পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্তিতে স্বেচ্ছায় অবসর: লাম্প গ্র্যান্ট, পিআরএল, গ্র্যাচুইটি ও পেনশন—সব সুবিধাই মিলবে

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে স্বেচ্ছায় অবসরে গেলে কি বাধ্যতামূলক অবসরের মতো সব ধরনের অবসর-সুবিধা পাওয়া যায়? এ বিষয়ে প্রচলিত আইন, বিধি এবং অবসর সংক্রান্ত বিধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করে আইন অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করলে একজন কর্মচারী অবসরের সকল প্রাপ্য সুবিধাই ভোগ করতে পারবেন।

যে সুবিধাগুলো পাবেন

২৫ বছর পূর্ণ করে স্বেচ্ছায় অবসরে গেলে সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর মতোই নিম্নোক্ত সুবিধাগুলো প্রাপ্য হবে—

  • পোস্ট রিটায়ারমেন্ট লিভ (PRL) চলাকালীন বেতন-ভাতা।
  • লাম্প গ্র্যান্ট (অর্জিত ছুটির নগদায়ন, বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত)।
  • গ্র্যাচুইটি (আনুতোষিক)
  • মাসিক পেনশন
  • চিকিৎসা ভাতাসহ পেনশনভোগীদের জন্য প্রযোজ্য অন্যান্য সরকারি সুবিধা।
  • বিধি অনুযায়ী অন্যান্য অবসর-পরবর্তী আর্থিক প্রাপ্য।

স্বেচ্ছায় অবসর নিলেও অধিকার অক্ষুণ্ন

সরকারি কর্মচারী অবসর গ্রহণ আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ হলে একজন সরকারি কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অবসরটি স্বেচ্ছায় হলেও এটি আইনসম্মত অবসর হিসেবে গণ্য হয়। ফলে বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রে যে অবসরজনিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়, একই ধরনের সুবিধা স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকারীও পান।

২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সুবিধা নেই

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে পাঁচ বছর চাকরি করলেই যে কোনো সময় পদত্যাগ করে পেনশন পাওয়া যাবে। বাস্তবে সাধারণ ক্ষেত্রে তা সঠিক নয়।

সাম্প্রতিক বিচারিক ব্যাখ্যা ও বিদ্যমান আইনি বিধান অনুযায়ী, ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সাধারণভাবে পেনশন, গ্র্যাচুইটি বা অবসরজনিত সুবিধা প্রাপ্য হয় না। বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম (যেমন স্থায়ী অক্ষমতা বা চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু) ছাড়া ২৫ বছর পূর্ণের আগে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সুযোগও নেই।

কমিয়ে আনার দাবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি রয়েছে যে, স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য ২৫ বছরের চাকরির শর্ত আরও কমানো উচিত। অনেকের মতে, ২০ বছর বা তারও কম চাকরিকাল পূর্ণ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দিলে কর্মজীবনে অধিক নমনীয়তা আসবে এবং ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে আগেভাগে অবসর নিতে আগ্রহী কর্মচারীরাও আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মত

প্রশাসন ও চাকরি বিধি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আইনের আওতায় ২৫ বছর পূর্ণ করে স্বেচ্ছায় অবসরে গেলে কোনো কর্মচারীকে অবসর-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকার চাইলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় অবসরের ন্যূনতম চাকরিকাল কমাতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিগত বিবেচনার বিষয়।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বর্তমান বিধান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করলে লাম্প গ্র্যান্ট, পিআরএল চলাকালীন বেতন-ভাতা, গ্র্যাচুইটি, মাসিক পেনশনসহ অবসরের সব ধরনের প্রাপ্য সুবিধাই পাওয়া যায়। তবে ২৫ বছরের আগে সাধারণভাবে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিলে এসব অবসর-সুবিধা প্রযোজ্য হয় না। ভবিষ্যতে ২৫ বছরের শর্ত কমানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *