ব্যাংকে টাকা রাখলেই কি প্রতি বছর আবগারি শুল্ক দিতে হয়? ১ জুলাই থেকে নতুন সীমা কার্যকর, জেনে নিন বিস্তারিত
ব্যাংক হিসাবে টাকা রাখলেই ব্যাংক ইচ্ছেমতো বিভিন্ন চার্জ কেটে নেয়—এমন ধারণা অনেক গ্রাহকের মধ্যে এখনও রয়েছে। বিশেষ করে হিসাব থেকে ‘আবগারি শুল্ক’ কেটে নেওয়ার পর অনেকেই এটিকে ব্যাংকের চার্জ মনে করে বিভ্রান্ত হন। বাস্তবে এটি কোনো ব্যাংক চার্জ নয়; বরং সরকারের নির্ধারিত একটি কর (Excise Duty), যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বছরে একবার হিসাব থেকে কেটে সরকারকে জমা দেয় ব্যাংক।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত হারের তালিকা অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আবগারি শুল্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। আগে ৩ লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকলে শুল্ক প্রযোজ্য হলেও এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।
আবগারি শুল্ক কী?
আবগারি শুল্ক (Excise Duty) হলো ব্যাংক হিসাবে একটি পঞ্জিকা বছরের যেকোনো সময় নির্ধারিত সীমার সমান বা তার বেশি স্থিতি (Balance) থাকলে সরকার নির্ধারিত হারে বছরে একবার আদায় করা একটি সরকারি শুল্ক।
ব্যাংক কেবল সরকারের পক্ষে এই অর্থ হিসাব থেকে কেটে জাতীয় কোষাগারে জমা দেয়। অর্থাৎ এই অর্থ ব্যাংকের আয় নয়।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কী পরিবর্তন হয়েছে?
সংশোধিত হার অনুযায়ী সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো শুল্কমুক্ত সীমা বৃদ্ধি।
- আগে: ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতিতে কোনো আবগারি শুল্ক ছিল না।
- এখন: ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতিতে কোনো আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
অর্থাৎ যাদের হিসাবে বছরে কোনো সময় সর্বোচ্চ স্থিতি ৪ লাখ টাকার কম থাকবে, তাদের আর আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।
নতুন আবগারি শুল্কের হার (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)
| হিসাবে সর্বোচ্চ স্থিতি | বার্ষিক আবগারি শুল্ক |
|---|---|
| ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | শূন্য |
| ৪,০০,০০১ – ৫,০০,০০০ টাকা | ১৫০ টাকা |
| ৫,০০,০০১ – ১০,০০,০০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| ১০,০০,০০১ – ৫০,০০,০০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা |
| ৫০,০০,০০১ – ১ কোটি টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| ১ কোটি ১ টাকা – ২ কোটি টাকা | ১০,০০০ টাকা |
| ২ কোটি ১ টাকা – ৫ কোটি টাকা | ২০,০০০ টাকা |
| ৫ কোটি টাকার বেশি | ৫০,০০০ টাকা |
বছরে কতবার আবগারি শুল্ক কাটা হয়?
অনেকের ধারণা, বারবার টাকা জমা বা উত্তোলন করলে বারবার আবগারি শুল্ক কাটা হয়। এটি সঠিক নয়।
আবগারি শুল্ক বছরে মাত্র একবার কাটা হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—পঞ্জিকা বছরের যেকোনো সময় যদি আপনার হিসাবের স্থিতি নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে যায়, তাহলে সেই সীমা অনুযায়ী শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
কারা এই শুল্ক দেন?
সব ব্যাংক গ্রাহককে আবগারি শুল্ক দিতে হয় না। কেবল যাদের হিসাবে নির্ধারিত সীমার বেশি স্থিতি থাকে, তাদের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হয়।
উদাহরণ হিসেবে—
- কারও হিসাবে বছরে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা থাকলে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।
- কিন্তু যদি কোনো সময় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়ে যায়, তাহলে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
কেন গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা ব্যাংক স্টেটমেন্টে অর্থ কর্তনের তথ্য দেখে এটিকে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ বা গোপন ফি মনে করেন। বাস্তবে ব্যাংক কেবল সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই অর্থ কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
অর্থাৎ, আবগারি শুল্ক সরকারের রাজস্ব, ব্যাংকের আয় নয়।
গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ
ব্যাংক হিসাবে বছরের সর্বোচ্চ স্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। যদি আপনার হিসাবে নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ জমা থাকে, তাহলে বছরে একবার আবগারি শুল্ক কাটা হবে—এটি স্বাভাবিক এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত। তাই হিসাব থেকে অর্থ কর্তন হলে অযথা বিভ্রান্ত না হয়ে আগে দেখে নিন সেটি সরকারি আবগারি শুল্ক কিনা।
সারসংক্ষেপ
১ জুলাই ২০২৬ থেকে আবগারি শুল্কের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি এসেছে। কারণ শুল্কমুক্ত সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক ব্যাংক গ্রাহক আবগারি শুল্কের আওতার বাইরে থাকবেন। তবে যাদের হিসাবে নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ থাকবে, তাদের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারে বছরে একবার এই শুল্ক কাটা হবে।


