এনআইডি ব্লক সতর্কতা ২০২৬ । পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা ও ছবি শেয়ার না করার আহ্বান নির্বাচন কমিশনের
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যালট পেপারের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আজ বুধবার (৩ জানুয়ারি) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিচের মূল বার্তাটি স্ক্রল আকারে প্রচারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে:
মূল বার্তা: “পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। ভোট দেওয়ার তথ্য বা ব্যালটের ছবি/ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এজন্য আপনার NID কার্ড ব্লক এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে— বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।”
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের আইনি দায়িত্ব। যদি কেউ ভোট দেওয়ার ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটে বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, তবে তা নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্লক করাসহ তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এনআইডি ব্লক বলতে কি বুঝায়?
সাধারণত ‘এনআইডি (NID) ব্লক’ বলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার নিবন্ধন ডাটাবেজে কোনো ব্যক্তির তথ্য সাময়িকভাবে স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়াকে বোঝায়। আপনার দেওয়া প্রেস রিলিজের প্রেক্ষাপটে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:
১. সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে বাধা
এনআইডি ব্লক হলে ওই কার্ডটি দিয়ে কোনো সরকারি বা বেসরকারি সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। যেহেতু বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম কার্ড কেনা, পাসপোর্ট করা, জমি রেজিস্ট্রেশন এমনকি ভাতার আবেদন করতেও এনআইডি লাগে, তাই কার্ড ব্লক থাকলে আপনি এই সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হবেন।
২. পরিচয় যাচাইকরণে ব্যর্থতা (Authentication Fail)
যেকোনো অনলাইন পোর্টালে বা অফিসে যখন আপনার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করা হবে, তখন সিস্টেম সেটি ‘Invalid’ বা ‘Blocked’ দেখাবে। অর্থাৎ, নাগরিক হিসেবে আপনার ডিজিটাল পরিচয় সাময়িকভাবে কাজ করবে না।
৩. আইনি ব্যবস্থার প্রাথমিক ধাপ
নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে এনআইডি ব্লক করার অর্থ হলো—সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এটি একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এর ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই কার্ডের বিপরীতে কোনো লেনদেন বা আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না।
৪. ভোটাধিকার বা ডাটাবেজ থেকে স্থগিতকরণ
বিশেষ ক্ষেত্রে, নির্বাচন কমিশন যদি কোনো ভোটারকে ‘ব্লক’ করে, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে বা পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। ডাটাবেজে তার তথ্যটি ‘সন্দেহজনক’ বা ‘বিচারাধীন’ (Under Investigation) তালিকায় চলে যায়।
সতর্কতা: > আপনার আপলোড করা নোটিশটি অনুযায়ী, ব্যালট পেপারের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধে এনআইডি ব্লক হয়ে গেলে তা পুনরায় সচল করা বেশ দীর্ঘ এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হতে পারে।



