৬টি মরণব্যাধিতে সরকারি অনুদান ৫০ হাজার টাকা: জানুন আবেদনের বিস্তারিত নিয়ম
দেশের দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসের মতো ব্যয়বহুল ৬টি রোগের চিকিৎসায় সরকার এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। মূলত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে যে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
যে ৬টি রোগের জন্য অনুদান পাওয়া যাবে:
১. ক্যান্সার
২. কিডনি রোগ (ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন বা প্রতিস্থাপন করেছেন এমন)
৩. লিভার সিরোসিস
৪. স্ট্রোকে প্যারালাইজড
৫. জন্মগত হৃদরোগ
৬. থ্যালাসেমিয়া
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী:
এই অনুদান পেতে হলে রোগীকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন যারা অতি দরিদ্র, ভূমিহীন অথবা যাদের বার্ষিক আয় অত্যন্ত কম।
সংশ্লিষ্ট রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র ও প্রয়োজনীয় টেস্ট রিপোর্ট থাকতে হবে।
একজন রোগী এক অর্থ বছরে কেবল একবারই এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
আবেদনপত্রের সাথে নিম্নলিখিত নথিগুলো সংযুক্ত করতে হবে:
নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র (উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে পাওয়া যাবে)।
সংশ্লিষ্ট রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সীলযুক্ত প্রত্যয়নপত্র।
রোগের স্বপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট (যেমন: ক্যান্সারের ক্ষেত্রে হিস্টোপ্যাথলজি, থ্যালাসেমিয়ার জন্য হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস ইত্যাদি)।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত ফটোকপি।
প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
আবেদন প্রক্রিয়া:
আগ্রহী প্রার্থীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.dss.gov.bd) গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে বা চেকের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতি বছর হাজার হাজার অসহায় মানুষ এই অনুদানের মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরে আসছেন। আপনার আশেপাশে এমন কোনো রোগী থাকলে তাকে দ্রুত নিকটস্থ সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দিন।

অফলাইন ফরম ডাউনলোড । অনলাইন আবেদন লিংক
আরও বিস্তারিত জানুন এখানে
সমাজসেবা অধিদফতরের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং অসহায় রোগীদের জন্য একটি আশার আলো। আপনার প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে, এই কর্মসূচির মূল বিষয়গুলো আমি নিচে সহজভাবে সাজিয়ে দিচ্ছি যাতে যে কেউ দ্রুত বুঝতে পারেন:
আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির সারসংক্ষেপ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার হ্রাসে এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সহায়তার পরিমাণ: এককালীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা।
প্রদান পদ্ধতি: ২০২৪-২৫ অর্থ বছর থেকে সরাসরি ইএফটি (EFT) বা অনলাইন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে।
আওতাভুক্ত রোগসমূহ (৬টি):
১. ক্যান্সার (Cancer)
২. কিডনি রোগ (Kidney Disease)
৩. লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis)
৪. স্ট্রোকে প্যারালাইজড (Stroke Paralyzed)
৫. জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease)
৬. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia)
আবেদন করার যোগ্যতা ও শর্তাবলী
আবেদনকারীকে অবশ্যই নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
নাগরিকত্ব: অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
ডাক্তারি সনদ: সংশ্লিষ্ট রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র, ব্যবস্থাপত্র এবং টেস্ট রিপোর্ট (যেমন: ক্যান্সারের জন্য বায়োপসি রিপোর্ট) থাকতে হবে।
আর্থ-সামাজিক অবস্থা: ভূমিহীন (বসতবাড়ি বাদে জমির পরিমাণ ০.৫০ একরের কম), নিঃস্ব, শিশু বা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া
সহায়তা পেতে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:
| ধাপ | কার্যক্রম |
| ১. আবেদন | সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বা উপপরিচালকের নিকট আবেদন জমা দিতে হয়। |
| ২. প্রাথমিক তালিকা | উপপরিচালক প্রাপ্ত আবেদন যাচাই করে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেন। |
| ৩. জেলা কমিটি | জেলা বাস্তবায়ন কমিটি চূড়ান্তভাবে যোগ্য রোগীদের তালিকা অনুমোদন করে। |
| ৪. অর্থ প্রদান | নির্বাচিত ব্যক্তিকে ইএফটির মাধ্যমে অনুদানের টাকা প্রদান করা হয়। |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে যারা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন বা যাদের কিডনি বিকল (Acute/Chronic Renal Failure), তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে যেখানে ডায়ালাইসিস সুবিধা নেই, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রই যথেষ্ট।



