করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা বহাল, নতুন করহার কার্যকর: ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য প্রকাশিত তফসিল
সরকার ২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর হার ও করমুক্ত আয়সীমা চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত আয়কর আইন, ২০২৩-এর তফসিল অনুযায়ী সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে কর আরোপের নতুন কাঠামোও বহাল রাখা হয়েছে।
সাধারণ করদাতার জন্য করহার
গেজেট অনুযায়ী, অনিবাসী বাংলাদেশি ছাড়া সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি (Individual) ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের (HUF) ক্ষেত্রে করহার হবে নিম্নরূপ—
| করযোগ্য আয়ের স্তর | করহার |
|---|---|
| প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | শূন্য |
| পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা | ১০% |
| পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা | ১৫% |
| পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা | ২০% |
| পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা | ২৫% |
| অবশিষ্ট আয়ের ওপর | ৩০% |
অর্থাৎ, একজন সাধারণ করদাতার বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে কোনো আয়কর দিতে হবে না। তবে এই সীমা অতিক্রম করলে ধাপে ধাপে নির্ধারিত হারে কর প্রযোজ্য হবে।
বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা
গেজেটে কয়েকটি বিশেষ শ্রেণির করদাতার জন্য পৃথক করমুক্ত আয়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
- মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতা: করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা: করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
- গেজেটভুক্ত আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা: করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
গেজেটে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক করদাতার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে।
তবে যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়েই করদাতা হন, তাহলে এই অতিরিক্ত সুবিধা তাঁদের মধ্যে যেকোনো একজন গ্রহণ করতে পারবেন।
কারা এই সুবিধা পাবেন না?
গেজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে অনিবাসী (অনিবাসী বাংলাদেশি ব্যতীত) করদাতাদের ক্ষেত্রে এই করমুক্ত আয়সীমা ও সুবিধাসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
করদাতাদের জন্য এর গুরুত্ব
নতুন তফসিল অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা ও করহার নির্ধারণের ফলে ব্যক্তি করদাতারা সহজেই তাদের বার্ষিক করদায় হিসাব করতে পারবেন। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত গেজেটভুক্ত যোদ্ধাদের জন্য উচ্চতর করমুক্ত সীমা বহাল থাকায় এসব শ্রেণির করদাতারা তুলনামূলক বেশি কর-সুবিধা পাবেন।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, করহার অপরিবর্তিত রেখে করমুক্ত আয়সীমা ও বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সরকার একদিকে সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করনীতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে।



