৯ম পে স্কেল কাঠামো ২০২৬ । প্রস্তাবিত পে স্কেল মোতাবেক কোন গ্রেডে বেতন কত হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সাম্প্রতিক বাজেট ও সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হতে পারে।
প্রস্তাবিত ও খসড়া কাঠামো অনুযায়ী, এবার বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডগুলোতে (১১ থেকে ২০ তম গ্রেডে) সর্বোচ্চ ১৩০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত এবং উচ্চতর গ্রেডগুলোতে প্রায় ১০০% মূল বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের বৈষম্য কমাতে অনুপাত ১:৯.৪৫ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ আনা হয়েছে।
নিচে প্রস্তাবিত ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতনের (Basic Salary) তালিকা দেওয়া হলো:
১ম থেকে ২০তম গ্রেডের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো ২০২৬
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন (২০১৫ স্কেল) | প্রস্তাবিত নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন (২০২৬) | সর্বোচ্চ সীমা (ধাপ অনুযায়ী) |
| গ্রেড-১ | ৭৮,০০০/- (নির্ধারিত) | ১,৬০,০০০/- (নির্ধারিত) | ১,৬০,০০০/- |
| গ্রেড-২ | ৬৬,০০০/- | ১,৩২,০০০/- | ১,৫৩,০০০/- |
| গ্রেড-৩ | ৫৬,৫০০/- | ১,১৩,০০০/- | ১,৪৮,৮০০/- |
| গ্রেড-৪ | ৫০,০০০/- | ১,০০,০০০/- | ১,৪২,৪০০/- |
| গ্রেড-৫ | ৪৩,০০০/- | ৮৬,০০০/- | ১,৩৯,৭০০/- |
| গ্রেড-৬ | ৩৫,৫০০/- | ৭১,০০০/- | ১,৩৪,০০০/- |
| গ্রেড-৭ | ২৯,০০০/- | ৫৮,০০০/- | ১,২৬,৮০০/- |
| গ্রেড-৮ | ২৩,০০০/- | ৪৭,২০০/- | ১,১৩,৭০০/- |
| গ্রেড-৯ | ২২,০০০/- | ৪৫,১০০/- | ১,০৮,৮০০/- |
| গ্রেড-১০ | ১৬,০০০/- | ৩২,০০০/- | ৭৭,৩০০/- |
| গ্রেড-১১ | ১২,৫০০/- | ২৫,০০০/- | ৬০,৫০০/- |
| গ্রেড-১২ | ১১,৩০০/- | ২৪,৩০০/- | ৫৮,৭০০/- |
| গ্রেড-১৩ | ১১,০০০/- | ২৪,০০০/- | ৫৮,০০০/- |
| গ্রেড-১৪ | ১০,২০০/- | ২৩,custom/- | ৫৬,৮০০/- |
| গ্রেড-১৫ | ৯,৭০০/- | ২২,৮০০/- | ৫৫,২০০/- |
| গ্রেড-১৬ | ৯,৩০০/- | ২১,৯০০/- | ৫২,৯০০/- |
| গ্রেড-১৭ | ৯,০০০/- | ২১,৪০০/- | ৫১,৯০০/- |
| গ্রেড-১৮ | ৮,৮০০/- | ২১,০০০/- | ৫০,৯০০/- |
| গ্রেড-১৯ | ৮,৫০০/- | ২০,৫০০/- | ৪৯,৬০০/- |
| গ্রেড-২০ | ৮,২৫০/- | ২০,০০/- | ৪৮,৪০০/- |
অন্যান্য প্রস্তাবিত প্রধান পরিবর্তনসমূহ:
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া: নতুন স্কেলটি বিপুল ব্যয়ের কারণে দুই বা তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চলছে, তবে প্রথম ধাপেই (অর্থাৎ এই জুলাই থেকেই) বর্ধিত মূল বেতন বা বেসিক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
ভাতা বৃদ্ধি: চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা (২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা) এবং বৈশাখী উৎসব ভাতা (বিদ্যমান ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০%) করার জোরালো প্রস্তাব রয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি অর্থ মন্ত্রণালয়, পে-কমিশন ও সচিব কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৈরি খসড়া ও প্রস্তাবিত তালিকা। চলতি জুলাই মাসে চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হলে সেটিই আইনগতভাবে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পে স্কেল গেজেট কবে জারি হবে অতীত ইতিহাস অনুযায়ী?
বাংলাদেশের সরকারি পে স্কেলের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাজেট ঘোষণার পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি হতে সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। তবে, বেতন কাঠামোটি কিন্তু পূর্বঘোষিত পে স্কেল কার্যকরের তারিখ (সাধারণত ১ জুলাই) থেকেই ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) কার্যকর করা হয়।
বিগত দুটি প্রধান বেতন স্কেলের ইতিহাস লক্ষ্য করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে:
৮ম জাতীয় বেতন স্কেল (২০১৫): এটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে পাস হওয়ার পর চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে। তবে কর্মচারীরা ১ জুলাই, ২০১৫ থেকেই বর্ধিত মূল বেতন পেয়েছিলেন।
৭ম জাতীয় বেতন স্কেল (২০০৯): এই স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল ২ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে। এটিও ভূতাপেক্ষভাবে ১ জুলাই, ২০০৯ থেকে কার্যকর করা হয়েছিল।
অতীতের এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী: নতুন পে স্কেল যদি ১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণাও দেওয়া হয়, তাহলেও বিভিন্ন ধাপের যাচাই-বাছাই, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং আইনি স্ক্রুটিনি শেষ করে চূড়ান্ত গেজেট জারি হতে হতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে গেজেট দেরিতে হলেও সরকারি কর্মচারীরা নতুন স্কেল ঘোষণার তারিখ (যেমন ১ জুলাই) থেকেই বকেয়াসহ (Arrear) বর্ধিত বেতন পেয়ে থাকেন।



