৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন ভাতা কত? গেজেটে এক নজরে বিস্তারিত

সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার হার নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত গেজেটের সংশ্লিষ্ট অংশে বিভিন্ন শ্রেণি ও কর্মস্থলের ভিত্তিতে যাতায়াত, মোবাইল, ধোলাই, আপ্যায়ন, পাহাড়ি, হাওড়/দ্বীপ/চর, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ এবং প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা-র হার উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক নজরে বিভিন্ন ভাতার হার

ভাতার নামপ্রাপ্যতার হার/পরিমাণ
যাতায়াত ভাতা১১তম–২০তম গ্রেড, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মস্থল হলে মাসিক ৬০০ টাকা
মোবাইল ভাতা৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব ৫০০ টাকা; ৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেড ১৫০ টাকা
ধোলাই ভাতাপ্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাসিক ৩০০ টাকা
আপ্যায়ন ভাতা২,০০০ / ১,০০০ / ৯০০ / ৬০০ টাকা, পদভেদে
পাহাড়ি ভাতামূল বেতনের ২০%, সর্বোচ্চ ৫,০০০–৫,৫০০ টাকা
হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতামূল বেতনের ২০%, সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বে মূল বেতনের ১০%
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতাসন্তানপ্রতি মাসিক ৩,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ২ সন্তান

যাতায়াত ভাতা ৬০০ টাকা

গেজেট অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত হলে মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাবেন। অর্থাৎ শুধু গ্রেডের মধ্যে থাকলেই হবে না—কর্মস্থল সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গাড়ি ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।

সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা

নতুন পে-স্কেলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনা। গেজেটের হার অনুযায়ী—

  • ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: মাসিক ৫০০ টাকা
  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: মাসিক ১৫০ টাকা

অর্থাৎ ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরাও নতুন করে মোবাইল ভাতার আওতায় আসছেন।

ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা

গেজেটের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাসিক ৩০০ টাকা ধোলাই ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সব সরকারি কর্মচারীর জন্য সাধারণ ভাতা নয়; নির্দিষ্ট কাজ বা প্রযোজ্যতার ভিত্তিতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

আপ্যায়ন ভাতা পদভেদে

নতুন বেতনস্কেলে আপ্যায়ন ভাতার ক্ষেত্রেও পদভেদে আলাদা হার রাখা হয়েছে। গেজেটের সংশ্লিষ্ট অংশ অনুযায়ী—

  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব/প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব: ২,০০০ টাকা
  • সিনিয়র সচিব/সচিব: ১,০০০ টাকা
  • অতিরিক্ত সচিব: ৯০০ টাকা
  • যুগ্মসচিব/অন্যান্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: ৬০০ টাকা

এগুলো মাসিক আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে নির্ধারিত।

পাহাড়ি ভাতা: মূল বেতনের ২০ শতাংশ

পার্বত্য জেলার নির্দিষ্ট এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য পাহাড়ি ভাতার বিধান রাখা হয়েছে।

জেলা সদর ও সদর উপজেলার ক্ষেত্রে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা এবং অন্যান্য উপজেলায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত পাহাড়ি ভাতা প্রাপ্য হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কারও প্রাপ্য ২০ শতাংশের হিসাব সর্বোচ্চ সীমার বেশি হলেও তিনি নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার বেশি পাবেন না।

হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় ২০ শতাংশ

হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্যও আলাদা ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা মাসিক ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ এটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য; দেশের সব কর্মচারীর জন্য সাধারণ ভাতা নয়।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে থাকা ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মাসিক প্রেষণ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখানে ‘প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ’ এবং সাধারণ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ—দুই বিষয়কে এক করে দেখলে চলবে না। গেজেটের বিধানটি প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: মাসে ৩ হাজার টাকা

নতুন পে-স্কেলের গুরুত্বপূর্ণ নতুন সুবিধাগুলোর একটি হলো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা। নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য সন্তানপ্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হবে এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ দুইজন যোগ্য সন্তান থাকলে মাসিক সর্বোচ্চ ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত এ ভাতা পাওয়া যেতে পারে।

শুধু এসব ভাতাই নয়

গেজেটের সংশ্লিষ্ট অংশে উল্লিখিত ভাতাগুলো ছাড়াও জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধার বিধান রয়েছে। যেমন, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা এবং বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাই একজন কর্মচারী কোন গ্রেডে আছেন, কোথায় কর্মরত, কী ধরনের দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্দিষ্ট ভাতার যোগ্যতার শর্ত পূরণ করছেন কি না—এসবের ওপর তাঁর মোট মাসিক প্রাপ্যতা নির্ভর করবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

নতুন পে-স্কেলের ভাতা নিয়ে হিসাব করার সময় শুধু মূল বেতন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। একই গ্রেডের দুই কর্মচারীর কর্মস্থল ভিন্ন হলে পাহাড়ি, হাওড়/দ্বীপ/চর বা যাতায়াত ভাতার কারণে মোট প্রাপ্যতায় পার্থক্য হতে পারে। আবার কিছু ভাতা নির্দিষ্ট পদ, দায়িত্ব বা যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুমোদিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা এবং সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সুতরাং, নতুন পে-স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়—কর্মস্থল, গ্রেড, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত পারিবারিক যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হয়ে একজন সরকারি কর্মচারীর মোট মাসিক বেতন-ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

Source File

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *