৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া : গ্রেড-১ এ ১ লাখ ৩০ হাজার, গ্রেড-২০ এ ২০ হাজার টাকা

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রচারিত একটি খসড়া তালিকায় ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে গ্রেডভিত্তিক মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেখা গেছে। এতে সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রচারিত তালিকাটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি বেতন কাঠামো নয়। ছবিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী এটি প্রস্তাবিত/খসড়া তালিকা এবং সরকারি গেজেট বা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই চূড়ান্ত বেতন কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খসড়া তালিকায় গ্রেডভিত্তিক বেতন কত

প্রচারিত খসড়া অনুযায়ী গ্রেড-১-এ মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-২-এ ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেড-৫-এ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৬-এ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৭-এ ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব দেখা যাচ্ছে।

গ্রেড-৮-এর প্রস্তাবিত বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রেড-৯-এ ৩৯ হাজার ১০০ থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের কাঠামো দেখানো হয়েছে।

মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডেও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-১১-এ ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-১২-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং গ্রেড-১৩-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের কথা বলা হয়েছে।

গ্রেড-১৪-এ ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৫-এ ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১৬-এ ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেড-১৭-এ ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এ ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৯-এ ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর প্রস্তাব দেখানো হয়েছে।

শীর্ষ ও নিম্ন গ্রেডে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

খসড়া তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নয়, মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার বিষয়টি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

একইভাবে গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের প্রারম্ভিক বেতন ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব দেখা যাচ্ছে। ফলে নতুন কাঠামো কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বর্তমান কাঠামোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

তবে বিভিন্ন খসড়ায় বেতনের অঙ্কে পার্থক্য রয়েছে

নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব ও খসড়া তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গ্রেড-১-এর প্রস্তাবিত বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-২০-এর বেতন ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। সেখানে গ্রেড-২ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্তও বর্তমান ছবির তুলনায় ভিন্ন অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো একটি তালিকাকে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বরং কোন অঙ্কটি চূড়ান্ত হচ্ছে, তা জানতে সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।

১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, ধাপ ও সুপারিশ চূড়ান্ত করা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে কাজ চলতে থাকে।

জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত, ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্যও এসেছে। একটি প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ করার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু মূল বেতন নয়, ভাতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব নির্ধারণে শুধু বেসিক বেতন দেখলেই পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, টিফিন, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, ইনক্রিমেন্টের হার কী হবে এবং নতুন কাঠামো কত ধাপে বাস্তবায়িত হবে—এসব বিষয়ও কর্মচারীদের মোট মাসিক আয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন পে-স্কেলের খসড়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কর্মচারীদের প্রত্যাশা বাড়ছে

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান বাজারদরের সামঞ্জস্য নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রচারিত এই খসড়া বাস্তবায়িত হলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর সঙ্গে ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড, পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার নিয়ম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা

সব মিলিয়ে, বর্তমানে আলোচনায় থাকা গ্রেড-১ এ ১ লাখ ৩০ হাজার এবং গ্রেড-২০ এ ২০ হাজার টাকা বেতনের তালিকাটি একটি প্রস্তাবিত/খসড়া কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এটি সরকারি গেজেট বা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে অনুমোদিত চূড়ান্ত বেতন স্কেল—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি গেজেট প্রকাশিত হলে গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, ভাতা, বাস্তবায়নের ধাপ এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে। তাই বর্তমানে প্রচারিত তালিকা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষাই সবচেয়ে নিরাপদ

গ্রেড-১ এ ১ লাখ ৩০ হাজার, গ্রেড-২০ এ ২০ হাজার টাকা

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *