বিপুল জনসমর্থনে পাস হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’; নতুন বাংলাদেশের অভিমুখে যাত্রা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আয়োজিত ঐতিহাসিক সংবিধান সংস্কার গণভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে সংস্কারের পক্ষে থাকা ‘হ্যাঁ’ ভোট। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নতুন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে নিজেদের রায় দিয়েছেন। গতকাল রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় থেকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
গণভোটের ফলাফল এক নজরে
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬ হাজার ৬৬০টি (মোট বৈধ ভোটের ৬৮.৫৯ শতাংশ)। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬০.৮৪ শতাংশ।
কী থাকছে এই ‘জুলাই জাতীয় সনদে’?
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আসছে। উল্লেখযোগ্য সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: ভবিষ্যতে যেকোনো সাধারণ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্থায়ী রূপ।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন।
ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই টানা দুই মেয়াদের (সর্বোচ্চ ১০ বছর) বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হবে।
মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতারা এই ফলাফলকে ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য সমমনা দলগুলো এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের চিরস্থায়ী অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তি টেনে নবনির্বাচিত সরকার এই জনরায় বাস্তবায়নে অবিলম্বে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করবে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, “এই ফলাফল নতুন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে একটি অলঙ্ঘনীয় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট হিসেবে কাজ করবে।”
দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।




