সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

৩ বছর চাকরি করে পদত্যাগ করলে গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির টাকা কি পাওয়া যায়?

সরকারি স্বায়ত্তশাসিত, বিধিবদ্ধ সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রায়ই একটি প্রশ্ন দেখা যায়—কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণে মাত্র তিন বছর চাকরি করে পদত্যাগ করেন, তাহলে তিনি কি গ্র্যাচুইটি বা অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাবেন?

সম্প্রতি এ ধরনের একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান ও প্রচলিত নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে অবসর গ্রহণের আগেই স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিলে গ্র্যাচুইটি এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা সাধারণত পাওয়া যায় না।

গ্র্যাচুইটি কী?

গ্র্যাচুইটি হলো দীর্ঘদিন চাকরি শেষে কর্মচারীকে প্রদত্ত একটি অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালায় গ্র্যাচুইটির যোগ্যতার শর্ত নির্ধারিত থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সংখ্যক বছর চাকরি সম্পন্ন করা এবং অবসর গ্রহণকে প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৩ বছর চাকরি করলে কি গ্র্যাচুইটি পাওয়া যাবে?

সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর প্রচলিত নীতিমালায় সাধারণত মাত্র তিন বছর চাকরি শেষে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার সুযোগ থাকে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাচুইটি বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ বা পদত্যাগ করলে গ্র্যাচুইটি প্রাপ্য হয় না; বরং অবসর, মৃত্যু বা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হয়।

ফলে একজন কর্মচারী যদি মাত্র তিন বছর চাকরি করার পর ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেন, তাহলে সাধারণত গ্র্যাচুইটি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

অর্জিত ছুটি কি নগদায়ন করা যায়?

সরকারি চাকরি ও অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুবিধা সাধারণত অবসরকালীন সুবিধার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময় জমাকৃত ছুটির বিপরীতে নির্ধারিত হারে অর্থ প্রদান করা হয়।

তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ক্ষেত্রে অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুযোগ প্রতিষ্ঠানভেদে সীমিত বা অনুপস্থিত হতে পারে। তাই শুধুমাত্র তিন বছর চাকরি করে ব্যক্তিগত কারণে চাকরি ছেড়ে দিলে অধিকাংশ সরকারি সংস্থায় ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাওয়া যায় না।

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিস্থিতি ভিন্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বেসরকারি ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলো নিজস্ব সার্ভিস রুলস, মানবসম্পদ নীতিমালা এবং গ্র্যাচুইটি স্কিম অনুসারে সুবিধা প্রদান করে থাকে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি সমাপ্তির পর গ্র্যাচুইটি বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গ্র্যাচুইটি ফান্ড থাকলে কর্মচারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সুবিধা পেতে পারেন।

এ কারণে কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির কর্মচারী পদত্যাগের পর গ্র্যাচুইটি বা ছুটি নগদায়ন পেয়েছেন শুনলেও, সেই সুবিধা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালার ফল হতে পারে।

কী করবেন কর্মচারীরা?

চাকরি ছাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস, গ্র্যাচুইটি বিধিমালা, ছুটি নীতিমালা এবং মানবসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা ভালোভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কারণ একই দেশের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটি ও ছুটি নগদায়নের নিয়মে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

সারসংক্ষেপ

  • ৩ বছর চাকরি করে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে সাধারণত গ্র্যাচুইটি পাওয়া যায় না।
  • অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুবিধাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
  • অবসর গ্রহণের সময় এসব সুবিধা প্রাপ্য হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে।
  • পাবলিক লিমিটেড ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ভিন্ন সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *