চিকিৎসা । আর্থিক সহায়তা

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ‘এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ’ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা: কারা পাবেন সুবিধা, কী আছে সেবায়?

রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের (SKH) ‘Executive Health Check-up’ প্যাকেজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি হাসপাতালের একটি প্যাকেজ তালিকার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, এই সুবিধা শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নাকি সাধারণ মানুষও তা গ্রহণ করতে পারবেন।

ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালটি দুটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্যাকেজ চালু করেছে। এর মধ্যে ‘Basic Package’-এর মূল্য ৬৩০ টাকা এবং ‘Comprehensive Package’-এর মূল্য ১,২৩৩ টাকা। প্যাকেজ দুটিতে রক্ত, প্রস্রাব, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ ও এক্স-রে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কারা এই সুবিধা পাবেন?

সামাজিক মাধ্যমে অনেকের ধারণা ছিল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের এসব প্যাকেজ শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত। তবে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিশেষ সুবিধা পেলেও সাধারণ নাগরিকরাও নির্ধারিত ফি দিয়ে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেবা গ্রহণ করতে পারেন। সরকারি কর্মচারীদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি ও ওষুধ বিনামূল্যে বা বিশেষ সুবিধার আওতায় দেওয়া হয়।

রোগীদের অভিযোগ ও প্রশ্ন

সামাজিক মাধ্যমে এ প্যাকেজ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের নিজস্ব চিকিৎসক পরীক্ষার পরামর্শ দিলে সরকারি কর্মচারীরা বিনা খরচে সুবিধা পান, কিন্তু বাইরের চিকিৎসকের পরামর্শে একই পরীক্ষা করাতে গেলে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না। এ নিয়ে সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

আবার অনেকে মনে করছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্যাকেজ চালুর ফলে সাধারণ রোগীদের সেবার চেয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ভোগান্তি

প্যাকেজ সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সেবাপ্রার্থী। একজন আবেদনকারী জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চান এবং হাসপাতালের কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু অনলাইনে কীভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় তা জানেন না। এ ধরনের প্রশ্ন থেকে বোঝা যায়, ডিজিটাল সেবা চালু থাকলেও ব্যবহারকারীদের জন্য পর্যাপ্ত নির্দেশনা এখনও প্রয়োজন।

কত দিনে রিপোর্ট পাওয়া যায়?

সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্যাকেজের আওতায় সম্পন্ন হওয়া অধিকাংশ পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত দুই কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। তবে পরীক্ষার ধরনভেদে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংস্কৃতির প্রসার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তাই স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্যাকেজ চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও সেবার মান, সহজলভ্যতা এবং সুবিধাভোগীদের বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ প্যাকেজ সংক্রান্ত পৃথক নোটিশ প্রকাশ করেছে, যা থেকে বোঝা যায় সেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু রয়েছে এবং এ বিষয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *