সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী জমা: দুর্নীতি রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থার দাবি

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, শুধুমাত্র সম্পদের হিসাব গ্রহণ করলেই দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে না বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তাদের মতে, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুযোগ বন্ধ করতে না পারলে সম্পদ বিবরণী গ্রহণের কার্যকারিতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর এ বিষয়ে নানা মতামত সামনে এসেছে। এ প্রসঙ্গে ডিপ্লোমা ইন ল্যান্ড সার্ভে, ঢাকার শিক্ষার্থী এস এম সাকিব বলেন, “শুধু সম্পদ বিবরণী গ্রহণ করলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে না। সর্বপ্রথম এমন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অবৈধ উপায়ে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ না পায়।”

তিনি আরও বলেন, ভূমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কাছে একটি সংবেদনশীল খাত হিসেবে পরিচিত। জমি রেজিস্ট্রি, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি কর নির্ধারণসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি ও ঘুষের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। ফলে কেবল সম্পদের হিসাব চাওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি খাতে দুর্নীতির অন্যতম কারণ হলো প্রশাসনিক জটিলতা, সেবাপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অসাধু চক্রের প্রভাবে একজনের সম্পত্তি অন্যজনের নামে রেজিস্ট্রি বা নামজারির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে আসে। এসব অনিয়ম বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় রেকর্ড ব্যবস্থাপনা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের আর্থিক অবস্থার একটি চিত্র পাওয়া সম্ভব হলেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পথ খোলা থাকলে দুর্নীতির মূল সমস্যা থেকে যাবে। তাই সম্পদের উৎস যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ তদন্তের দ্রুত ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া ভূমি সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ, ফাইলের অগ্রগতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ এবং নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সেবার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে দুর্নীতির সুযোগও কমে আসবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে টেকসই সাফল্য অর্জন করতে হলে শুধু সম্পদ বিবরণী গ্রহণ নয়, বরং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সকল পথ বন্ধ করতে হবে। কঠোর আইন প্রয়োগ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ভূমি খাতে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ফলে সম্পদ বিবরণী নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটিও অনেকাংশে দূর হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *