কর অঞ্চল-৬–এ ১৪তম গ্রেডের উচ্চমান সহকারী পদ নাকি ৯ম গ্রেডের এমপিও কলেজ? চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন বিতর্ক
সরকারি চাকরি নাকি এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক—কোনটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর অঞ্চল-৬–এর ১৪তম গ্রেডের উচ্চমান সহকারী পদ এবং ৯ম গ্রেডের এমপিওভুক্ত কলেজের চাকরি নিয়ে এমনই একটি আলোচনা ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। চাকরিপ্রার্থীরা রাজস্ব খাত, চাকরি স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি, আর্থিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন।
কী প্রশ্ন উঠেছে?
একজন চাকরিপ্রার্থী জানতে চান—
- কর অঞ্চল-৬–এর উচ্চমান সহকারী (১৪তম গ্রেড) পদটি কি রাজস্ব খাতভুক্ত?
- চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পর কি পদটি স্থায়ী হবে?
- বর্তমানে ৯ম গ্রেডের এমপিওভুক্ত কলেজে কর্মরত অবস্থায় এই সরকারি পদে যোগ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?
রাজস্ব খাতভুক্ত কি না?
সাধারণভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অধীন কর অঞ্চলসমূহের অনুমোদিত স্থায়ী পদগুলো রাজস্ব খাতভুক্ত হয়ে থাকে। অর্থাৎ পদটি যদি নিয়মিত অনুমোদিত অর্গানোগ্রামের অংশ হয়, তবে সেটি সাধারণত রাজস্ব বাজেট থেকেই পরিচালিত হয়।
তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পদ সৃজনের সরকারি আদেশ অথবা নিয়োগপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ প্রকল্পভিত্তিক পদ হলে সেটি উন্নয়ন খাতের আওতায়ও হতে পারে।
দুই বছর পর কি স্থায়ী হবে?
সরকারি চাকরিতে অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে পরীক্ষাকাল (Probation) থাকে। সাধারণত পরীক্ষাকাল সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় শর্ত পূরণ এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর চাকরি স্থায়ী হয়।
তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট দুই বছরের বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি ও নিয়োগপত্রে পরীক্ষাকালের মেয়াদ উল্লেখ থাকে। তাই “দুই বছর পর নিশ্চিতভাবেই স্থায়ী”—এমন মন্তব্য সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
এমপিও কলেজ ছেড়ে সরকারি চাকরি—কী বলছেন অনেকে?
আলোচনায় বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে।
একটি মত হলো, কর বিভাগে ১৪তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হতে দীর্ঘ সময়, এমনকি ১৫ বছরের মতো লাগতে পারে। অন্যদিকে এমপিও কলেজে কর্মরত শিক্ষকরা নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ পেলে তুলনামূলক কম সময়ে উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারেন।
আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে—
- চাকরির নিরাপত্তা বেশি,
- নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে,
- সরকারি পেনশন সুবিধা রয়েছে,
- অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা তুলনামূলক শক্তিশালী।
তাই অনেকেই মনে করেন, এমপিও প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সরকারি চাকরি দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিরাপদ।
কর বিভাগে অতিরিক্ত আয়ের বিষয়টি নিয়ে মতভেদ
আলোচনায় কেউ কেউ দাবি করেছেন, কর বিভাগে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে অন্যরা একমত নন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরির বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ আর্থিক সুবিধাকে কখনোই চাকরি নির্বাচনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান আচরণবিধি ও দুর্নীতিবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রযোজ্য।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি
চাকরি পরিবর্তনের আগে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করা উচিত—
- চাকরির প্রকৃতি ও স্থায়িত্ব
- ভবিষ্যৎ পদোন্নতির বাস্তব সুযোগ
- কর্মস্থল বাড়ির কতটা কাছে
- বেতন, ভাতা ও পেনশন সুবিধা
- কর্মপরিবেশ ও দায়িত্ব
- ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার পরিকল্পনা
- পরিবার ও জীবনযাত্রার ভারসাম্য
উপসংহার
কর অঞ্চল-৬–এর উচ্চমান সহকারী পদটি যদি নিয়মিত অনুমোদিত রাজস্ব খাতের পদ হয়ে থাকে, তাহলে এটি সরকারি চাকরির বিভিন্ন সুবিধা বহন করবে। অন্যদিকে ৯ম গ্রেডের এমপিও কলেজে শিক্ষকতারও নিজস্ব মর্যাদা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং আলাদা ক্যারিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোনটি ভালো হবে, তার একক কোনো উত্তর নেই। ব্যক্তিগত লক্ষ্য, পদোন্নতির সম্ভাবনা, কর্মস্থলের অবস্থান, আর্থিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।


