৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১৭তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ ২০২৬: বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও টিফিন ভাতাসহ একনজরে নীট বেতন

০১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১৭তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের একটি বিস্তারিত হিসাব সামনে এসেছে। প্রদত্ত হিসাবচিত্রে ২০১৫ সালের মূল বেতন, নতুন পে-স্কেলের প্রাথমিক ধাপ, ইনক্রিমেন্টসহ পুনঃনির্ধারিত মূল বেতন, বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও টিফিন ভাতা, মোট বেতন, কর্তন এবং নীট বেতন—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে দেখানো হয়েছে।

এখানে বিশেষভাবে সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা-সাভার পৌরসভা ব্যতীত অন্যান্য এলাকার জন্য বাড়িভাড়া ধরে হিসাব করা হয়েছে। ফলে একই গ্রেড ও একই মূল বেতন হলেও কর্মস্থলভেদে প্রকৃত বেতন ভিন্ন হতে পারে।

সরকারি পর্যায়ে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে এবং নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

১৭তম গ্রেডে নতুন বেতন নির্ধারণের মূল বিষয়

প্রদত্ত চার্টের হিসাব অনুযায়ী, ১৭তম গ্রেডের ক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের বিভিন্ন ধাপকে ভিত্তি করে নতুন পে-স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে চলতি পর্যায়ের মূল বেতন হিসাব করা হয়েছে।

অর্থাৎ, ২০২৬ সালের প্রথম ধাপে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে নির্ধারিত অংশ কার্যকর হওয়ার কারণে নীট বেতনের হিসাবও সেই অনুযায়ী হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার কাঠামো রাখা হয়েছে।

হিসাবের কাঠামো

প্রদত্ত চার্টে মোটামুটি হিসাবটি এভাবে করা হয়েছে—

পুরোনো মূল বেতন → নতুন পে-স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ → ইনক্রিমেন্টসহ পুনঃনির্ধারিত মূল বেতন → পুরোনো মূল বেতন বাদ দিয়ে বর্ধিত অংশ → বর্ধিত অংশের ৫০% → চলতি পর্যায়ের মূল বেতন → ভাতাসমূহ → মোট বেতন → কর্তন → নীট বেতন।

এই পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি ইনক্রিমেন্ট ধাপ অনুযায়ী নীট বেতনও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাড়িভাড়া কীভাবে হিসাব করা হয়েছে?

প্রদত্ত চার্টটি সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা-সাভার পৌরসভা বাদে অন্যান্য এলাকার জন্য তৈরি। তাই এখানে বাড়িভাড়া নির্ধারণের হার সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য প্রযোজ্য হার ধরে হিসাব করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের গেজেটভিত্তিক বাড়িভাড়া কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেড ও কর্মস্থলের জন্য আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বাড়িভাড়া কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর না হয়ে আগের হারেই বাড়িভাড়া দেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে গেজেটের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন গ্রেডভিত্তিক বাড়িভাড়া কাঠামো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সুতরাং, এই চার্টের হিসাবকে নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট এলাকার জন্য প্রস্তুত একটি বেতন-হিসাব হিসেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ও টিফিন ভাতা

চার্টে চিকিৎসা ভাতা ও টিফিন ভাতাও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী—

  • চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা
  • টিফিন ভাতা: ২০০ টাকা
  • বাড়িভাড়া: সংশ্লিষ্ট মূল বেতন ও এলাকার হিসাব অনুযায়ী
  • এরপর সবগুলো যোগ করে মোট বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • মোট বেতন থেকে নির্দিষ্ট কর্তন বাদ দিয়ে নীট বেতন বের করা হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ ভাতা কাঠামো পরবর্তী ধাপে কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রকাশিত গেজেটভিত্তিক প্রতিবেদনে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতার নতুন হার নির্ধারণের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বরের এই চার্টে পুরোনো প্রযোজ্য ভাতার হার ব্যবহার করা হয়েছে।

শুরু ধাপে নীট বেতন কত?

প্রদত্ত চার্টের প্রথম ধাপে ১৭তম গ্রেডের পুরোনো মূল বেতন ৯,০০০ টাকা ধরা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে হিসাব অনুযায়ী—

পুরোনো মূল বেতন: ৯,০০০ টাকা
নতুন পে-স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ: ২১,৪০০ টাকা
পুনঃনির্ধারিত/প্রযোজ্য উচ্চ ধাপ: ২২,৫০০ টাকা
বর্ধিত অংশ: ১৩,৫০০ টাকা
বর্ধিত অংশের ৫০%: ৬,৭৫০ টাকা
চলতি পর্যায়ের মূল বেতন: ১৫,৭৫০ টাকা

এর সঙ্গে চার্ট অনুযায়ী—

  • বাড়িভাড়া: ৪,৫০০ টাকা
  • চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা
  • টিফিন ভাতা: ২০০ টাকা

ফলে মোট বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২১,৯৫০ টাকা।

এরপর চার্টে দেখানো ১০০ টাকা কর্তন বাদ দিলে নীট বেতন হয়—

২১,৮৫০ টাকা

অর্থাৎ ১৭তম গ্রেডে এই হিসাবের সর্বপ্রথম ধাপে কর্মচারীর নীট বেতন ২১,৮৫০ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ইনক্রিমেন্ট বাড়ার সঙ্গে নীট বেতনও বাড়বে

চার্টে পরবর্তী ধাপগুলোতে পুরোনো মূল বেতন ৯,৪৫০ টাকা, ৯,৯৩০ টাকা, ১০,৪৩০ টাকা, ১০,৯৬০ টাকা ইত্যাদি পর্যায়ে এগিয়েছে। প্রত্যেক ধাপে নতুন পে-স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ এবং ১ জুলাই ২০২৬-এর ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় নিয়ে বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ হিসাব করা হয়েছে।

ফলে মূল বেতন যত বাড়ছে, তার সঙ্গে বাড়িভাড়া এবং মোট বেতনও পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্তনের পরিমাণও কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।

এ কারণে ১৭তম গ্রেডের সব কর্মচারীর নীট বেতন একই হবে না। কার কতগুলো ইনক্রিমেন্ট, কোন ধাপে মূল বেতন, ১ জুলাই ২০২৬-এ কোন বেতন ধাপ প্রযোজ্য—এসবের ওপর নীট বেতন নির্ভর করবে।

সর্বোচ্চ ধাপের হিসাব

প্রদত্ত চার্টের শেষের দিকে ১৭তম গ্রেডের উচ্চতর বেতন ধাপগুলোতে নীট বেতন ৩৯ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

শেষ ধাপে চার্টে—

  • বাড়িভাড়া: ৮,৯২০ টাকা
  • চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা
  • টিফিন ভাতা: ২০০ টাকা
  • মোট বেতন: ৩৯,৬৯০ টাকা
  • কর্তন: ১৬০ টাকা
  • নীট বেতন: ৩৯,৫৩০ টাকা

দেখানো হয়েছে।

অর্থাৎ একই ১৭তম গ্রেডের মধ্যে কর্মচারীর বেতন ধাপ ও ইনক্রিমেন্টের পার্থক্যের কারণে নীট বেতনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

সন্তানের শিক্ষা ভাতা যোগ হলে নীট বেতন আরও বাড়বে

চার্টটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সন্তানের শিক্ষা ভাতাসহ নীট বেতন।

মূল নীট বেতনের সঙ্গে—

১ সন্তানের শিক্ষা ভাতা: ৫০০ টাকা
২ সন্তানের শিক্ষা ভাতা: ১,০০০ টাকা

যোগ করে আলাদা দুটি কলামে মোট নীট বেতন দেখানো হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো কর্মচারী শিক্ষা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলে চার্টের সাধারণ নীট বেতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ভাতা যুক্ত হবে।

উদাহরণ হিসেবে, প্রথম ধাপের নীট বেতন যদি ২১,৮৫০ টাকা হয়, তাহলে—

  • শিক্ষা ভাতা ছাড়া: ২১,৮৫০ টাকা
  • ১ সন্তানের শিক্ষা ভাতাসহ: ২২,৩৫০ টাকা
  • ২ সন্তানের শিক্ষা ভাতাসহ: ২২,৮৫০ টাকা

এই হিসাবটি প্রদত্ত চার্টের কাঠামো অনুসারে।

জিপিএফ থাকলে হাতে পাওয়া টাকা আরও কমবে

চার্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাগুলোর একটি হলো—এখানে দেখানো ‘নীট টাকা’কে চূড়ান্ত হাতে পাওয়া টাকা হিসেবে ধরা যাবে না, যদি কর্মচারীর নিজস্ব জিপিএফ সাবস্ক্রিপশন বা অন্য কোনো কর্তন থাকে।

চার্টের নির্দেশনাতেই বলা হয়েছে, তালিকায় প্রদর্শিত নীট টাকার সঙ্গে প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতা যোগ হবে এবং কর্মচারীর নিজের জিপিএফ কর্তনের পরিমাণ নীট টাকা থেকে আরও বাদ দিতে হবে।

অর্থাৎ—

চূড়ান্ত হাতে পাওয়া অর্থ = চার্টের নীট বেতন + প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতা − নিজস্ব জিপিএফ − অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তন।

এ কারণে কোনো কর্মচারী চার্টে ৩০ হাজার টাকা নীট বেতন দেখলেও তাঁর ব্যাংক হিসাবে জমা পড়া অর্থ একই পরিমাণ নাও হতে পারে।

নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে কেন এই হিসাব গুরুত্বপূর্ণ?

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর শুধু নতুন মূল বেতন জানলেই প্রকৃত মাসিক আয় বোঝা যাবে না। বরং একজন কর্মচারীর জন্য মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন, শিক্ষা ভাতা, কর্তন এবং জিপিএফ—সবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

এ ছাড়া গেজেটের বাস্তবায়ন ধাপ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হওয়ার পর জুলাই থেকে প্রাপ্য পার্থক্য হিসাব ও সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সারসংক্ষেপ

প্রদত্ত হিসাবচিত্রের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণে মূল বিষয়গুলো হলো—

বিষয়চার্টে ব্যবহৃত হিসাব
গ্রেড১৭তম
হিসাবের সময়০১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
প্রথম পুরোনো মূল বেতন৯,০০০ টাকা
প্রথম ধাপের চলতি মূল বেতন১৫,৭৫০ টাকা
প্রথম ধাপে বাড়িভাড়া৪,৫০০ টাকা
চিকিৎসা ভাতা১,৫০০ টাকা
টিফিন ভাতা২০০ টাকা
প্রথম ধাপের মোট বেতন২১,৯৫০ টাকা
কর্তন১০০ টাকা
প্রথম ধাপের নীট২১,৮৫০ টাকা
১ সন্তানের শিক্ষা ভাতাসহ২২,৩৫০ টাকা
২ সন্তানের শিক্ষা ভাতাসহ২২,৮৫০ টাকা

শেষ কথা

১৭তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের এই হিসাবটি মূলত নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন, পুরোনো প্রযোজ্য ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তন ধরে তৈরি করা হয়েছে। তাই ১৭তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর প্রকৃত বেতন নির্ধারণ করতে শুধু গ্রেড জানা যথেষ্ট নয়; তাঁর বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের তারিখ, পে-ফিক্সেশনের ধাপ, কর্মস্থল, প্রযোজ্য ভাতা এবং জিপিএফ কর্তনও বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও বিভিন্ন ভাতার পূর্ণাঙ্গ নতুন হার পরবর্তী সময়ে কার্যকর হওয়ার বিধান থাকায় ‘নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন’ এবং ‘নতুন পে-স্কেলের সব ভাতা’ একই তারিখে একই হারে কার্যকর—এমনটি ধরে হিসাব করা ঠিক হবে না।

সুতরাং, ১৭তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই চার্টটি জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের সম্ভাব্য মাসিক বেতন বোঝার একটি কার্যকর হিসাবচিত্র; তবে ব্যক্তিভেদে চূড়ান্ত বেতন জানতে সংশ্লিষ্ট পে-ফিক্সেশন ও কর্তনের তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *