বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬ পুনর্নির্ধারণ: আবাসিক থেকে শিল্প—নতুন হার ও ডিমান্ড চার্জে যা পরিবর্তন হলো
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬ পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে নিম্নচাপ, মধ্যমচাপ, উচ্চচাপ ও অতি উচ্চচাপ পর্যায়ের বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির জন্য ইউনিটপ্রতি এনার্জি রেট/চার্জ এবং মাসিক ডিমান্ড রেট/চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার আবাসিক গ্রাহক থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক, শিল্প, নির্মাণ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সেচ, ইলেকট্রিক যানবাহন চার্জিং স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক সরবরাহকৃত বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
আবাসিক গ্রাহকের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের হার
বিজ্ঞপ্তির প্রথম পাতায় নিম্নচাপ (এলটি), ২৩০/৪০০ ভোল্ট পর্যায়ের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ধাপভিত্তিক এনার্জি রেট দেওয়া হয়েছে। এখানে লাইফলাইন সুবিধাসহ বিভিন্ন ব্যবহারসীমায় আলাদা ইউনিটপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার হলো—
- লাইফলাইন ০–৫০ ইউনিট: ৫.৩২ টাকা/কিলোওয়াট-ঘণ্টা
- প্রথম ধাপ ০–৭৫ ইউনিট: ৬.১৮ টাকা
- দ্বিতীয় ধাপ ৭৬–২০০ ইউনিট: ৮.৫০ টাকা
- তৃতীয় ধাপ ২০১–৩০০ ইউনিট: ৯.৩০ টাকা
- চতুর্থ ধাপ ৩০১–৪০০ ইউনিট: ৯.৬২ টাকা
- পঞ্চম ধাপ ৪০১–৬০০ ইউনিট: ১০.৯১ টাকা
- ষষ্ঠ ধাপ ৬০০ ইউনিটের বেশি: ১৭.৩৫ টাকা।
আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ডিমান্ড রেট/চার্জ ৪২ টাকা প্রতি কিলোওয়াট/মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু ব্যবহৃত ইউনিটের মূল্যই নয়, অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে নির্ধারিত ডিমান্ড চার্জও বিলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের হার
এলটি পর্যায়ে সেচ/কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য এনার্জি রেট ৬.০৪ টাকা/কিলোওয়াট-ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ শ্রেণির মাসিক ডিমান্ড রেট ৪২ টাকা/কিলোওয়াট। ফলে কৃষি ও সেচ কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি নির্ধারিত হার অনুযায়ী বিল হিসাব করা হবে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
ক্ষুদ্র শিল্প ও নির্মাণ খাতে পৃথক হার
নিম্নচাপ পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাহকের জন্য ফ্ল্যাট, অফ-পিক ও পিক—এই তিন ধরনের এনার্জি রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১২.৭০ টাকা, ১১.১৫ টাকা এবং ১৫.২৭ টাকা হারের উল্লেখ রয়েছে। এ শ্রেণির ডিমান্ড রেট ৪৮ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
অন্যদিকে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের জন্য এনার্জি রেট ১৮.০৯ টাকা/কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং ডিমান্ড রেট ১২০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের জন্য এনার্জি রেট ৯.০৫ টাকা, আর ডিমান্ড রেট ৬০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনেও নির্ধারিত হয়েছে আলাদা হার
বর্তমানে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইলেকট্রিক ভেহিকেল ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন-এর জন্যও পৃথক ট্যারিফ রাখা হয়েছে।
এ শ্রেণিতে ফ্ল্যাট রেট ১১.৩৬ টাকা, অফ-পিক ১০.২২ টাকা, সুপার অফ-পিক ৯.০৯ টাকা এবং পিক ১৪.২০ টাকা/কিলোওয়াট-ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিমান্ড রেট রাখা হয়েছে ৯০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের জন্য হার
নিম্নচাপ পর্যায়ের বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট, অফ-পিক ও পিক সময়ে যথাক্রমে ১৫.৩৬ টাকা, ১৩.৮২ টাকা ও ১৮.৪৩ টাকা এনার্জি রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ শ্রেণির ডিমান্ড রেট ৯০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
অন্যদিকে অস্থায়ী গ্রাহকদের জন্য এনার্জি রেট ২৩.৮১ টাকা এবং ডিমান্ড রেট ১২০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
মধ্যমচাপ পর্যায়ে নতুন হার
বিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় পাতায় মধ্যমচাপ (এমটি), ১১ কেভি পর্যায়ের গ্রাহকদের জন্য আলাদা ট্যারিফ দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে আবাসিক গ্রাহকের ফ্ল্যাট, অফ-পিক ও পিক এনার্জি রেট যথাক্রমে ১২.৫০ টাকা, ১১.২৫ টাকা ও ১৫.৬২ টাকা। ডিমান্ড রেট ৯০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
মধ্যমচাপ পর্যায়ে—
- বাণিজ্যিক ও অফিস: ১৩.৯০ / ১২.৪৮ / ১৭.৯১ টাকা
- শিল্প: ১২.৮৫ / ১১.৫৬ / ১৬.০৬ টাকা
- নির্মাণ: ১৭.১৬ / ১৫.৪৪ / ২১.৪৫ টাকা
- সাধারণ: ১২.৫৮ / ১১.৩২ / ১৫.৭২ টাকা
- অস্থায়ী: ২২.৫৬ টাকা
হারে এনার্জি চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শ্রেণিতে ডিমান্ড চার্জ সাধারণত ৯০ টাকা, আর নির্মাণ ও অস্থায়ী শ্রেণিতে ১২০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
উচ্চচাপ ও অতি উচ্চচাপ পর্যায়েও নির্ধারিত হলো ট্যারিফ
উচ্চচাপ (এইচটি), ৩৩ কেভি পর্যায়ের গ্রাহকদের জন্য সাধারণ শ্রেণিতে ফ্ল্যাট ১২.৪৪ টাকা, অফ-পিক ১১.২৮ টাকা এবং পিক ১৫.৬৯ টাকা এনার্জি রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিস শ্রেণিতে এই হার যথাক্রমে ১৩.৭৪, ১২.২৮ ও ১৭.০৫ টাকা। শিল্পের জন্য ১২.৭৫, ১১.৪৭ ও ১৫.৯৩ টাকা, আর নির্মাণের জন্য ১৫.৯৬, ১৪.৩৬ ও ১৯.১৫ টাকা। এ পর্যায়ে ডিমান্ড রেট ৯০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
অন্যদিকে অতি উচ্চচাপ (ইএইচটি), ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি পর্যায়ে সাধারণ গ্রাহকের জন্য ফ্ল্যাট ১২.৬৬ টাকা, অফ-পিক ১১.১৯ টাকা এবং পিক ১৫.৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আরেকটি সাধারণ শ্রেণিতে যথাক্রমে ১২.৬১, ১১.৩৫ ও ১৫.৭৬ টাকা এনার্জি রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়েও ডিমান্ড রেট ৯০ টাকা/কিলোওয়াট/মাস। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
নতুন সংযোগে অনুমোদিত লোডের নিয়ম
বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোড নির্ধারণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে ৮০ কিলোওয়াট পর্যন্ত নিম্নচাপ (এলটি) গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৮০ কিলোওয়াট পর্যন্ত অনুমোদিত লোডের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে গ্রাহককে মধ্যমচাপ পর্যায়ের আওতায় নেওয়ার সুযোগের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এলটি ও এমটি গ্রাহকদের অনুমোদিত লোড এবং উচ্চতর ভোল্টেজের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ চাহিদা বা অনুমোদিত লোডের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যেটি প্রযোজ্য, সেটি বিবেচনা করার নির্দেশনা রয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
লাইফলাইন সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট আবাসিক গ্রাহকের জন্য
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ০–৫০ ইউনিট লাইফলাইন মূল্যহারের সুবিধা আবাসিক গ্রাহক ছাড়া অন্য কোনো গ্রাহক পাবেন না। অর্থাৎ অন্যান্য বাণিজ্যিক, শিল্প বা প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
পিক, অফ-পিক ও সুপার অফ-পিক সময়
বিদ্যুতের ব্যবহারভেদে সময়ভিত্তিক চার্জের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণভাবে রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফ-পিক এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক সময় হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট গ্রাহক শ্রেণির ক্ষেত্রে সকাল ৫টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সুপার অফ-পিক সময় গণনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে কোন সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে ইউনিটপ্রতি এনার্জি চার্জের পার্থক্য হতে পারে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ট্যারিফ ব্যবহারের নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির আওতাধীন নির্দিষ্ট গ্রাহক শ্রেণির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী এনার্জি রেট/চার্জ প্রয়োগের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ
নতুন খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন ট্যারিফ কাঠামোতে এনার্জি ব্যবহারের হিসাব পরিবর্তিত হলেও ডিমান্ড চার্জের বিদ্যমান কাঠামো বহাল থাকবে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
প্রি-পেইড মিটারে ০.৫ শতাংশ রিবেট
প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ব্যতীত নিট বিলের ওপর ০.৫ শতাংশ রিবেট দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধা পাবেন। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর
বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে বলা হয়েছে, পুনর্নির্ধারিত খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যহার বিল মাস জুন ২০২৬ হতে কার্যকর হবে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জারি করা আদেশ বলবৎ থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ২০২৬
গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ কী?
নতুন ট্যারিফ কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিদ্যুতের বিল নির্ধারণে শুধু মাসে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গ্রাহকের শ্রেণি, সংযোগের ভোল্টেজ পর্যায়, অনুমোদিত লোড, পিক/অফ-পিক সময়ে ব্যবহার এবং প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ—সবগুলো বিষয় মিলেই মোট বিল নির্ধারিত হবে।
বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত লাইফলাইন সুবিধা এবং পরবর্তী ধাপে ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক বেশি ইউনিটপ্রতি হার প্রযোজ্য হওয়ার কারণে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারের বিলের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে। একইভাবে বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সময়ভেদে এনার্জি রেটের পার্থক্য থাকায় অফ-পিক সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে কম এনার্জি চার্জে বিল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিইআরসির এই পুনর্নির্ধারিত মূল্যহার বিদ্যুৎ বিলের হিসাবকে আরও শ্রেণিভিত্তিক ও সময়ভিত্তিক করেছে। গ্রাহকদের তাই নিজের গ্রাহক শ্রেণি, অনুমোদিত লোড এবং মিটারের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য এনার্জি রেট ও ডিমান্ড চার্জ যাচাই করে বিল পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ।


