৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

Increment Chart 2026 । নতুন বেতন ধাপ পিডিএফ কপি ডাউনলোড

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ কার্যকরের পর নতুন বেতন ধাপ ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাব নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। আপনার দেওয়া “জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ (পে স্কেল চার্ট)” বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্রেডভেদে নির্ধারিত মূল বেতনের পাশাপাশি ধারাবাহিক ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে একজন কর্মচারীর মূল বেতন ধাপে ধাপে বাড়বে।

সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রকাশিত গেজেট তালিকায় এসআরও নং ৩৪৭-আইন/২০২৬—চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হওয়ার তথ্য রয়েছে। গেজেটটি ২৫১৯৩ থেকে ২৫২১১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত।

নতুন বেতন কাঠামোর মূল বিষয়

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় গ্রেড ১-এর নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, আর গ্রেড ২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড ৯-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা, যা আগের ২২ হাজার টাকার দ্বিগুণ।

নতুন স্কেলে গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার এক নয়। নিম্ন গ্রেডে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ, আর সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গ্রেডের নতুন মূল বেতন

গ্রেডপুরোনো মূল বেতননতুন মূল বেতনবৃদ্ধি
১ম৭৮,০০০১,৫৬,০০০১০০%
২য়৬৬,০০০১,৩২,০০০১০০%
৩য়৫৬,৫০০১,১৩,০০০১০০%
৪র্থ৫০,০০০১,০০,০০০১০০%
৫ম৪৩,০০০৮৬,০০০১০০%
৬ষ্ঠ৩৫,৫০০৭১,০০০১০০%
৭ম২৯,০০০৫৮,০০০১০০%
৮ম২৩,০০০৪৬,০০০১০০%
৯ম২২,০০০৪৪,০০০১০০%
১০ম১৬,০০০৩২,০০০১০০%
১১তম১২,৫০০২৫,০০০১০০%
১২তম১১,৩০০২৪,৩০০প্রায় ১১৫%
১৩তম১১,০০০২৪,০০০প্রায় ১১৮%
১৪তম১০,২০০২৩,৫০০প্রায় ১৩০%
২০তম৮,২৫০২০,০০০প্রায় ১৪২%

ইনক্রিমেন্ট চার্টে কী রয়েছে

আপনার দেওয়া চার্টটির বিশেষত্ব হলো—এতে শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতন নয়, বরং পরবর্তী একাধিক ধাপে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার পর সম্ভাব্য মূল বেতনও দেখানো হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো কর্মচারী নির্দিষ্ট গ্রেডে যোগ দেওয়ার পর প্রতিবছর প্রযোজ্য বেতনবৃদ্ধি পেলে তার মূল বেতন কীভাবে ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হবে, চার্টের বিভিন্ন কলামে সেটিই দেখানো হয়েছে।

চার্টে গ্রেড ২ থেকে গ্রেড ২০ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ এবং ১ম থেকে ১৮তম ইনক্রিমেন্ট পর্যন্ত বেতন দেখানো হয়েছে। ফলে চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন কর্মচারীর মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটি এক নজরে বোঝা যায়।

গ্রেড ৯-এর উদাহরণ

নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেড ৯-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৪,০০০ টাকা।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুরো বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হচ্ছে না। প্রজ্ঞাপনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গ্রেড ৯ যেহেতু নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের মধ্যে পড়ে, তাই ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কাঠামোর বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কারও পুরোনো মূল বেতন ২২,০০০ টাকা এবং নতুন স্কেলে তার নির্ধারিত মূল বেতন ৪৪,০০০ টাকা হলে—

  • মোট বেতন বৃদ্ধি = ৪৪,০০০ − ২২,০০০ = ২২,০০০ টাকা
  • প্রথম ধাপে ৪০% বৃদ্ধি = ৮,৮০০ টাকা
  • ফলে প্রথম ধাপে মূল বেতন = ৩০,৮০০ টাকা

এটি একটি ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ। প্রকৃত বেতন নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, প্রযোজ্য বিধান এবং পে-ফিক্সেশন পদ্ধতি বিবেচনা করতে হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৩০ জুনের বেতনকে ভিত্তি ধরে বাড়তি প্রাপ্য হিসাব করার কথা বলা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন কীভাবে ধাপে ধাপে বাড়বে

নতুন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন।

প্রথম ধাপ: ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬

  • ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেড: নতুন কাঠামোর বাড়তি মূল বেতনের ৪০%
  • ১০ম–২০তম গ্রেড: বাড়তি মূল বেতনের ৫০%

অর্থাৎ নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই বর্ধিত অংশের তুলনামূলক বেশি অংশ কার্যকর হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭

  • ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেড: বাড়তি অংশের ৭০%
  • ১০ম–২০তম গ্রেড: বাড়তি অংশের ৭৫%

তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭

এই তারিখ থেকে নতুন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

ভাতার ক্ষেত্রে আলাদা সময়সূচি

নতুন বেতন স্কেল শুধু মূল বেতন পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইলসহ বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। ফলে মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হওয়ার পরও ভাতার পূর্ণাঙ্গ নতুন কাঠামো কার্যকর হতে আরও সময় লাগবে।

ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে নতুন পে-ফিক্সেশনের সম্পর্ক

নতুন বেতন ধাপ বুঝতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পে ফিক্সেশন। একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড, পূর্বের ইনক্রিমেন্ট এবং নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ—সবকিছু বিবেচনা করেই নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

তাই শুধু নতুন স্কেলের প্রথম কলামে থাকা অঙ্ক দেখলেই প্রত্যেক পুরোনো কর্মচারীর নতুন বেতন জানা যাবে না। একই গ্রেডে কর্মরত দুই কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ও ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা ভিন্ন হলে তাদের পে-ফিক্সেশনও ভিন্ন হতে পারে।

এ কারণেই আপনার দেওয়া Increment Chart 2026 পুরোনো কর্মচারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের বিভিন্ন ইনক্রিমেন্ট ধাপ ধরে সম্ভাব্য মূল বেতন দেখা যায়।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ

নতুন বেতন আদেশের সঙ্গে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রেও ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে যোগ্য চাকরির মেয়াদসহ সংশ্লিষ্ট বিধান প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ নতুন বেতন ধাপের সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখতে হবে। পে-স্কেল পরিবর্তনের কারণে যে বেতন পুনর্নির্ধারণ হবে, সেটি এক বিষয়; আর নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট আরেকটি বিষয়।

নতুন ও পুরোনো কর্মচারীর বেতনে পার্থক্য কেন হতে পারে

নতুন স্কেলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী সাধারণত সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পাবেন। অন্যদিকে আগে থেকেই চাকরিতে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে—

বর্তমান মূল বেতন + পূর্বের ইনক্রিমেন্ট + নতুন পে-ফিক্সেশন বিধান

—এসব বিবেচনা করতে হবে।

এ কারণে একই গ্রেডে থাকা দুই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন সবসময় একই হবে—এমন নয়। চাকরির মেয়াদ ও ইনক্রিমেন্টের অবস্থান অনুযায়ী পার্থক্য থাকতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণেও পুরোনো ও নতুন কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশের পর এখন মূল কাজ পে-ফিক্সেশন

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে এখন বিষয়টি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে। সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট তালিকায় চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ফলে এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—

  1. নিজ গ্রেডের নতুন মূল বেতন জানা;
  2. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন যাচাই করা;
  3. নতুন পে-ফিক্সেশন অনুযায়ী ধাপ নির্ধারণ করা;
  4. প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা যাচাই করা;
  5. ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ধাপে প্রাপ্য বৃদ্ধি হিসাব করা;
  6. পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি ও ১ জুলাইয়ের বেতন পরিবর্তন হিসাব করা;
  7. ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রযোজ্য ভাতাগুলো আলাদাভাবে হিসাব করা।

এক নজরে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন

সময়৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেড১০ম–২০তম গ্রেড
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬বাড়তি অংশের ৪০%বাড়তি অংশের ৫০%
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭বাড়তি অংশের ৭০%বাড়তি অংশের ৭৫%
১ জুলাই ২০২৭১০০%১০০%
১ জানুয়ারি ২০২৮নতুন ভাতা কার্যকরনতুন ভাতা কার্যকর

শেষ কথা

Increment Chart 2026 মূলত নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে একজন কর্মচারীর বেতন ধাপ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। তবে এটি দেখে শুধু প্রারম্ভিক বেতন নয়, সংশ্লিষ্ট গ্রেডে ধারাবাহিক ইনক্রিমেন্টের পর বেতন কোথায় পৌঁছাবে—সেটিও বোঝা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন পে স্কেল আর নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট এক জিনিস নয়। নতুন পে স্কেলের কারণে বেতন পুনর্নির্ধারণ হবে, এরপর বিধি অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হবে। আবার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর বাড়তি অংশও ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। তাই প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রকৃত নতুন বেতন জানতে গ্রেড, ৩০ জুনের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের ধাপ এবং সরকারি পে-ফিক্সেশন বিধান—সবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি গেজেট এবং আপনার দেওয়া ইনক্রিমেন্ট চার্ট—দুই তথ্য মিলিয়ে হিসাব করলেই একজন কর্মচারীর ২০২৬, ২০২৭ ও পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য মূল বেতনের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।

Increment Chart Donwload Link: New-Pay-Scale-Chart-pdf

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *