পে-স্কেল বাস্তবায়নে আবারও সচিব কমিটির বৈঠকের সম্ভাবনা: দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষ
নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্যে আবারও সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার খবর সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় পে-স্কেল–সংক্রান্ত সচিব কমিটির আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার এখনও কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।
এর আগে আজও পে-স্কেল–সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা রয়েছে। ফলে টানা বৈঠকের পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সুপারিশ বা গেজেট প্রকাশের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
বারবার বৈঠক, কিন্তু সিদ্ধান্ত কবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে পে-স্কেল নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, সভা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হলেও এখনও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিটি বৈঠকের পর নতুন করে আরেকটি বৈঠকের খবর এলেও কবে চূড়ান্ত সুপারিশ হবে এবং কবে গেজেট প্রকাশিত হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেক কর্মচারীর মতে, বৈঠকের সংখ্যা বাড়লেও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তায় রূপ নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ
পে-স্কেল ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, “মিটিং মানেই শুধু আরেকটি মিটিংয়ের প্রস্তুতি”। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বারবার বৈঠক আয়োজনের পরিবর্তে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এত সময় লাগছে কেন।
আবার কিছু কর্মচারী ব্যঙ্গ করে লিখছেন, “মিটিং হচ্ছে, সুপারিশ হচ্ছে, কিন্তু গেজেট আর বাস্তবায়নের দেখা মিলছে না।”
তবে এসব মন্তব্য ব্যক্তিগত মতামত; এগুলো সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ সচিব কমিটির বৈঠক?
পে-স্কেল–সংক্রান্ত সচিব কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত, আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং বাস্তবায়ন কৌশল পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য সুপারিশ প্রস্তুত করা।
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে এই বৈঠকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের অপেক্ষা অব্যাহত থাকে।
কর্মচারীদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, এখন আর নতুন বৈঠকের ঘোষণা নয়; বরং দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সরকার যদি নির্দিষ্ট সময়সূচি জানায়, তাহলে কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ অনেকটাই কমে আসবে।
এখন কী দেখার?
যদি আগামীকাল সকাল ১০টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেখানে পে-স্কেলের বিভিন্ন সুপারিশ, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৈঠক শেষে কী সিদ্ধান্ত হবে এবং সেটি কত দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোবে—সেটিই এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উল্লেখ্য, আগামীকালের বৈঠকের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বা সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে তবেই সেটিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


