৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে কত সময় লাগে, ২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা কী বলছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগে। এর পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক, আইনগত ও কারিগরি বেশ কিছু প্রস্তুতি। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হতে কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে।

চলতি বছরের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন মাস পর নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অনুমোদনের পরই কেন প্রজ্ঞাপন হয় না?

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় বেতন কাঠামোর অনুমোদন পাওয়া এবং চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ—দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়, সেখানে মূলত নতুন বেতন কাঠামোর সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন নির্ধারণ করা হবে, বেতন-ভাতার সম্ভাব্য কাঠামো কী হবে—এ ধরনের বিষয়গুলো সেখানে প্রধানত উল্লেখ থাকে। কিন্তু অনুমোদনের পর সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নযোগ্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপনে রূপ দিতে আরও বিস্তারিত কাজ করতে হয়।

এর মধ্যে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া প্রস্তুত করা। এই কাজটি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে যুক্ত হয় বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশনা

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের সময় পে-স্কেলের মূল কাঠামো অনুমোদিত হলেও পরবর্তী প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সেটি কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা দিতে হয়।

এ বিষয়ে সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, মন্ত্রিসভায় পাঠানো পে-স্কেলের খসড়ায় মূলত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে, তার একটি সামগ্রিক প্রস্তাব থাকে। কিন্তু অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার ক্ষেত্রে কীভাবে নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হবে এবং হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা ও নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়।

অর্থাৎ, মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পরও কাজ শেষ হয়ে যায় না। বরং অনুমোদিত কাঠামোকে বাস্তবে প্রয়োগের উপযোগী করতে শুরু হয় বিস্তারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া।

২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন পর্যন্ত সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিন মাস। ৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদনের পর ১৫ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল।

এই সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি, বিভিন্ন বিধান ও নির্দেশনা চূড়ান্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলো সম্পন্ন করার কাজ হয়েছিল।

ফলে নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেই পরদিন বা কয়েক দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে—এমনটি অতীতের নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রেও কী হতে পারে?

অতীতের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ একটি পৃথক ও সময়সাপেক্ষ ধাপ। বিশেষ করে নতুন বেতন কাঠামোয় যদি ফিক্সেশন, বেতন নির্ধারণ, বিভিন্ন গ্রেডের আন্তঃসম্পর্ক, ভাতা, পদোন্নতি, টাইমস্কেল বা অন্যান্য বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় থাকে, তাহলে সেগুলোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

তাই নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের তারিখকে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের তারিখ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক-আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়।

সারকথা, ২০১৫ সালের নজির অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় পে-স্কেল অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারিতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রেও অনুমোদনের পরপরই গেজেট প্রকাশ না হলে সেটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রস্তুতের প্রক্রিয়াটিই সময়ের অন্যতম বড় কারণ হতে পারে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *