ঈদুল ফিতরের আগেই ৮ উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ২০২৬ । কোন কোন উপজেলা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে?
দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নবগঠিত সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত ৮টি উপজেলা
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলা নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো: ১. কুড়িগ্রাম সদর (রংপুর বিভাগ) ২. শ্যামনগর, সাতক্ষীরা (খুলনা বিভাগ) ৩. দিরাই, সুনামগঞ্জ (সিলেট বিভাগ) ৪. লামা, বান্দরবান (চট্টগ্রাম বিভাগ) ৫. চরফ্যাশন, ভোলা (বরিশাল বিভাগ) ৬. কেরানীগঞ্জ, ঢাকা (ঢাকা বিভাগ) ৭. নন্দাইল, ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ বিভাগ) ৮. পবা, রাজশাহী (রাজশাহী বিভাগ)
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা
সুবিধাভোগী নির্বাচন: এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল এমআইএস (MIS) তৈরি করা হবে।
সহায়তার ধরন: প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য পরিবার প্রতি মাসে হয় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী (যেমন: ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল ও ১ কেজি লবণ) অথবা নগদ ২,০০০ টাকা সহায়তা হিসেবে পাবে।
নারীদের অগ্রাধিকার: এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধানদের নামে ইস্যু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রিসভা কমিটির দায়িত্ব
নবগঠিত এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিববৃন্দ।
কমিটির প্রধান কাজগুলো হলো:
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করা।
সুবিধাভোগীদের নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির জন্য ডিজিটাল সিস্টেমের সুপারিশ করা।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া, যাতে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ শুরু করা সম্ভব হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, “সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এক কোটি পরিবারের মাঝে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য তা একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

শুধু মহিলারাই কি ফ্যামিলি কার্ড পাবে?
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এটি একান্তই শুধু মহিলাদের জন্য নয়।
বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে নিচে দেওয়া হলো:
১. কেন মহিলাদের নাম অগ্রাধিকার পাচ্ছে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডগুলো মূলত ‘পরিবার ভিত্তিক’। একটি পরিবারের পক্ষ থেকে কার্ডটি যখন ইস্যু করা হয়, তখন সেটি সাধারণত পরিবারের নারী অভিভাবক বা মাতার নামে দেওয়ার নির্দেশনা থাকে। এর মূল কারণ হলো:
পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।
সহায়তার টাকা বা পণ্য যেন সরাসরি পরিবারের প্রয়োজনে ব্যয় হয় তা নিশ্চিত করা।
২. পুরুষরা কি কার্ড পাবে না?
অবশ্যই পাবেন। প্রজ্ঞাপনে ‘দরিদ্র পরিবার’ এবং ‘হতদরিদ্র’ মানুষের কথা বলা হয়েছে। যদি কোনো পরিবারে:
কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী সদস্য না থাকেন।
পুরুষ ব্যক্তিই পরিবারের একমাত্র অভিভাবক হন।
বিশেষ কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা পরিস্থিতির কারণে পুরুষ সদস্যের নামে কার্ড ইস্যু করা প্রয়োজন হয়।
তবে সেই ক্ষেত্রে কার্ডটি ওই পুরুষ সদস্যের নামেই ইস্যু করা হবে।
সারসংক্ষেপ:
কার্ডটি একটি পুরো পরিবারের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়। তবে পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে সুবিধাটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে নারীদের (মা বা স্ত্রী) নামকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।



