শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হলো ৩৫ হাজার কোটি টাকা : অবশেষে আলোর মুখ দেখছে ৯ম পে-স্কেল, বেসিক বাড়ছে ৫০% পর্যন্ত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বড় ধরনের সুখবর আসতে যাচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল)। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্দার আড়ালে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম পুরোদমে সচল রেখেছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এর প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে আসন্ন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ হিসেবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাখার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মূল বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ, নিম্ন গ্রেডে শতভাগের গুঞ্জন
নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের (Basic Salary) ৫০ শতাংশ সরাসরি বাড়ানোর পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তবে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বাড়তি স্বস্তি দিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এই বেসিক বৃদ্ধির হার শতভাগ (১০০%) পর্যন্ত হতে পারে—এমন একটি জোরালো আলোচনা ও গুঞ্জনও বর্তমান প্রশাসনে বইছে।
পে-কমিশনের প্রাথমিক রূপরেখা ও সরকারের চলমান প্রস্তুতি অনুযায়ী, ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন কাঠামোতে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে যে সম্ভাব্য আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, তার একটি বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১ম থেকে ১০ম গ্রেডের সম্ভাব্য বেতন কাঠামো (৫০% বৃদ্ধিতে)
প্রথম ১০টি গ্রেডের প্রথম সারির কর্মকর্তা ও মধ্যম সারির পদগুলোতে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পর সম্ভাব্য হিসাব দাঁড়াবে নিম্নরূপ:
১ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ৫০% বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১,১৭,০০০ টাকা।
২য় গ্রেড: বর্তমান ৬৬,০০০ — ৭৬,৪৯০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৯৯,০০০ — ১,১৪,০০০ টাকা।
৩য় গ্রেড: বর্তমান ৫৬,৫০০ — ৭৪,৪০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৮৪,৭৫০ — ১,১১,৬০০ টাকা।
৪র্থ গ্রেড: বর্তমান ৫০,০০০ — ৭১,২০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭৫,০০০ — ১,০৬,৮০০ টাকা।
৫ম গ্রেড: বর্তমান ৪৩,০০০ — ৬৯,৮৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৬৪,৫০০ — ১,০৪,৪৭Reset টাকা।
৬ষ্ঠ গ্রেড: বর্তমান ৩৫,৫০০ — ৬৭,০১০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩,২৫০ — ১,০০,৫১৫ টাকা।
৭ম গ্রেড: বর্তমান ২৯,০০০ — ৬৩,৪১০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৪৩,৫০০ — ৯৫,১১৫ টাকা।
৮ম গ্রেড: বর্তমান ২৩,০০০ — ৫৫,৪৭০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৩৪,৫০০ — ৮৩,২০৫ টাকা।
৯ম গ্রেড: বর্তমান ২২,০০০ — ৫৩,০৬০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩৩,০০০ — ৭৯,৫批০ টাকা।
১০ম গ্রেড: বর্তমান ১৬,০০০ — ৩৮,৬৪০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২৪,০০০ — ৫৭,৯৬০ টাকা।
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সম্ভাব্য বেতন কাঠামো (৫০% বৃদ্ধিতে)
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী এবং মাঠ পর্যায়ের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে যদি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তবে নতুন বেতন কাঠামো হবে নিম্নরূপ:
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন সীমা (টাকা) | ৫০% বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাব্য মূল বেতন (টাকা) |
| ১১তম | ১২,৫০০ — ৩০,২৩০ | ১৮,৭৫০ — ৪৫,৩৪াস |
| ১২তম | ১১,৩০০ — ২৭,৩০০ | ১৬,৯৫০ — ৪০,৯৫০ |
| ১৩তম | ১১,০০০ — ২৬,৫৯০ | ১৬,৫০০ — ৩৯,৮৮৫ |
| ১৪তম | ১০,২০০ — ২৪,৬৮০ | ১৫,৩০০ — ৩৭,০২০ |
| ১৫তম | ৯,৭০০ — ২৩,৪৯০ | ১৪,৫৫০ — ৩৫,২৩৫ |
| ১৬তম | ৯,৩০০ — ২২,৪৯০ | ১৩,৯৫০ — ৩৩,৭৩৫ |
| ১৭তম | ৯,০০০ — ২১,৮০০ | ১৩,৫০০ — ৩২,৭০০ |
| ১৮তম | ৮,৮০০ — ২১,৩১০ | ১৩,client — ৩১,৯৯৫ |
| ১৯তম | ৮,৫০০ — ২০,৫৭০ | ১২,৭৫০ — ৩০,৮৫৫ |
| ২০তম | ৮,২৫০ — ২০,০১০ | ১২,৩৭৫ — ৩০,০১৫ |
(উল্লেখ্য, যদি ১১-২০ গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধির গুঞ্জনটি সত্যি হয়, তবে এই অংকগুলো আরও দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।)
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও মাঠ পর্যায়ের প্রত্যাশা
গত কয়েক বছরে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতন কাঠামো নিয়ে সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন সাধারণ সরকারি কর্মচারীরা। বিশেষ করে শেষ ১০টি গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সম্মানজনক নতুন পে-স্কেলের।
সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, “নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের কাজ কোনোভাবেই থেমে নেই। পর্দার আড়ালে বাজেট বরাদ্দ সমন্বয় এবং বিভিন্ন গ্রেডের বৈষম্য কমানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারির পরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।”
নতুন এই জাতীয় পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে আলোর মুখ দেখলে দেশের প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এর সাথে যুক্ত থাকা অন্যান্য খাতের সংশ্লিষ্টরা সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি একদিকে যেমন তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে, অন্যদিকে সরকারি কাজে কর্মস্পৃহা ও গতিশীলতা বাড়াতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


