আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

পে-ফিক্সেশনে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও ১০ম থেকে ৭ম গ্রেড—যেভাবে দেখাতে হবে

সরকারি চাকরিতে কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, পদোন্নতি বা পদ আপগ্রেড এবং Corresponding Scale-এর মাধ্যমে বেতন সমন্বয়ের ইতিহাস পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো কর্মচারী তৃতীয় শ্রেণির পদে একাধিক টাইম স্কেল পাওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সিলেকশন গ্রেড অর্জন করে থাকেন এবং পরে পদটি আপগ্রেড হয়ে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পর পূর্বের সুবিধা সমন্বয়ের মাধ্যমে ৭ম গ্রেডে অবস্থান করেন—তাহলে তার বেতন ইতিহাস সাধারণ পে-ফিক্সেশনের তুলনায় জটিল।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন কার্যক্রমে এ ধরনের পুরোনো বেতন-ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর জন্য পৃথক পেজ রয়েছে এবং iBAS++-এ বর্তমানে ২০২৬ সালের Pay Fixation কার্যক্রমের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

মূল বিষয় হলো—পুরোনো সুবিধা বাদ দেওয়া যাবে না

কোনো কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড দেখে শুধু বর্তমান মূল বেতন বসিয়ে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা যথেষ্ট নয়। তার পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ধারাবাহিকতা যাচাই করতে হবে।

iBAS++-এর সরকারি সার্ভিস ইনফরমেশন ফরমে পদোন্নতি/উচ্চতর স্কেলের তথ্যের জন্য আলাদাভাবে প্রাপ্তির তারিখ, বেতন গ্রেড, বেতন স্কেল এবং মূল বেতন দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বেতন ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

এ কারণে একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে যদি তিনটি টাইম স্কেল, একটি সিলেকশন গ্রেড এবং পরবর্তীতে পদ আপগ্রেডের ঘটনা থাকে, তাহলে প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।

তৃতীয় শ্রেণির পদ থেকে বেতন-ইতিহাসের শুরু

ধরা যাক, কর্মচারী প্রথমে তৃতীয় শ্রেণির একটি পদে যোগদান করেন। সেই সময় যে গ্রেড বা বেতনস্কেলে তার মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছিল, সেটিই হবে বেতন-ইতিহাসের প্রথম ধাপ।

এরপর ওই পদে চাকরিকালীন তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি টাইম স্কেল অর্জন করেছেন।

তাহলে বেতন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা হবে—

মূল পদ/মূল স্কেল → ১ম টাইম স্কেল → ২য় টাইম স্কেল → ৩য় টাইম স্কেল।

প্রতিটি টাইম স্কেলের ক্ষেত্রে অন্তত চারটি বিষয় স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন:

  • টাইম স্কেল প্রাপ্তির তারিখ;
  • সংশ্লিষ্ট গ্রেড বা স্কেল;
  • টাইম স্কেল পাওয়ার পর নির্ধারিত মূল বেতন;
  • সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের নম্বর ও তারিখ।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এ ‘উচ্চতর স্কেল (টাইম স্কেল)’কে পৃথক বেতনস্কেল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মূল স্কেল, সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও সিনিয়র স্কেলও পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনটি টাইম স্কেল একসঙ্গে না দেখিয়ে আলাদা করে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ

অনেক ক্ষেত্রে কর্মচারীরা পে-ফিক্সেশনের সময় শুধু লিখে থাকেন—‘৩টি টাইম স্কেল প্রাপ্ত’। কিন্তু জটিল সার্ভিস হিস্টরির ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

বরং তথ্যটি এভাবে উপস্থাপন করা অধিক স্বচ্ছ—

১ম টাইম স্কেল: কার্যকর তারিখ — সংশ্লিষ্ট স্কেল — নির্ধারিত মূল বেতন।

২য় টাইম স্কেল: কার্যকর তারিখ — সংশ্লিষ্ট স্কেল — নির্ধারিত মূল বেতন।

৩য় টাইম স্কেল: কার্যকর তারিখ — সংশ্লিষ্ট স্কেল — নির্ধারিত মূল বেতন।

এর ফলে পরবর্তী সময়ে কোনো হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বুঝতে পারবেন, কর্মচারী কোন পর্যায়ে কোন সুবিধা পেয়েছেন এবং পরবর্তী স্কেল নির্ধারণে সেই সুবিধার কী প্রভাব পড়েছে।

এরপর দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সিলেকশন গ্রেড

এরপর যদি ওই কর্মচারী দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে একটি সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকেন, তাহলে সেটিও পৃথক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

অর্থাৎ বেতন ইতিহাস হবে—

মূল স্কেল → ১ম টাইম স্কেল → ২য় টাইম স্কেল → ৩য় টাইম স্কেল → সিলেকশন গ্রেড।

এখানে সিলেকশন গ্রেডের অফিস আদেশের তারিখ, কার্যকর তারিখ, গ্রেড/স্কেল এবং ওই সময়ে নির্ধারিত মূল বেতন সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর কাঠামোতেই মূল স্কেল, সিলেকশন গ্রেড স্কেল এবং উচ্চতর স্কেল বা টাইম স্কেলকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এরপর পদ আপগ্রেড হয়ে ১০ম গ্রেড

আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটে যখন তৃতীয় শ্রেণির পদটি পরবর্তীতে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে আপগ্রেড হয়ে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়।

এই ঘটনাটি আগের তিনটি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের সঙ্গে এক করে দেখানো ঠিক হবে না। এটি একটি পদ আপগ্রেড/স্কেল উন্নীতকরণের পৃথক ঘটনা।

অতএব সার্ভিস হিস্টরিতে উল্লেখ করতে হবে—

পদ আপগ্রেড হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, ১০ম গ্রেড।

এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি/অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশের নম্বর, তারিখ ও কার্যকর তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

১০ম গ্রেডের পর Corresponding Scale কেন গুরুত্বপূর্ণ

এরপর যদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশের ভিত্তিতে পূর্বে অর্জিত তিনটি টাইম স্কেলকে Corresponding Scale-এর মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও পে-ফিক্সেশনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এ ১ জুলাই ২০১৫ থেকে পূর্ববর্তী বেতনস্কেলগুলোর বিপরীতে অনুরূপ বা Corresponding Scale কার্যকর করার কাঠামো দেওয়া হয়েছিল।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে শুধু ‘১০ম গ্রেডে পদ আপগ্রেড’ লিখলেই পুরো ইতিহাস শেষ হবে না। বরং পরবর্তী সমন্বয়ের ভিত্তিও উল্লেখ করতে হবে।

১০ম গ্রেড থেকে ৭ম গ্রেড—এটিকে কীভাবে উপস্থাপন করবেন

আপনার বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডে পদ আপগ্রেড হওয়ার পর পূর্বে প্রাপ্ত তিনটি টাইম স্কেলের সুবিধা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী Corresponding Scale-এর মাধ্যমে সমন্বয় করে বর্তমানে ৭ম গ্রেডে অবস্থান করছেন।

সেক্ষেত্রে বেতন ইতিহাসের কাঠামো হবে—

তৃতীয় শ্রেণির মূল পদ
↓
১ম টাইম স্কেল
↓
২য় টাইম স্কেল
↓
৩য় টাইম স্কেল
↓
দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সিলেকশন গ্রেড
↓
পদ আপগ্রেড হয়ে ১০ম গ্রেড
↓
অর্থ মন্ত্রণালয়ের Corresponding Scale/সমন্বয় আদেশ
↓
সমন্বিত বেতন নির্ধারণ
↓
বর্তমান ৭ম গ্রেড

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—৭ম গ্রেডে অবস্থান করার কারণ যদি সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশে পূর্ববর্তী টাইম স্কেল সমন্বয়ের ফল হিসেবে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে ৭ম গ্রেডকে নতুন করে ‘চতুর্থ টাইম স্কেল’ বা ‘নতুন সিলেকশন গ্রেড’ হিসেবে লেখা উচিত হবে না।

কোন নামে বা কোন ধরনের সুবিধা হিসেবে ৭ম গ্রেড নির্ধারিত হবে, তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আদেশের ভাষা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।

iBAS++-এ বেতন ইতিহাসের গুরুত্ব

iBAS++ হলো সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা। এর সঙ্গে কর্মচারী ডাটাবেস, পেনশন ডাটাবেস, বেতন বিল, GPF এবং কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে। iBAS++-এর সরকারি বর্ণনায় Pay Fixation-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব সার্ভিস-সংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড করার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন নিয়োগের পে-ফিক্সেশন ফরমেও নিয়োগ আদেশ, নিয়োগের তারিখ, যোগদানের তারিখ, যোগদানের সময়কার পদবি, গ্রেড/বেতনস্কেল এবং নির্ধারিত মূল বেতনের তথ্য চাওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি সার্ভিস ইনফরমেশন ফরমে পদোন্নতি/উচ্চতর স্কেলের তথ্যের জন্য একাধিক সারি রাখা হয়েছে, যেখানে প্রাপ্তির তারিখ, গ্রেড, স্কেল এবং মূল বেতন উল্লেখ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

এ থেকে স্পষ্ট যে জটিল বেতন ইতিহাসকে এক লাইনে না লিখে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করাই অধিক স্বচ্ছ।

পে-ফিক্সেশনের সময় যেসব কাগজ প্রস্তুত রাখা ভালো

এ ধরনের কর্মচারীর ক্ষেত্রে নিচের নথিগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত—

১. মূল নিয়োগপত্র
২. যোগদানপত্র
৩. মূল পদের গ্রেড/বেতনস্কেলের আদেশ
৪. ১ম টাইম স্কেলের আদেশ
৫. ২য় টাইম স্কেলের আদেশ
৬. ৩য় টাইম স্কেলের আদেশ
৭. সিলেকশন গ্রেডের আদেশ
৮. দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে পদ/মর্যাদা সংক্রান্ত আদেশ
৯. ১০ম গ্রেডে পদ আপগ্রেডের আদেশ
১০. Corresponding Scale বা পূর্ববর্তী সুবিধা সমন্বয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ
১১. ৭ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের আদেশ/নথি
১২. সর্বশেষ পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশন বিবরণী ও ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত তথ্য।

