১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর, এখন সবার নজর গেজেটে: আগামী সপ্তাহে সচিব কমিটির বৈঠকে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে। তবে কার্যকর হওয়ার ঘোষণা এলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন পে-স্কেলে ১৩০ শতাংশ, ১৪০ শতাংশ বা বিভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির নানা আলোচনা সামনে আসলেও অনেক কর্মচারী বলছেন, এসব সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক নয়, তাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
পুরোনো বেসিকে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়েছে অনেকের
১ জুলাই উপলক্ষে অনেক সরকারি কর্মচারী জানিয়েছেন, তাদের পুরোনো বেসিক বেতনের সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে অনেকেই জানতে চাইছেন, নতুন পে-স্কেলের অধীনে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ, বেতন ফিক্সেশন এবং বকেয়া সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে গেজেট প্রকাশের পরই।
গেজেট প্রকাশের দাবিতে বাড়ছে প্রত্যাশা
সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ফোরামে এখন একটিই দাবি বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—”দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে হবে।” তাদের মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা বাস্তবে পূর্ণতা পাবে তখনই, যখন আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করে বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
চাকরিজীবীদের অনেকে মনে করছেন, গেজেটে বেতন কাঠামো, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, ইনক্রিমেন্টের সমন্বয়, কার্যকর তারিখ, অ্যারিয়ার (যদি প্রযোজ্য হয়) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নির্দেশনা স্পষ্ট করা হবে।
আগামী সপ্তাহে সচিব কমিটির বৈঠকের সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে সচিব কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই বৈঠকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং গেজেট প্রকাশের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তবে বৈঠকের তারিখ, আলোচ্যসূচি কিংবা গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
কর্মচারীদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশের প্রত্যাশা, নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নে আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা থাকবে না। তাদের মতে, গেজেট দ্রুত প্রকাশ হলে বেতন নির্ধারণ, সফটওয়্যার হালনাগাদ, বিল প্রস্তুত এবং নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন প্রদান সহজ হবে।
একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বৈষম্য তৈরি হবে না এবং সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সমানভাবে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন।
এখন যা জানা গেছে
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে।
- অনেক কর্মচারীর পুরোনো বেসিক বেতনে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়েছে।
- এখনো আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি।
- আগামী সপ্তাহে সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- গেজেট প্রকাশের পরই বেতন ফিক্সেশন ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গেজেট প্রকাশই এখন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কবে প্রকাশ হবে বহুল প্রত্যাশিত প্রজ্ঞাপন এবং কবে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো।


