নবম পে-স্কেল : প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হলে কার কত বেতন হতে পারে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তালিকা নিয়ে আলোচনা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল (পে-স্কেল) নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর তালিকা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রথম ধাপে মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ সমন্বয় করা হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের তালিকা এখনো সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নয়। সচিব কমিটির সুপারিশ কিংবা চূড়ান্ত গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে প্রচারিত তথ্যকে নিশ্চিত বা সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কী বলা হচ্ছে প্রচারিত তালিকায়?
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তালিকায় বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন বেতন স্কেলের তুলনা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে গ্রেডভিত্তিক নতুন বেসিক বেতন এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্ত বেতনের সম্ভাব্য হিসাবও দেখানো হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, বর্তমান প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সম্ভাব্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাব্য হিসাব দেখানো হয়েছে।
নিম্ন গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনা তালিকায় রয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেসিক ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাব্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বিভ্রান্তি কোথায়?
পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে “প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ” কথাটি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মূলত এখানে দুটি সম্ভাব্য পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে।
প্রথম পদ্ধতি: বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৫০ শতাংশ
এই পদ্ধতিতে বর্তমান বেতন এবং নতুন নির্ধারিত বেতনের মধ্যকার পার্থক্য বের করা হবে। এরপর সেই পার্থক্যের অর্ধেক প্রথম ধাপে যোগ হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারীর বর্তমান বেসিক যদি ৫০ হাজার টাকা হয় এবং নতুন বেসিক নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ টাকা, তাহলে বৃদ্ধি হবে ৫০ হাজার টাকা। এর ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকা প্রথম ধাপে যুক্ত হবে। ফলে প্রথম ধাপে তার বেসিক দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: নতুন নির্ধারিত বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর
আরেকটি আলোচ্য পদ্ধতিতে নতুন চূড়ান্ত বেতনের অর্ধেক প্রথম ধাপে কার্যকর হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তালিকার ডান পাশের কলামে এমন ধরনের হিসাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে বাস্তবে সরকার কোন পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত পে-কমিশন সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যালোচনা এবং সরকারি গেজেটের ওপর।
ইনক্রিমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বেসিক বেতনই নয়, চাকরির বয়স অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ একই গ্রেডে কর্মরত দুই ব্যক্তির চাকরির মেয়াদ ভিন্ন হলে তাদের প্রাপ্ত বেতনও ভিন্ন হতে পারে।
অর্থাৎ, নতুন স্কেল কার্যকর হলেও প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন সমান হবে না; চাকরির অভিজ্ঞতা ও অর্জিত ইনক্রিমেন্ট অনুযায়ী পার্থক্য থাকবে।
সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ
জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য হিসাব ও বিশ্লেষণ চললেও এখনো সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তালিকাকে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ধাপভিত্তিক বেতন সমন্বয়ের হার, ইনক্রিমেন্ট কাঠামো এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে সরকার কর্তৃক গেজেট প্রকাশের পর।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নবম পে-স্কেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য অঙ্ক নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা বা বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলাই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত অবস্থান।




