নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে, ভেটিংয়ে খসড়া
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ভেটিংয়ের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি আনুষ্ঠানিকতাও দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
ভেটিংয়ের পরই পরবর্তী ধাপ
নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির আগে খসড়াটি আইনগতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপনের ভাষা, বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং আইনি কোনো অসংগতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেটিংয়ের প্রায় পুরো কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারির পরবর্তী কার্যক্রমে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
আজই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গেজেট প্রকাশ হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে প্রকাশের সময় পিছিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, ভেটিং শেষ হওয়াই এখন গেজেট প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপগুলোর একটি।
তবে এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়কে চূড়ান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও গেজেট জারির কাজ চলমান থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
এর আগে গত ৩১ আগস্ট জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করে সরকার। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন ভাতা পরবর্তী সময়ে কার্যকর করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির কাঠামো
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতে গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের ৭৮ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গেজেট প্রকাশের পর শুধু নতুন মূল বেতনই নয়, বরং বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী সুবিধাসহ বাস্তবায়নের বিস্তারিত নিয়ম স্পষ্ট হবে। সরকার জানিয়েছে, এসব বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে।
১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় কী হবে?
নতুন পে-স্কেলের কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশের তারিখ পরবর্তী হলেও কার্যকর তারিখ ১ জুলাই রাখার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। তবে বাস্তবে নতুন বেতন কাঠামো প্রয়োগের জন্য গেজেটের পাশাপাশি অর্থ বিভাগের বিস্তারিত নির্দেশনা, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রয়োজন হবে।
এ কারণে গেজেট প্রকাশের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ, বেতন ফিক্সেশন, বকেয়া হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের হিসাব
সরকারের ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে। এই ব্যয়ের সংস্থান সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে রাখার কথা জানানো হয়েছে।
কেন গেজেট নিয়ে এত অপেক্ষা?
৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সময় লাগায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই সরাসরি গেজেট প্রকাশ হয় না। বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত, আইনি ভেটিং, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং মুদ্রণসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। আগের পে-স্কেলের ক্ষেত্রেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল।
এখন নজর ভেটিং শেষ হওয়ার দিকে
সর্বশেষ অগ্রগতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ভেটিংয়ের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এখন বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা।
তাই ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতিতে বলা যায়, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আর নীতিগত অনুমোদনের পর্যায়ে নেই; বরং প্রজ্ঞাপন জারির প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতার শেষ ধাপে রয়েছে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গেজেট জারির নির্দিষ্ট সময়কে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না।
সারকথা: মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির পথে বড় একটি ধাপ অতিক্রম করেছে সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে। ভেটিং ও অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন জারির পথ আরও পরিষ্কার হবে।



