মৃত শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের পরিবারের করুণ আর্তনাদ: নতুন পে-স্কেলে কি মিলবে ভাগ্যের চাবিকাঠি?
সরকারি চাকুরি শেষে শতভাগ পেনশন সমর্পণ (বিক্রি) করে দেওয়া পেনশনারদের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রীদের জীবন কাটছে চরম অনাহারে-অর্ধাহারে। বর্তমানে তারা মাসিক চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা পেলেও কোনো মূল পেনশন পাচ্ছেন না। ১৫ বছরের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই যেসব পেনশনার মারা গেছেন, তাদের স্ত্রীদের পেনশনের আওতায় আনতে আগামী নবম পে-স্কেলে নতুন ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
বর্তমান চিত্র: উৎসব ভাতা আছে, পেট চালানোর মূল পেনশন নেই
শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী সরকারি কর্মচারী যদি ১৫ বছর জীবিত থাকেন, তবে তার পেনশন পুনঃস্থাপিত হয়। কিন্তু বিধি বাম হলে, অর্থাৎ ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি মূল পেনশনার মারা যান, তবে তার পরিবার এক অন্ধকার চোরাবালিতে গিয়ে পড়ে।
বর্তমানে এই সমস্ত মৃত পেনশনারদের স্ত্রীরা অন্যান্য স্বাভাবিক পেনশনারদের মতোই পাচ্ছেন:
মাসিক চিকিৎসা ভাতা
বছরে দুটি উৎসব ভাতা
বাংলা নববর্ষ ভাতা
কিন্তু যা নেই, তা হলো বেঁচে থাকার মূল চালিকাশক্তি—মাসিক পেনশন। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর যখন শরীরে রোগবালাই বাসা বাঁধে, তখন শুধু চিকিৎসা আর উৎসব ভাতা দিয়ে পুরো মাস সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বৈষম্যের শিকার অল্প কিছু পরিবার: সরকারের খরচ সামান্যই
ভুক্তভোগীদের মতে, শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে ১৫ বছরের আগেই মারা গেছেন এমন পেনশনারের সংখ্যা দেশে খুব বেশি নয়। এই অল্পসংখ্যক অসহায় নারীদের যদি পেনশনের আওতায় আনা হয়, তবে সরকারের বাজেটে খুব একটা বড় প্রভাব পড়বে না। অথচ এই সামান্য মানবিক সিদ্ধান্তে ভাগ্যবদল হতে পারে কয়েকটি হাজারো পরিবারের। অতিরিক্ত উত্তোলনকৃত অর্থ কর্তনে সমতা এনে সবাইকে একই সিলিংয়ে আনার দাবিও তুলছেন অনেকে।
নতুন পে-স্কেল (২০২৬) ও আইনি জটিলতা: মিলবে কি সমাধান?
সামনে নতুন বেতন স্কেল বা পে-স্কেল ঘোষণার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে পেনশন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান বিধি অনুযায়ী—যদি কোনো শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যান, তবে তার স্ত্রী নতুন স্কেলেও কোনো মূল পেনশন পাবেন না।
পেনশন পাওয়ার প্রধান শর্তাবলী:
১. সরকারি আদেশ (গেজেট): নতুন পে-স্কেলের গেজেটে যদি বিশেষভাবে “মৃত শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীর স্ত্রীদের মূল পেনশনের আওতায় আনা হলো” মর্মে কোনো সংশোধিত আদেশ জারি করা হয়, তবেই তারা পেনশন পাবেন।
২. ভাতা বৃদ্ধি: যদি নতুন কোনো আদেশ জারি নাও হয়, তবুও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে তাদের চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা স্বাভাবিক নিয়মেই বর্ধিত হারে বাড়বে। তবে মূল পেনশন অধরাই থেকে যাবে।
গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সুদৃষ্টির আকুল আবেদন
আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সুদৃষ্টি ও মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এই অসহায় নারীরা। তাদের দাবি, বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর মৃত পেনশনারদের স্ত্রীদের জন্য পেনশনের সুবিধাটি পুনরায় চালু করা হোক।
আসন্ন পে-স্কেলের গেজেটে এই বিষয়ে কোনো সদয় সিদ্ধান্ত আসে কিনা, এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের ভাগ্যবিড়ম্বিত বিধবা স্ত্রীরা।



