পে-স্কেলের অনুমোদন হয়েছে, গেজেট প্রকাশে দেরি কেন?
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পরও প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—অনুমোদনের পরও কেন এত সময় লাগছে? তবে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিতদের মতে, কোনো প্রস্তাব অনুমোদন পেলেই সঙ্গে সঙ্গে গেজেট প্রকাশ করা হয় না। এর আগে কয়েকটি প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে প্রথমে অনুমোদিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসআরও (Statutory Regulatory Order) নম্বর সংযোজন করা হয়।
এরপর প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)-এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সবশেষে মুদ্রণ ও প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন হলে গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হয়।
অনুমোদনের পরও কেন সময় লাগে?
পে-স্কেলের মতো বড় একটি সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু মন্ত্রিসভা বা সরকারের অনুমোদনই শেষ ধাপ নয়। অনুমোদিত সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর সরকারি নথিতে রূপ দিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
প্রথম ধাপে অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এরপর আইনগত দিক পরীক্ষা করতে তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের আওতায় আসে। ভেটিংয়ের সময় কোনো সংশোধন বা সংযোজন প্রয়োজন হলে তা করা হতে পারে।
এরপর প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বরসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়। সর্বশেষ ধাপে বিজি প্রেসে মুদ্রণ ও প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন হয়।
গেজেট প্রকাশ না হওয়া মানেই কি নতুন জটিলতা?
প্রদত্ত তথ্যের মূল বক্তব্য হলো—অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তাই শুধু কয়েক দিন বা কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে বলেই পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
বিশেষ করে খসড়া প্রস্তুত, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, এসআরও নম্বর সংযোজন এবং বিজি প্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া—প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
এখন নজর গেজেটের দিকে
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা রয়েছে। অনুমোদনের খবরের পর সেই প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশে সামান্য বিলম্বও চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করছে।
তবে অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত দাপ্তরিক ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—খসড়া, ভেটিং ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা কত দ্রুত শেষ করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
অর্থাৎ, পে-স্কেলের অনুমোদন হয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশ একটি পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগা নিজেই নতুন কোনো জটিলতার প্রমাণ নয়।