২০১৫ সালের অনলাইন পে-ফিক্সেশন বিবরণীতেও কর্মচারীর প্রথম যোগদানের তথ্য এবং ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে প্রাপ্য ধাপ ও নির্ধারিত মূল বেতনের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের কাঠামো ছিল।

২০১৫ সালের বেতনস্কেলের তথ্য কেন যাচাই করতে হবে

পুরোনো টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের সময়কার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গেজেটে ১ জুলাই ২০১৫ থেকে পূর্ববর্তী স্কেলগুলোর বিপরীতে Corresponding Scale নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তাই কর্মচারীর তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের কোনটি কখন কার্যকর হয়েছিল, তা যাচাই না করে শুধু বর্তমান ৭ম গ্রেড ধরে নতুন বেতন নির্ধারণ করলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে টাইম স্কেল পাওয়ার তারিখ, সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার তারিখ, পদ আপগ্রেডের কার্যকর তারিখ এবং Corresponding Scale প্রয়োগের তারিখ—এই চারটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একটি উদাহরণে পুরো বিষয়টি

ধরা যাক, একজন কর্মকর্তা/কর্মচারীর সার্ভিস হিস্টরি এমন—

ধাপ-১: তৃতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ
ধাপ-২: ১ম টাইম স্কেল
ধাপ-৩: ২য় টাইম স্কেল
ধাপ-৪: ৩য় টাইম স্কেল
ধাপ-৫: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সিলেকশন গ্রেড
ধাপ-৬: পদ আপগ্রেড হয়ে ১০ম গ্রেড
ধাপ-৭: অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী পূর্বে অর্জিত সুবিধার Corresponding Scale সমন্বয়
ধাপ-৮: সমন্বয়ের ফলে ৭ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।

এক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশনের ইতিহাসে শুধু ধাপ-৬ ও ধাপ-৮ লিখলে হবে না। ধাপ-১ থেকে ধাপ-৮ পর্যন্ত বেতন-ইতিহাসের প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত থাকা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোন কর্মচারী ১০ম গ্রেড থেকে সরাসরি ৭ম গ্রেডে যাবেন কি না, কিংবা তিনটি টাইম স্কেল কীভাবে সমন্বিত হবে—এটি শুধু সাধারণ Corresponding Scale-এর হিসাব দিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাবে না।

এটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পদ আপগ্রেডের আদেশ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ, পূর্বের টাইম স্কেলের আদেশ, সিলেকশন গ্রেডের আদেশ এবং কার্যকর তারিখগুলোর ওপর।

অর্থাৎ একই ধরনের সার্ভিস হিস্টরি থাকলেও আদেশের ভাষা বা কার্যকর তারিখ ভিন্ন হলে বেতন নির্ধারণের ফলও ভিন্ন হতে পারে।

কর্মচারীদের জন্য করণীয়

পে-ফিক্সেশন করার আগে প্রথমেই নিজের পুরো Pay History তৈরি করে নেওয়া উচিত। একটি কাগজে বা টেবিলে লিখে রাখুন—

প্রাপ্তির তারিখ | সুবিধার ধরন | গ্রেড/স্কেল | মূল বেতন | আদেশ নম্বর | কার্যকর তারিখ।

এরপর নিয়োগ থেকে শুরু করে বর্তমান ৭ম গ্রেড পর্যন্ত প্রতিটি পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে সাজাতে হবে।

এভাবে প্রস্তুত করলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সহজে বুঝতে পারবেন—কোন বেতন কোন আদেশের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছিল এবং বর্তমান গ্রেডে পৌঁছানোর পেছনে পূর্ববর্তী কোন কোন সুবিধা কাজ করেছে।

উপসংহার

তৃতীয় শ্রেণির পদ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, একাধিক টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, ১০ম গ্রেডে পদ আপগ্রেড এবং পরবর্তীতে Corresponding Scale-এর মাধ্যমে ৭ম গ্রেডে অবস্থান—এ ধরনের সার্ভিস হিস্টরি পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সাধারণ হিসাবের চেয়ে বেশি সতর্কতার দাবি রাখে।

সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো—কোনো পুরোনো সুবিধা বাদ না দিয়ে প্রতিটি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, পদ আপগ্রেড এবং Corresponding Scale-এর আদেশকে আলাদা ধাপ হিসেবে দেখানো এবং শেষে সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী বর্তমান গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বর্তমান সরকারি পেজ এবং iBAS++-এর চলমান Pay Fixation ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে এখন কর্মচারীদের পুরোনো সার্ভিস রেকর্ড ও বেতন নির্ধারণের আদেশগুলো মিলিয়ে নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ১০ম থেকে ৭ম গ্রেডে যাওয়ার নির্দিষ্ট বেতন-ফিক্সেশন অঙ্ক নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশের নম্বর, তারিখ এবং তিনটি টাইম স্কেলের সঠিক কার্যকর তারিখ অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *