৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ : গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত অপেক্ষায় সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা ‘নবম পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই নতুন বেতনকাঠামোর খসড়া গেজেট তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ নাগাদ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করতে পারে।

গেজেট প্রকাশের সর্বশেষ পরিস্থিতি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে-কমিশনের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। প্রশাসনিক ও আইনি যাচাই-বাছাই শেষে এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে তিন ধাপে বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা থাকলেও কারিগরি ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে সরকার এখন দুই ধাপে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

  • প্রথম ধাপ: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন মূল বেতন (Basic Pay) একবারে কার্যকর করার জোরালো সুপারিশ রয়েছে।

  • দ্বিতীয় ধাপ: ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে সংশোধিত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা কার্যকর করা হবে।

বেতন বৃদ্ধির হার ও প্রত্যাশা

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:

  • ১ম থেকে ১০ম গ্রেড: কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি বাড়তে পারে।

  • ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: এই পর্যায়ের কর্মচারীদের মূল বেতন ১৩০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পান।

আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বেতন বৃদ্ধি সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদাও বৃদ্ধি করবে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাদের জন্য সুখবর?

নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি চাকুরেদের জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তাতে এই বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। এখন সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রেডের সুনির্দিষ্ট বেতনহার জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *