শাস্তি । সাময়িক বরখাস্ত । অপসারণ

সরকারি কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কঠোর অবস্থান: সরকারি ডাক্তার ও সহযোগী বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর রাখতে সরকারি কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নোয়াখালীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এ বিষয়ে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যেসব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্মরত চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন ও কর্মক্ষমভাবে নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারি কর্মরত চিকিৎসকরা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) প্র্যাকটিসে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।

সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি চিকিৎসক সরকারি কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্র্যাকটিসে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অর্থাৎ, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত চেম্বার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকও দায় এড়াতে পারবে না

শুধু সরকারি চিকিৎসকদের নয়, এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক সরকারি কর্মরত চিকিৎসকদের সরকারি কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস পরিচালনার সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর

সিভিল সার্জনের কার্যালয় জানিয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে জেলার সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), পরিচালক (প্রশাসন/পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসনের বার্তা

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট ও সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

নতুন এ নির্দেশনার মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত চিকিৎসা কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের অনিয়মে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *