৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

২০১৫ সালের পে স্কেল: যে অধিকার ও সুযোগগুলো হারিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা—একনজরে বিস্তারিত বিশ্লেষণ

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পর থেকেই দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর আর্থিক সুরক্ষা ও পদোন্নতির দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এই পে স্কেলের ফলে একদিকে যেমন মূল বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল, অন্যদিকে তেমনি বহু পুরোনো ও কার্যকর সুযোগ-সুবিধা চিরতরে কেড়ে নেওয়া হয়, যা নিয়ে আজও চাকরিজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

২০১৫ সালের পে স্কেলে যে অধিকার ও সুবিধাগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছে, একনজরে তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ৩টি টাইম স্কেল ও ১টি সিলেকশন গ্রেড বাতিল

পূর্বের বেতন কাঠামো অনুযায়ী চাকুরিজীবীরা একটি নির্দিষ্ট সময় (যেমন: ৮, ১২ ও ১৫ বছর) পূর্তিতে ৩টি টাইম স্কেল এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সিলেকশন গ্রেড পেতেন। এর ফলে পদোন্নতি না পেলেও নিয়মিত বিরতিতে কর্মচারীদের আর্থিক ও পদমর্যাদার উন্নতি ঘটত। ২০১৫ সালের পে স্কেলে এই টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়, যা নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের ক্যারিয়ারে বড় ধরণের স্থবিরতা ডেকে আনে।

২. ৫ বছর পরপর পে স্কেল প্রথার বিলুপ্তি

অতীতে নিয়মিত ৫ বছর পরপর নতুন পে স্কেল বা বেতন কমিশন গঠনের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাস করা হতো। কিন্তু ২০১৫ সালের পে স্কেলের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো স্থায়ী পে স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীরা মারাত্মক আর্থিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

৩. অবসরকালীন এককালীন পেনশন উত্তোলনের সুযোগ সংকুচিত

চাকরি শেষে অবসরে যাওয়ার পর কর্মচারীরা তাদের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য গ্র্যাচুইটি বা এককালীন সম্পূর্ণ পেনশন তুলে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগাতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান নিয়মে পেনশনের একটি বড় অংশ (৫০%) সরকার কর্তন বা বাধ্যতামূলক রেখে দেওয়ায় অবসরকালীন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন। দীর্ঘ কর্মজীবন রাষ্ট্রের সেবায় উৎসর্গ করার পর খালি হাতে ঘরে ফেরার উপক্রম হয়েছে।

৪. উচ্চতর গ্রেডের নামে প্রহসন ও নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দিয়ে ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান করা হলেও, বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। দেখা যায়, দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষার পর উচ্চতর গ্রেড পেয়ে অনেকের বেতন মোটে ১০ বা ২০ টাকা বৃদ্ধি পায়, যা বর্তমান বাজারদরে চরম উপহাসের শামিল।

বর্তমান সময়ের জোরালো দাবি ও প্রত্যাশা:

দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য ও নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে এখন জোরালো কিছু দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে—

  • জানুয়ারির মধ্যেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ: দ্রুত নতুন পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করে বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

  • টাইম স্কেল পুনবহাল: কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির পথ সুগম করতে এবং বঞ্চনা দূর করতে পূর্বেকার ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রথা অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।

  • এককালীন পেনশন উত্তোলনের পূর্ণ স্বাধীনতা: অবসরোত্তর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনشنের ৫০% বাধ্যতামূলক আটকে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সম্পূর্ণ এককালীন পেনশন উত্তোলনের সুযোগ পুনরায় চালু করতে হবে।

দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর নায্য অধিকার ও জীবনমান সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করবে—এমনটাই এখন সময়ের জোরালো দাবি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *