New VAT TAX Rate । ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাট ও উৎসে করের নতুন হার পরিপত্র?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন সেবা খাতে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ও উৎসে কর (টিডিএস) কর্তনের হার নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেলের ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের নথিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপনের আলোকে সেবা গ্রহণের সময় প্রযোজ্য হারে মূসক ও উৎসে কর কর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা ক্রয়, বিল পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে মূসক ও উৎসে কর কর্তন করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সেবা খাত এবং করের হার অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালে উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ এবং উৎসে মূল্য সংযোজন কর কর্তন ও আদায় বিধিমালায় সংশোধনীসহ একাধিক করসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তথ্য রয়েছে।
বিভিন্ন সেবা খাতে আলাদা হারে কর
সিভাসুর নথির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূসক ও উৎসে কর আরোপযোগ্য বিভিন্ন সেবা খাতের কোড, সেবার নাম এবং প্রযোজ্য হারের বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। তালিকায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং, ভবন বা জায়গা ভাড়া, বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি সেবা, বিজ্ঞাপন, নিরাপত্তা সেবা, পরিবহন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শক সেবা, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল সেবা, টেলিযোগাযোগসহ বহু ধরনের সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নথিতে দেখা যায়, সেবার ধরনভেদে মূসক ও উৎসে করের হার এক নয়। অনেক সেবার ক্ষেত্রে মূসক ১৫ শতাংশ, আবার কিছু সেবায় ১০ শতাংশ, ৭.৫ শতাংশ, ৫ শতাংশ বা অন্যান্য নির্ধারিত হার রয়েছে। একইভাবে আয়কর আইনের আওতায় উৎসে করের হারও সেবাভেদে পরিবর্তিত হয়েছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি সেবা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা পরিচালনা, পরামর্শক সেবা, নিরাপত্তা সেবা, বিজ্ঞাপন, পরিবহন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বা প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ক্ষেত্রে পৃথক উৎসে কর কর্তনের বিধান তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে।
বিল পরিশোধের আগে কর কর্তনের নির্দেশনা
সিভাসুর অডিট সেলের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূসক ও উৎসে কর যথাযথভাবে কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো সেবা গ্রহণের পর বিল পরিশোধের সময় শুধু মূল বিলের পরিমাণ বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সেবার কোড ও প্রযোজ্য করের হার যাচাই করতে হবে।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রয় ও সেবা বিল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা, হিসাব শাখা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিশেষভাবে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ভুল হারে কর কর্তন বা প্রয়োজনীয় কর না কাটার কারণে পরবর্তী সময়ে হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাটকে সরকারের রাজস্ব আহরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সহজ করা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভ্যাট ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রস্তাব ও সংশোধন আনা হয়েছে।
এনবিআরের ২০২৬ সালের আপডেটেও বিভিন্ন সেবা ও খাতে ভ্যাট আদায়, উৎসে কর কর্তন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিভাসুর অডিট সেলের প্রকাশিত নথিটি মূলত এসব সংশোধিত বিধান বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আর্থিক কার্যক্রমে বাস্তবায়নের নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরকে সেবা গ্রহণ ও বিল পরিশোধের সময় সংযুক্ত তালিকায় উল্লেখ করা সেবা কোড এবং সংশ্লিষ্ট মূসক ও উৎসে করের হার অনুসরণ করতে হবে।
করদাতা ও সেবা প্রদানকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
এই নির্দেশনার প্রভাব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেবা প্রদানকারী ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক, প্রশিক্ষক, নিরাপত্তা সেবাদাতা, পরিবহনকারীসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারীর বিল পরিশোধের সময়ও প্রযোজ্য ভ্যাট ও উৎসে কর কর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সিভাসুর সঙ্গে সেবা বা সরবরাহের চুক্তিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সংশ্লিষ্ট সেবার কোড ও করের হার জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একই ধরনের মনে হলেও ভিন্ন সেবা কোডের আওতায় ভিন্ন হারে কর প্রযোজ্য হতে পারে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অর্থ ও হিসাবসংক্রান্ত বিভিন্ন ফরম ও নথি প্রকাশ করা হয়; এর মধ্যে আগের অর্থবছরের প্রযোজ্য মূসক ও উৎসে কর কর্তনসংক্রান্ত নথিও রয়েছে।
সার্বিকভাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী সিভাসুর বিভিন্ন সেবা ও বিল পরিশোধে নির্ধারিত হারে মূসক এবং উৎসে কর কর্তন বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনে সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের সঠিক কোড, ভ্যাটের হার এবং উৎসে করের হার যাচাই করে বিল নিষ্পত্তি করার নির্দেশনাই নথিটির মূল উদ্দেশ্য।




