৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

৯ম পে-স্কেল ও পূর্ণাঙ্গ বেসিকের দাবিতে উত্তাল সরকারি কর্মচারী মহল: মে মাসজুড়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং দীর্ঘ ১১ বছরের বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে সরকারি কর্মচারীরা। বিশেষ করে ‘৯ম পে-স্কেল’ বাস্তবায়ন এবং ‘পুরো বেসিক’ প্রদানের দাবিতে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক মে মাসজুড়ে নতুন আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন।

আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ও ক্ষোভের কারণ

২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল প্রদানের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল মালেকের মতে, কর্মচারীরা আজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—

“এতদিন আন্দোলন করলাম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য, এখন আবার করতে হবে পুরো বেসিকের জন্য! আমরা কি কোনোদিন শান্তি পাবো না? আমরা কি সারা বছর শুধু আন্দোলন করেই যাবো?”

এই বক্তব্যটি মূলত সরকারের সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাবনার প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেল একবারে না দিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।

তিন ধাপের প্রস্তাবনা ও কর্মচারীদের আপত্তি

সরকারের পুনর্গঠিত বেতন কমিটি যে সুপারিশ করেছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে:

  1. প্রথম বছর (২০২৬-২৭): মূল বেতনের (বেসিক) মাত্র ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে।

  2. দ্বিতীয় বছর (২০২৭-২৮): বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক প্রদান করা হবে।

  3. তৃতীয় বছর (২০২৮-২৯): অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হবে।

কর্মচারী নেতারা এই ‘কিস্তি’ পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, দ্রব্যমূল্যের বর্তমান বাজারে অর্ধেক বেসিক বৃদ্ধি কোনো কাজেই আসবে না। তারা অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বেসিকসহ গেজেট প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন।

ঘোষিত কর্মসূচির রূপরেখা

দাবি আদায়ে মে মাসকে ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:

  • ৮ মে: পটুয়াখালীতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা।

  • ৯ মে: খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ।

  • ১৬ মে: ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও মহাসমাবেশের ডাক。

অর্থনৈতিক প্রভাব ও প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১.০৬ ট্রিলিয়ন টাকা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের অভিমত:

দীর্ঘদিন টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বন্ধ থাকায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আসন্ন বাজেটে যদি কর্মচারীদের এই দাবিগুলোর প্রতিফলন না ঘটে, তবে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড এবং কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, মে মাসের এই আন্দোলনের মুখে সরকার তাদের ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ঘোষণা করে কি না।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *