৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

Govt. Mobile Allowance 2028 । কোন গ্রেডের কর্মচারী মাসিক কত টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন?

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে ভাতার হার কত হবে, তা নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় সচিব কমিটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। ফলে নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে মোবাইল ভাতার সুবিধা পেলেও কর্মচারীদের প্রত্যাশিত অঙ্কের তুলনায় ভাতা কম হতে পারে।

জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাব ছিল বেশি

উপস্থাপিত নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মূলত উচ্চ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেয়ে থাকেন। সেখানে ১ম থেকে ৩য় গ্রেডের জন্য মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪র্থ ও ৫ম গ্রেডের জন্য ১ হাজার টাকা হারে ভাতা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

নতুন জাতীয় বেতন কমিশন মোবাইল ভাতার পরিধি বাড়িয়ে ২০টি গ্রেডের কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। কমিশনের প্রস্তাবিত হারে—

  • ১ম–৩য় গ্রেড: মাসিক ১,৫০০ টাকা
  • ৪র্থ–৫ম গ্রেড: মাসিক ১,০০০ টাকা
  • ৬ষ্ঠ–১০ম গ্রেড: মাসিক ৫০০ টাকা
  • ১১তম–২০তম গ্রেড: মাসিক ৪০০ টাকা

এই হারে ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংযোজনও উল্লেখযোগ্য হতো। নথিতে এ সম্প্রসারণের ফলে প্রায় ৬৮৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সচিব কমিটি দিল ভিন্ন সুপারিশ

জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি মূলত সব গ্রেডকে মোবাইল ভাতার আওতায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করেছে।

সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী—

গ্রেডপ্রস্তাবিত মাসিক মোবাইল ভাতা
১ম–৫ম গ্রেড৫০০ টাকা
৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেড১৫০ টাকা

অর্থাৎ জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় সচিব কমিটির সুপারিশে বিশেষ করে উচ্চ গ্রেডের ভাতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য কমিশনের প্রস্তাবিত ৫০০ ও ৪০০ টাকার পরিবর্তে এককভাবে ১৫০ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কেন সব গ্রেডকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সুপারিশ?

বর্তমান সময়ে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের বড় একটি অংশ মোবাইল ফোন, মোবাইল ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদেরও অফিসের প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়।

সচিব কমিটির যুক্তি হলো, দাপ্তরিক যোগাযোগে মোবাইল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এখন শুধু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাই সব স্তরের কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার নীতিগত ভিত্তি রয়েছে। তবে এর বিপরীতে সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।

ভাতার আওতা বাড়লেও হার কমছে

এখানেই নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো—সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু মাথাপিছু ভাতার হার কমছে।

আগে মূলত ৫ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা মোবাইল ভাতার সুবিধা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল-২০২৬-এর আওতায় ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের বিপুলসংখ্যক কর্মচারীও প্রথমবারের মতো এই ভাতার আওতায় আসবেন।

তবে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত তুলনামূলক উচ্চ হার বহাল না রেখে সচিব কমিটি কম হারে ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। ফলে কর্মচারীদের কাছে এটি একদিকে আওতা সম্প্রসারণের সুখবর, অন্যদিকে ভাতার হার কমে যাওয়ার বিষয়টি হতাশার কারণ হতে পারে।

নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে মোবাইল ভাতা

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ সরকার অনুমোদন করেছে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তবে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে একইভাবে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন বেতনস্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং বিভিন্ন ভাতা পরবর্তী পর্যায়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

চূড়ান্তভাবে কত টাকা হবে?

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সচিব কমিটির সুপারিশ মানেই চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন নয়। সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করতে হবে।

তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা ১ম–৫ম গ্রেডে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা—এটি সচিব কমিটির সুপারিশ হিসেবে দেখা উচিত। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে হার পরিবর্তিত হতে পারে বা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কর্মচারীদের জন্য এর অর্থ কী?

নতুন ব্যবস্থার ফলে মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রে মূল পরিবর্তন হবে তিনটি—

প্রথমত, শুধু উচ্চ গ্রেড নয়, সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ভাতার আওতায় আসবেন।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় বেতন কমিশনের তুলনামূলক উচ্চ হারের প্রস্তাবের পরিবর্তে সচিব কমিটি অনেক কম হারে ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

তৃতীয়ত, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের বাস্তবতা স্বীকার করেই ভাতার আওতা বাড়ানো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রে ‘সবার জন্য ভাতা, তবে কম হারে’—এমন একটি কাঠামো সামনে এসেছে। এখন সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ১ম–৫ম গ্রেডে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি না।Govt. Mobile Allowance 2028

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *