জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ । শুধুমাত্র মূল বেতন ১ জুলাই থেকে ৩ ধাপে বাস্তবায়ন হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক সংশ্লেষ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় একযোগে পুরো স্কেল বাস্তবায়ন না করে তা দুটি অর্থবছরে ও কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাস্তবায়ন কৌশল ও সময়সীমা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বেতনস্কেলটি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তবে সব ধরনের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে বাস্তবায়নের প্রধান দিকসমূহ:
মূল বেতন: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে ৩টি ধাপে কার্যকর।
ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর।
অগ্রাধিকার খাত: নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পেনশনভোগী: অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার
বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে সমাজের এই বড় অংশ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা পায়।
পেনশন ও জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল
শুধু বর্তমান কর্মরত কর্মচারীরাই নন, বরং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রেও বর্তমান পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।
এদিকে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বিচারকদের জন্য একটি পৃথক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটির পর্যালোচিত রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে। এটিও ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর আদলে এবং একই নিয়মে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক পদক্ষেপ
অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, একসাথে সম্পূর্ণ বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে বড় ধরনের নগদ অর্থের প্রবাহ তৈরি হতে পারত, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারত। তাই মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল হিসেবেই এই সুচিন্তিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।




