সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ
সরকারি অফিসে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটেও পরিপত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অগ্রাধিকার
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—
- বঙ্গভবন
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
- পরিকল্পনা কমিশন
- অর্থ বিভাগ
এসব প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ
শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নয়, দেশের অন্যান্য সরকারি অফিসেও ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সরকারি দপ্তরগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
পরিপত্রটির অনুলিপি সব সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কেন সৌরবিদ্যুতের দিকে সরকারের নজর
সৌরবিদ্যুৎ একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। সরকারি ভবনের ছাদ ও অন্যান্য উপযুক্ত স্থানে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারি অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারের বৃহত্তর নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে সরকারি অফিস ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে সমন্বিত গাইডলাইন অনুসরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরির সম্ভাবনা
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হলে তা অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বড় সরকারি ভবনগুলোর ছাদে রুফটপ সোলার স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও জোরদার হতে পারে।
বাস্তবায়নে গুরুত্ব
পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে নিজ নিজ ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদা, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং পর্যায়ক্রমে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো।
সার্বিকভাবে, বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সরকারি দপ্তরে বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরশক্তি থেকে ব্যবহারের নির্দেশ দেশের সরকারি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


