা নাস্তা ক্রয় করা কার্যত অসম্ভব। ফলে অনেকেই মনে করেন, এই ভাতার হার বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শ্রম অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, টিফিন ভাতার উদ্দেশ্য হলো কর্মঘণ্টায় কর্মীদের ন্যূনতম খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান হার সেই উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর নয়।
নবম পে-স্কেলকে ঘিরে প্রত্যাশা
সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতার কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা সামনে আসার পর চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিও জোরালো হয়েছে।
চাকরিজীবী নেতাদের মতে, শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং বিভিন্ন ভাতাও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভাতার হার দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।
নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান
ড. শফিকুল ইসলামের বক্তব্যে চিকিৎসা ও টিফিন ভাতাকে “চরম উপহাস” হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় এসব ভাতা যুগোপযোগী করা একটি নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে চাকরিজীবীদের একটি অংশ আশা করছেন, ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো সংস্কার বা নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের সময় চিকিৎসা ও টিফিন ভাতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এতে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


