নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ, বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
সরকারি চাকরিজীবী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) এক লাফে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তবে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিশেষ সুবিধাটি আর বহাল থাকবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক সুরক্ষা দিতেই এই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোতে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে চালু থাকা বিশেষ আর্থিক সুবিধাটি বাতিল হয়ে যাবে।
বিশেষ সুবিধা বাতিলের রূপরেখা
বর্তমানে চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত রয়েছেন, তারা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত চাকরিজীবীরা পান ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা। ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হলে এই বিশেষ সুবিধা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং নতুন বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।
গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতন কাঠামোর তুলনামূলক চিত্র
নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গ্রেডের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বর্তমান বেতন এবং ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন বেতনের একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| পদবি ও গ্রেড | পূর্বের মূল বেতন (টাকা) | বর্তমান বিশেষ সুবিধা (১০%/১৫%) | বিশেষ সুবিধাসহ বর্তমান বেসিক (টাকা) | নবম পে-স্কেলে নতুন মূল বেতন (৫০% বৃদ্ধি) |
| অধ্যক্ষ (৪র্থ গ্রেড) | ৫০,০০০ | ৫,০০০ (১০%) | ৫৫,০০০ | ৭৫,০০০ |
| সহকারী অধ্যাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) | ৩৫,৫০০ | ৩,৫৫০ (১০%) | ৩৯,০৫০ | ৫৩,২৫০ |
| উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক (৭ম গ্রেড) | ২৯,০০০ | ২,৯০০ (১০%) | ৩১,৯০০ | ৪৩,৫০০ |
| প্রভাষক (৯ম গ্রেড) | ২২,০০০ | ২,২০০ (১০%) | ২৪,২০০ | ৩৩,০০০ |
| বিএডধারী সহকারী শিক্ষক (১০ম গ্রেড) | ১৬,০০০ | ২,৪০০ (১৫%) | ১৮,৪০০ | ২৪,০০০ |
| সহকারী শিক্ষক (১১তম গ্রেড) | ১২,৫০০ | ১,৮৭৫ (১৫%) | ১৪,৩৭৫ | ১৮,৭৫০ |
| অফিস/হিসাব সহকারী (১৬তম গ্রেড) | ৯,৩০০ | ১,৩৯৫ (১৫%) | ১০,৬৯৫ | ১৩,৯৫০ |
| ল্যাব সহকারী (১৮তম গ্রেড) | ৮,৮০০ | ১,৩২০ (১৫%) | ১০,১২০ | ১৩,২০০ |
| অফিস সহায়ক ও কর্মচারীবৃন্দ (২০তম গ্রেড) | ৮,২৫০ | ১,২৩৭.৫০ (১৫%) | ৯,৪৮৭.৫০ | ১২,৩৭৫ |
বিশ্লেষণ: প্রকৃতপক্ষে কত বাড়ছে আয়?
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ সুবিধা বাতিল হলেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আর্থিক ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ মূল বেতন এক লাফে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সবারই প্রকৃত বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
উদাহরণস্বরূপ, ১০ম গ্রেডের একজন বিএডধারী সহকারী শিক্ষক বর্তমানে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধাসহ সর্বমোট ১৮ হাজার ৪০০ টাকা বেসিক পাচ্ছিলেন। নতুন পে-স্কেলে তার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ২৪spaceটাকা। অর্থাৎ, বিশেষ সুবিধা বাতিলের পরও তার নিট বেসিক বৃদ্ধি পাচ্ছে ৫ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে ২০তম গ্রেডের একজন অফিস সহায়ক বা নিরাপত্তাকর্মীর বর্তমান বেসিক (সুবিধাসহ) ৯ হাজার ৪৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে নতুন কাঠামোতে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা হবে।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমস্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশনাবলী ও সরকারি গ্যাজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, যেখানে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতার বিষয়েও স্পষ্ট রূপরেখা থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।



