৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

New House Rent 2028 । ৯ম পে স্কেলে বাড়ি ভাড়ার হার কত?

নবম জাতীয় পে-স্কেলকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। সচিব কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া ভাতার একটি ছকে গ্রেড এবং কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব দেখা যাচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ হার রাখা হয়েছে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন হার ২৫ শতাংশ

প্রাপ্ত নথির “সারণি ৯: সচিব কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া ভাতার হার” বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবার জন্য একই হারে বাড়ি ভাতা না রেখে চারটি গ্রেডভিত্তিক শ্রেণি এবং তিন ধরনের কর্মস্থল অনুযায়ী পৃথক হার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও সচিব কমিটির আলোচনায় বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা যৌক্তিকীকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

গ্রেডভেদে বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাবিত হার

ছবিতে থাকা সচিব কমিটির সুপারিশের ছক অনুযায়ী প্রস্তাবিত হার হলো—

গ্রেড/ধাপঢাকা সিটি করপোরেশননির্দিষ্ট বড় শহর ও সিটি করপোরেশনঅন্যান্য স্থান
গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ৬০%৫০%৪৫%
গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ৫০%৪০%৩৫%
গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ৪৫%৩৫%৩০%
গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব৪০%৩০%২৫%

অর্থাৎ প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাতার শতাংশ বেশি, আর উচ্চ গ্রেডে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ভাতার হার কমে আসবে।


ঢাকা সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ

সুপারিশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর নির্ধারিত ধাপ পর্যন্ত মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব।

এর পরবর্তী স্তরে অর্থাৎ গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত হার হবে ৫০ শতাংশ। গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতার প্রস্তাব রয়েছে।

এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ি ভাতার শতাংশও তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার একটি নীতি এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বড় শহর ও নির্দিষ্ট সিটি করপোরেশনে কত?

ছবিতে দ্বিতীয় কর্মস্থল শ্রেণিতে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলা উল্লেখ রয়েছে।

এই শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত হার—

  • গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬: ৫০ শতাংশ
  • গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০: ৪০ শতাংশ
  • গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫: ৩৫ শতাংশ
  • গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব: ৩০ শতাংশ

অর্থাৎ একই গ্রেডের একজন চাকরিজীবী ঢাকায় কর্মরত হলে যে হারে বাড়ি ভাতা পাবেন, নির্ধারিত অন্যান্য বড় শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত হলে তার চেয়ে ১০ শতাংশ পয়েন্ট কম হারে বাড়ি ভাতা পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।


অন্যান্য স্থানে বাড়ি ভাতার হার আরও কম

তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে অন্যান্য স্থান। এসব এলাকার জন্য প্রস্তাবিত হার হলো—

  • গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬: ৪৫ শতাংশ
  • গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০: ৩৫ শতাংশ
  • গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫: ৩০ শতাংশ
  • গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব: ২৫ শতাংশ

অর্থাৎ কর্মস্থলের শ্রেণি এবং গ্রেড—দুই বিষয় মিলিয়েই বাড়ি ভাতার হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।


একটি উদাহরণে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক

ধরা যাক, কোনো কর্মচারীর নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন ২০,০০০ টাকা নির্ধারিত হলো এবং তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর সংশ্লিষ্ট ধাপে কর্মরত।

ছবির প্রস্তাবিত হার অনুযায়ী তাঁর বাড়ি ভাতা হবে—

২০,০০০ × ৬০% = ১২,০০০ টাকা।

অর্থাৎ শুধু মূল বেতন ও বাড়ি ভাতা মিলিয়ে ৩২,০০০ টাকা হবে।

একই মূল বেতন নিয়ে নির্ধারিত বড় শহর/সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ হলে বাড়ি ভাতা হবে ১০,০০০ টাকা। আর অন্যান্য স্থানে ৪৫ শতাংশ হলে হবে ৯,০০০ টাকা।

তবে এটি কেবল প্রস্তাবিত শতাংশ বোঝানোর উদাহরণ। চূড়ান্ত পে-স্কেলে মূল বেতন কত হবে এবং কোন ধাপে কোন বেতন নির্ধারিত হবে, তার ওপর প্রকৃত টাকার অঙ্ক নির্ভর করবে।


কেন নিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাতার হার বেশি রাখা হচ্ছে?

প্রস্তাবিত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—উচ্চ বেতনধারীদের জন্য বাড়ি ভাতার শতাংশ কম এবং নিম্ন বেতনধারীদের জন্য বেশি।

এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা শুধু বেসিক বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়, বাড়ি ভাতার উচ্চ শতাংশের মাধ্যমেও বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

বিশেষ করে বর্তমান বাজারদর ও নগর এলাকায় বাসাভাড়ার চাপ বিবেচনায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাতার উচ্চ হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আগের পে-স্কেল কাঠামোতে অঞ্চলভেদে বাড়ি ভাতার হার ভিন্ন ছিল; নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনায় গ্রেডভিত্তিক পার্থক্য আরও স্পষ্ট করার বিষয়টি সামনে এসেছে।


সবচেয়ে বেশি সুবিধা কার?

প্রস্তাবিত ছকটি বিশ্লেষণ করলে বাড়ি ভাতার শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—

১. ঢাকা সিটি করপোরেশনে কর্মরত গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যায়ের চাকরিজীবীদের — ৬০%।

২. নির্ধারিত বড় শহর ও সিটি করপোরেশনে একই পর্যায়ের চাকরিজীবীদের — ৫০%।

৩. অন্যান্য এলাকায় একই পর্যায়ের চাকরিজীবীদের — ৪৫%।

অন্যদিকে গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৪ পর্যায়ে বাড়ি ভাতার প্রস্তাবিত হার যথাক্রমে ঢাকা ৪০%, নির্ধারিত বড় শহরে ৩০% এবং অন্যান্য স্থানে ২৫%।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাড়ি ভাতার শতাংশ বেশি মানেই টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ বাড়ি ভাতা নয়। কারণ প্রকৃত বাড়ি ভাতার টাকা নির্ভর করবে মূল বেতনের ওপর। উচ্চ গ্রেডে শতাংশ কম হলেও মূল বেতন বেশি হওয়ায় টাকার অঙ্কে বাড়ি ভাতা অনেক ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে।


নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাতা কি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে?

এখানেই রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনার কথা এসেছে।

অর্থাৎ পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ পেলেই সব সুবিধা একই সময়ে কার্যকর হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সরকার চূড়ান্তভাবে কীভাবে এবং কোন তারিখ থেকে কোন ভাতা কার্যকর করবে, সেটি প্রজ্ঞাপনেই পরিষ্কার হবে।


৯ম পে-স্কেলের আলোচনায় বাড়ি ভাতাই এখন বড় প্রশ্ন

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রধান আগ্রহ শুধু মূল বেতন কত বাড়বে তা নিয়ে নয়; বরং মূল বেতন বৃদ্ধির পর বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে মোট আয় কত দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার কথা বলা হয়েছে এবং বেতন-ভাতা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথাও এসেছে।

তাই বাড়ি ভাতার এই ছকটি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল বেতন নির্ধারণের পর এই শতাংশের ওপর ভিত্তি করেই মাসিক বাড়ি ভাতার বড় অংশ নির্ধারিত হতে পারে।


তবে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবিতে থাকা হারগুলোকে এখনই চূড়ান্ত সরকারি গেজেটের হার হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।

নথিটিতে নিজেই এগুলোকে “সচিব কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া ভাতার হার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সচিব কমিটির সুপারিশের অংশ।

সচিব কমিটির সুপারিশের পর সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন/গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর কাঠামো নির্ধারিত হবে। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও পে-স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে এমন কথাই উঠে এসেছে।

সারসংক্ষেপ

ঢাকা সিটি করপোরেশন: ৪০%–৬০%
নির্ধারিত বড় শহর/সিটি করপোরেশন: ৩০%–৫০%
অন্যান্য স্থান: ২৫%–৪৫%

অর্থাৎ প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বোচ্চ বাড়ি ভাতা ৬০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ২৫ শতাংশ। গ্রেড যত নিচের দিকে, বাড়ি ভাতার শতাংশ তত বেশি; আবার কর্মস্থল যত বড় নগর শ্রেণির বাইরে যাবে, প্রস্তাবিত হারও তত কমবে।

চূড়ান্ত পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে—কোন গ্রেডে, কোন এলাকায়, কত শতাংশ বাড়ি ভাতা এবং কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

নবম জাতীয় পে-স্কেলকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। সচিব কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া ভাতার একটি ছকে গ্রেড এবং কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব দেখা যাচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ হার রাখা হয়েছে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন হার ২৫ শতাংশ।প্রাপ্ত নথির “সারণি ৯: সচিব কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া ভাতার হার” বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবার জন্য একই হারে বাড়ি ভাতা না রেখে চারটি গ্রেডভিত্তিক শ্রেণি এবং তিন ধরনের কর্মস্থল অনুযায়ী পৃথক হার প্রস্তাব করা হয়েছে।সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও সচিব কমিটির আলোচনায় বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা যৌক্তিকীকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে।গ্রেডভেদে বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাবিত হারছবিতে থাকা সচিব কমিটির সুপারিশের ছক অনুযায়ী প্রস্তাবিত হার হলো—গ্রেড/ধাপ	ঢাকা সিটি করপোরেশন	নির্দিষ্ট বড় শহর ও সিটি করপোরেশন	অন্যান্য স্থান
গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ	৬০%	৫০%	৪৫%
গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ	৫০%	৪০%	৩৫%
গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ	৪৫%	৩৫%	৩০%
গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব	৪০%	৩০%	২৫%অর্থাৎ প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাতার শতাংশ বেশি, আর উচ্চ গ্রেডে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ভাতার হার কমে আসবে।ঢাকা সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশসুপারিশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর নির্ধারিত ধাপ পর্যন্ত মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব।এর পরবর্তী স্তরে অর্থাৎ গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত হার হবে ৫০ শতাংশ। গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতার প্রস্তাব রয়েছে।এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ি ভাতার শতাংশও তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার একটি নীতি এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।বড় শহর ও নির্দিষ্ট সিটি করপোরেশনে কত?ছবিতে দ্বিতীয় কর্মস্থল শ্রেণিতে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলা উল্লেখ রয়েছে।এই শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত হার—গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬: ৫০ শতাংশ
গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০: ৪০ শতাংশ
গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫: ৩৫ শতাংশ
গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব: ৩০ শতাংশঅর্থাৎ একই গ্রেডের একজন চাকরিজীবী ঢাকায় কর্মরত হলে যে হারে বাড়ি ভাতা পাবেন, নির্ধারিত অন্যান্য বড় শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত হলে তার চেয়ে ১০ শতাংশ পয়েন্ট কম হারে বাড়ি ভাতা পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।অন্যান্য স্থানে বাড়ি ভাতার হার আরও কমতৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে অন্যান্য স্থান। এসব এলাকার জন্য প্রস্তাবিত হার হলো—গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬: ৪৫ শতাংশ
গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০: ৩৫ শতাংশ
গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫: ৩০ শতাংশ
গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব: ২৫ শতাংশঅর্থাৎ কর্মস্থলের শ্রেণি এবং গ্রেড—দুই বিষয় মিলিয়েই বাড়ি ভাতার হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।একটি উদাহরণে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাকধরা যাক, কোনো কর্মচারীর নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন ২০,০০০ টাকা নির্ধারিত হলো এবং তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর সংশ্লিষ্ট ধাপে কর্মরত।ছবির প্রস্তাবিত হার অনুযায়ী তাঁর বাড়ি ভাতা হবে—২০,০০০ × ৬০% = ১২,০০০ টাকা।অর্থাৎ শুধু মূল বেতন ও বাড়ি ভাতা মিলিয়ে ৩২,০০০ টাকা হবে।একই মূল বেতন নিয়ে নির্ধারিত বড় শহর/সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ হলে বাড়ি ভাতা হবে ১০,০০০ টাকা। আর অন্যান্য স্থানে ৪৫ শতাংশ হলে হবে ৯,০০০ টাকা।তবে এটি কেবল প্রস্তাবিত শতাংশ বোঝানোর উদাহরণ। চূড়ান্ত পে-স্কেলে মূল বেতন কত হবে এবং কোন ধাপে কোন বেতন নির্ধারিত হবে, তার ওপর প্রকৃত টাকার অঙ্ক নির্ভর করবে।কেন নিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাতার হার বেশি রাখা হচ্ছে?প্রস্তাবিত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—উচ্চ বেতনধারীদের জন্য বাড়ি ভাতার শতাংশ কম এবং নিম্ন বেতনধারীদের জন্য বেশি।এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা শুধু বেসিক বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়, বাড়ি ভাতার উচ্চ শতাংশের মাধ্যমেও বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।বিশেষ করে বর্তমান বাজারদর ও নগর এলাকায় বাসাভাড়ার চাপ বিবেচনায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাতার উচ্চ হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।আগের পে-স্কেল কাঠামোতে অঞ্চলভেদে বাড়ি ভাতার হার ভিন্ন ছিল; নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনায় গ্রেডভিত্তিক পার্থক্য আরও স্পষ্ট করার বিষয়টি সামনে এসেছে।সবচেয়ে বেশি সুবিধা কার?প্রস্তাবিত ছকটি বিশ্লেষণ করলে বাড়ি ভাতার শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—১. ঢাকা সিটি করপোরেশনে কর্মরত গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যায়ের চাকরিজীবীদের — ৬০%।২. নির্ধারিত বড় শহর ও সিটি করপোরেশনে একই পর্যায়ের চাকরিজীবীদের — ৫০%।৩. অন্যান্য এলাকায় একই পর্যায়ের চাকরিজীবীদের — ৪৫%।অন্যদিকে গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৪ পর্যায়ে বাড়ি ভাতার প্রস্তাবিত হার যথাক্রমে ঢাকা ৪০%, নির্ধারিত বড় শহরে ৩০% এবং অন্যান্য স্থানে ২৫%।এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাড়ি ভাতার শতাংশ বেশি মানেই টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ বাড়ি ভাতা নয়। কারণ প্রকৃত বাড়ি ভাতার টাকা নির্ভর করবে মূল বেতনের ওপর। উচ্চ গ্রেডে শতাংশ কম হলেও মূল বেতন বেশি হওয়ায় টাকার অঙ্কে বাড়ি ভাতা অনেক ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে।নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাতা কি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে?এখানেই রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনার কথা এসেছে।অর্থাৎ পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ পেলেই সব সুবিধা একই সময়ে কার্যকর হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সরকার চূড়ান্তভাবে কীভাবে এবং কোন তারিখ থেকে কোন ভাতা কার্যকর করবে, সেটি প্রজ্ঞাপনেই পরিষ্কার হবে।৯ম পে-স্কেলের আলোচনায় বাড়ি ভাতাই এখন বড় প্রশ্ননতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রধান আগ্রহ শুধু মূল বেতন কত বাড়বে তা নিয়ে নয়; বরং মূল বেতন বৃদ্ধির পর বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে মোট আয় কত দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার কথা বলা হয়েছে এবং বেতন-ভাতা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথাও এসেছে।তাই বাড়ি ভাতার এই ছকটি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল বেতন নির্ধারণের পর এই শতাংশের ওপর ভিত্তি করেই মাসিক বাড়ি ভাতার বড় অংশ নির্ধারিত হতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবিতে থাকা হারগুলোকে এখনই চূড়ান্ত সরকারি গেজেটের হার হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।নথিটিতে নিজেই এগুলোকে “সচিব কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া ভাতার হার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সচিব কমিটির সুপারিশের অংশ।সচিব কমিটির সুপারিশের পর সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন/গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর কাঠামো নির্ধারিত হবে। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও পে-স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে এমন কথাই উঠে এসেছে।সারসংক্ষেপঢাকা সিটি করপোরেশন: ৪০%–৬০%
নির্ধারিত বড় শহর/সিটি করপোরেশন: ৩০%–৫০%
অন্যান্য স্থান: ২৫%–৪৫%অর্থাৎ প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বোচ্চ বাড়ি ভাতা ৬০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ২৫ শতাংশ। গ্রেড যত নিচের দিকে, বাড়ি ভাতার শতাংশ তত বেশি; আবার কর্মস্থল যত বড় নগর শ্রেণির বাইরে যাবে, প্রস্তাবিত হারও তত কমবে।চূড়ান্ত পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে—কোন গ্রেডে, কোন এলাকায়, কত শতাংশ বাড়ি ভাতা এবং কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *