ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য ১৯,২০০ টাকার সরকারি ভাতা: আবেদন শুরু জুলাই মাসে

দেশের দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং সুস্থ শিশু জন্মদান উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা কার্যক্রম জোরদার করছে সরকার। ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ বা ‘গর্ভবতী ভাতা’ হিসেবে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় একজন যোগ্য মা ২৪ মাসে মোট ১৯,২০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। ২০২৬ সালের জন্য নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

ভাতার পরিমাণ ও প্রদানের সময়সূচী

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে এই ভাতা হিসাব করা হয়। তবে এই টাকা প্রতি মাসে না দিয়ে ৬ মাস অন্তর অন্তর মোট ৪টি কিস্তিতে প্রদান করা হয়।

  • প্রতি কিস্তির পরিমাণ: ৪,৮০০ টাকা (৬ মাস × ৮০০ টাকা)।

  • মোট ভাতার মেয়াদ: ২৪ মাস বা ২ বছর।

  • মোট প্রাপ্ত অর্থ: ১৯,২০০ টাকা।

আবেদনের যোগ্যতা (২০২৬ শিক্ষাবর্ষ/চক্র)

২০২৬ সালের জুলাই মাসে যারা আবেদন করতে চান, তাদের জন্য সরকার কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক:

১. গর্ভধারণের পর্যায়: আবেদনকারীকে অবশ্যই ১ম অথবা ২য় বার গর্ভবতী হতে হবে।

২. বয়স: মায়ের বয়স সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে।

৩. গর্ভের সময়কাল: আবেদন করার সময় (জুলাই ২০২৬) গর্ভের বয়স ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে হতে হবে।

অতিরিক্ত শর্তাবলী (কমপক্ষে ২টি পূরণ করতে হবে):

  • পরিবারের মাসিক আয় ২,০০০ টাকার কম হতে হবে।

  • নিজস্ব কোনো জমি বা পুকুর থাকা চলবে না।

  • প্রতিবন্ধী মায়েরা এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন।

উল্লেখ্য, অতীতে কোনো মা এই সুবিধা গ্রহণ করে থাকলে তিনি দ্বিতীয়বার আবেদনের যোগ্য হবেন না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (সন্তান মারা গেলে) শর্তসাপেক্ষে তৃতীয় গর্ভের সময় আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিচের নথিগুলো সংগ্রহে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত কপি।

  • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব সনদ।

  • ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

  • ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিস বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র।

  • আবেদনকারীর নিজের নামে ডিজিটাল ব্যাংক একাউন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ ইত্যাদি) নম্বর।

আবেদন পদ্ধতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

আগ্রহী মায়েরা দুইভাবে আবেদন করতে পারবেন: ১. সরাসরি: ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। ২. অনলাইন: সরকারি নির্ধারিত পোর্টাল 103.48.16.6:8080/LM-MIS/applicant/onlineRegistration-এ গিয়ে আবেদন করা যাবে (বর্তমানে আবেদন লিংকটি সাময়িকভাবে বন্ধ আছে, যা জুলাই মাসে পুনরায় সচল হবে)।

আবেদন জমা হওয়ার পর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তথ্যগুলো যাচাই করবেন। চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের পর ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল একাউন্টে পৌঁছে যাবে।

কর্তৃপক্ষের বার্তা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভাতার মূল উদ্দেশ্য কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের সঠিক পুষ্টি ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা। যোগ্য নারীদের সঠিক সময়ে আবেদন করে এই সরকারি সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ নির্বাচিত মায়েরা ভাতার প্রথম কিস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *