বাংলাদেশ বেতারের শিল্পীদের সম্মানী কাঠামো-২০২৪ অনুমোদিত: নতুন হারে কার্যকর
বাংলাদেশ বেতারের শিল্পীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন সম্মানী কাঠামো বা ‘শিল্পী সম্মানী কাঠামো-২০২৪’ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন ও কার্যকর করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন সম্মানী হার ও শর্তাবলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। সরকারি অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে জারি করা এই নতুন কাঠামোটি ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে।
সম্মানী কাঠামো ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
নতুন কাঠামোতে সংগীত, নাটক, কথিকা, সংবাদ পরিবেশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সম্মানী হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বেতারের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগীত ও নাটক: সংগীতের ক্ষেত্রে লঘু ও উচ্চাঙ্গ সংগীতের সম্মানী প্রতি মিনিট হিসেবে নতুন হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ, ক, খ ও গ শ্রেণির শিল্পীদের জন্য আলাদা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, নাটকের ক্ষেত্রে প্রধান চরিত্র ও পার্শ্ব চরিত্রের জন্য প্রতি মিনিটের সম্মানী বাড়ানো হয়েছে। দলগত পরিবেশনা, যেমন নাটক বা যাত্রা পরিবেশনের সম্মানীও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান: সংবাদ বুলেটিন পাঠ, সংবাদ পর্যালোচনা, সংবাদ অনুবাদ এবং সংবাদদাতাদের প্রেরিত সংবাদের সম্মানীও নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিতর্ক ও রিয়েলিটি শো-তে বিচারকের দায়িত্ব পালন এবং উপস্থাপনার সম্মানী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভ্রমণ ও অন্যান্য সুবিধা: নতুন কাঠামো অনুযায়ী, শিল্পীদের ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার বিষয়টিও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীগণ মূল সম্মানীর ওপর ২৫% অতিরিক্ত সম্মানী প্রাপ্য হবেন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিল্পীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভাতার সুবিধা রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি
নতুন সম্মানী হার কার্যকর করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে:
এটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিত শিল্পীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বেতারের নিয়মিত কর্মচারী বা শিল্পীবৃন্দ এই সম্মানী প্রাপ্য হবেন না।
অসম্পূর্ণ বা প্রচার না হওয়া অনুষ্ঠানের জন্য কোনো সম্মানী প্রদান করা যাবে না।
একই অনুষ্ঠানে একাধিক ভূমিকায় অংশগ্রহণ করলে সর্বোচ্চ একটি সম্মানী (উচ্চতম শ্রেণির) প্রদানযোগ্য হবে।
গান, নাটক বা অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচারিত হলে সম্মানী পুনরায় প্রদান করা হবে না।
প্রকৃত ভ্রমণ সম্পাদনের প্রমাণ (টিকিট ইত্যাদি) উপস্থাপন সাপেক্ষে ভ্রমণ ভাতা প্রদান করা হবে।
নিজস্ব রিসোর্স সিলিংয়ের (Resource Ceiling) মধ্যে এই ব্যয় নির্বাহ করতে হবে এবং এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দাবি করা যাবে না।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালকের পক্ষে অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম এই আদেশটি সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও আঞ্চলিক কেন্দ্রে কার্যকর করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নতুন আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


