স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগের চিঠি
জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত (Public Bodies) ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জারি করা নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। একই সঙ্গে গেজেটের আলোকে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
৭ অক্টোবর অর্থ বিভাগের চিঠি
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, অর্থ বিভাগের উপসচিব সারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর আওতায় জারি করা গেজেটের কপি পাঠানোর কথা জানানো হয়। চিঠিতে গেজেট অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি কেবল নতুন বেতন কাঠামোর তথ্য জানানোর বিষয় নয়; বরং সংশ্লিষ্ট স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে গেজেটের বিধান অনুসারে বাস্তবায়নসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পদক্ষেপ।
কোন গেজেটের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থ বিভাগ এস.আর.ও. নং ৩৪৮-আইন/২০২৬ জারি করে। বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের গেজেট তালিকাতেও এটিকে ‘চাকরি [স্ব-শাসিত (Public Bodies) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ] (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেটটি ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় এবং এতে ২৫২১৩ থেকে ২৫২৩১ নম্বর পৃষ্ঠা রয়েছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জারি করা বেতন আদেশের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আদেশ জারি করা হয়েছে। একই দিনে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং আরও কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের জন্যও পৃথক বেতন-ভাতা আদেশ জারি করা হয়েছে।
এবার বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের
৭ অক্টোবরের চিঠির মূল গুরুত্ব এখানেই যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গেজেট আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠিয়ে এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন, মানবসম্পদ বা সংস্থাপন শাখা এবং হিসাব ও বেতন-ভাতা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানভেদে বেতন নির্ধারণ, পদ ও গ্রেড যাচাই, নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিদ্যমান বেতন সমন্বয় এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের মতো প্রশাসনিক কাজ সামনে আসতে পারে। তবে এসব কাজ কীভাবে এবং কোন সময়সীমায় সম্পন্ন হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস্তবায়ন নির্দেশনা ও গেজেটের বিধানের ওপর নির্ভর করবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নজরে
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গেজেটটি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক রয়েছে। পাশাপাশি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF), বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (BMDF), সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (SDF), দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ কারণে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুধু সাধারণ সরকারি দপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সংশ্লিষ্ট স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এর আওতায় বাস্তবায়ন কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হলেও নতুন বেতন কাঠামোকে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। অর্থ বিভাগের নোটিশেও ১৯ সেপ্টেম্বর এ আদেশ প্রকাশের তথ্য রয়েছে। অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়
নতুন কাঠামোতে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কার্যকর তারিখ থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা বকেয়া হিসেবে সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তবে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে বেতন নির্ধারণ, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং বকেয়া সমন্বয় হবে—তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এসআরও ও পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। তাই সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের হিসাব সরাসরি এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ঠিক হবে না।
কেন ৭ অক্টোবরের চিঠি গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশের পর সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছানো বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ। ১৭ সেপ্টেম্বর স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক গেজেট প্রকাশের পর ৭ অক্টোবর সেটির কপি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ফলে এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পর্যায়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বাজেট সমন্বয়, হিসাব সফটওয়্যার বা বেতন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য গেজেটটি হবে মূল নির্দেশনামূলক দলিল।
কর্মীদের এখন কী প্রত্যাশা?
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কবে থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করে এবং কী পদ্ধতিতে তা বাস্তবায়ন করে।
সাধারণভাবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কর্মীদের ব্যক্তিগত চাকরির তথ্য, বর্তমান পদ ও গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, কার্যকর তারিখে প্রাপ্য বেতন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এরপর গেজেটের বিধান অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করার বিষয়টি সামনে আসবে।
তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আলাদা অফিস আদেশ বা বাস্তবায়ন নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখে বেতন ফিক্সেশন বা বকেয়া পরিশোধের ঘোষণা ধরে নেওয়া উচিত হবে না।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ বাস্তবায়নে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এসআরও নং ৩৪৮-আইন/২০২৬-এর গেজেট ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি।
এর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যায়ে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছেছে। এখন কর্মীদের মূল নজর থাকবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরবর্তী অফিস আদেশ, বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং কার্যকর তারিখ থেকে প্রাপ্য অর্থের সমন্বয়ের দিকে। নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আপডেট।


