জ্বালানি সাশ্রয়ে ভার্চুয়াল সভার নির্দেশনা, মাঠ প্রশাসনকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্র
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি কার্যক্রম আরও ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নির্দেশনায় সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত সরকারের চলমান কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে।
যেসব ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল সভা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
পরিপত্র অনুযায়ী—
১. মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কার্যক্রমে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ
মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
২. জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচি
বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা যথাসম্ভব ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করবেন। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত কমবে এবং সরকারি যানবাহন ও জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
৩. প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন সভা আয়োজন
সংযুক্ত দপ্তর ও অধিদপ্তরগুলো প্রয়োজনে সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভা, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের নির্দেশনা বহাল থাকছে না
পরিপত্রে আরও জানানো হয়েছে, একই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা পূর্ববর্তী একটি পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সভা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য নিয়মিত জেলা, বিভাগ ও রাজধানীমুখী যাতায়াতের ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় হয়। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়লে শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, সময় ও প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনাও সহজ হবে।
সরকারের লক্ষ্য
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই মাঠ প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কার্যক্রমে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও আরও শক্তিশালী হবে।


