নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ ও তা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির নবগঠিত ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান আর্থিক সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় এবং চিকিৎসা খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রায় ২২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারের মধ্যে আর্থিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের অনেকেই সীমিত আয়ে সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ অবস্থায় আর কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রত্যাশা, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য তৈরি হবে।
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন
এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ১০১ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আব্দুল মালেককে সভাপতি এবং ক্রীড়া অধিদপ্তরের আশিকুল ইসলামকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আব্দুল খালেক আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নাম ঘোষণা করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নকে সংগঠনটির অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি যুগোপযোগী বেতন কাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্মারকলিপিতে তাই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও এখন নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


